সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাথর সরবরাহের নামে সক্রিয় হয়েছে একটি প্রতারণা চক্র। ওই চক্রের মাথারা দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ছোট পাথর ব্যবসায়ীদের টার্গেট করছে। কম দামে পাথর দেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের শিখণ্ডি করে চক্রটি চালানো হচ্ছে। মাঝে কিছু এজেন্টের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাচ্ছে। বিক্রেতারা ফেঁসে যাচ্ছেন। বীরভূমের এক পাথর ব্যবসায়ী এভাবেই ৯৪হাজার টাকা খুইয়েছেন। তিনি সোনামুখী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস তদন্তে নেমে ঘটনায় জড়িত এক এজেন্টকে বুধবার বাঁকুড়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতের নাম অনিমেষ রায়। এদিনই বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতকে পাঁচদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতকে জেরা করে চক্রের আসল মাথার খোঁজ চলছে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এই চক্রের মাথা নিজেকে বিভিন্ন সামগ্রী সাপ্লাইয়ের ব্যবসায়ী বলে পরিচয় দিয়ে বাঁকুড়ার বাসিন্দা অনিমেষের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করে। সে জানায়, বাঁকুড়ায় এরিয়া ম্যানেজার প্রয়োজন। তাঁকে মোটা মাইনের চাকরির অফার দেয়। অনিমেষ কাজ করতে রাজি হয়ে যান। এরপর ওই প্রতারক বাঁকুড়ার বিভিন্ন এলাকার পাথর ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে। কম দামে বীরভূমের পাথর দেওয়ার কথা বলে। সোনামুখীর এক ব্যবসায়ী দু’লরি পাথরের অর্ডার দেন। এরপরেই প্রতারক বীরভূমের এক ব্যবসায়ীকে পাথরের অর্ডার দেয়। তাঁকে লরি চালকের হাতে টাকা দিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়। পাথর সোনামুখীর ওই ব্যবসায়ীর গোডাউনের কাছে নামানোর কথা বলে। সেইমতো বীরভূমের ব্যবসায়ী পাথর যথারীতি পাঠিয়ে দেন। ইতিমধ্যে ওই প্রতারক তার ম্যানেজার অনিমেষকে সোনামুখীতে পাঠিয়ে দেয়। লরি পৌঁছনোর মুহূর্তেই অনিমেষ ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৯৪হাজার নিয়ে চলে যায়। ব্যবসায়ীও লরিতে পাথর এসেছে দেখেই সরল বিশ্বাসে টাকা দিয়ে দেন। এরপরেই অনিমেষ ওই টাকা কলকাতায় দক্ষিণেশ্বরে প্রতারকের হাতে তুলে দেয়। লরির চালক পাথর নামানোর পর টাকা চাইলে সোনামুখীর ব্যবসায়ী তাঁকে জানান, তাঁদের ম্যানেজার এসে টাকা নিয়ে চলে গিয়েছে।



