সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ফের পাথর খাদানে দুর্ঘটনা। মঙ্গলবার রামপুরহাটের পাথর শিল্পাঞ্চল বারোমেশিয়া গ্রামে অবৈধ পাথর খাদানের ধস নামায় নীচে পড়ে মৃত্যু হল এক শ্রমিকের। পুলিস জানিয়েছে, মৃত শ্রমিকের নাম কাফজুল শেখ(৩৪)। বাড়ি ঝাড়খণ্ডের পাকুর থানার সীতারামপুর গ্রামে। এই নিয়ে ১১ মাসের ব্যবধানে এই ধরনের ঘটনায় ১২ শ্রমিকের মৃত্যু হল। জখম হয়েছেন সাতজনেরও বেশি। যাঁদের কেউ কেউ পঙ্গু হয়ে বাড়িতে রয়েছেন। একের পর এক দুর্ঘটনায় পাথর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, প্রশাসনের কোনও নজরদারি নেই। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন খাদানে কাজ করছিলেন ওই শ্রমিক। দুপুরের দিকে আচমকা ধস নামায় তিনি নীচে পড়ে যান। তাঁকে উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি নলহাটির নশিপুরে খাদানে কাজ করার সময় নীচে পড়ে মৃত্যু হয় দুই শ্রমিকের। একইভাবে ৭ মার্চ নলহাটির বাহাদুরপুরে খাদানে মৃত্যু হয় দুই শ্রমিকের। তার ঠিক ১০ দিনের মাথায় একইভাবে মৃত্যু হয় আরও এক শ্রমিকের। ৮ এপ্রিল এই শিল্পাঞ্চলে আরও এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। গত ১৩ সেপ্টেম্বর বাহাদুরপুরে খাদানের ধসে চাপা পড়ে মৃত্যু হয় দুই শ্রমিকের। ১ অক্টোবর নলহাটি শিল্পাঞ্চলে খাদান থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তিন শ্রমিকের। বারবার দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসন থেকে কোনও বযবস্থা নেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ন্যূনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়াই শ্রমিকদের কাজ করতে হয়। যার জেরে দুঘর্টনায় শ্রমিক মৃত্যুর মিছিল লেগেই রয়েছে। আর মৃতের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে পার পেয়ে যাচ্ছেন অবৈধ পাথর ব্যবসায়ীরা। প্রশাসনেরও এই নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই। আর শ্রমদপ্তরও হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে বলে অভিযোগ। যদিও জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, খুব শীঘ্রই শ্রমিকদের সুরক্ষা ব্যবস্থার জন্য পাথর শিল্পাঞ্চল ঘুরে দেখা হবে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে বীরভূম জেলার ২১৭টি খাদানের মধ্যে দু’টি ২১১টি পরিবেশ আদালত অবৈধ ঘোষণা করে বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে।



