সংবাদদাতা, কাটোয়া: স্কুল পরিণত হয়েছে আস্ত ভোজবাড়িতে। প্রাথমিক স্কুলের উঠোনে চলছে পাড়ার দাদুর শ্রাদ্ধের ভোজ। একদিকে চলছে জমিয়ে রান্না, আর অন্যদিকে ক্লাস। শ্রেণিকক্ষে বড় বড় গামলা ঢাকা দিয়ে রাখা হয়েছে খাবার দাবার। স্কুলের উঠোন ঝাঁট দিয়ে পরিষ্কার করছে পড়ুয়ারা। স্কুলজুড়ে ছোট ছোট পড়ুয়ারা ছোটাছুটি করছে বিপজ্জনক ভাবে। সেখানেই চলছে গ্যাস জ্বালিয়ে রান্না। ক্লাস চলাকালীনই স্কুলকে ভোজবাড়ি হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে বিতর্ক ছড়িয়েছে।
Advertisement
কাটোয়ার গাঁফুলিয়া পশ্চিমপাড়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন ঘটনায় হতবাক অভিভাবকরা। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিগত উদ্দ্যেশে কেন ব্যবহার করতে দেওয়া হল। যেখানে তাঁদের ছেলেমেয়েদের শিক্ষালাভ করতে পাঠিয়েছেন, সেখানে তাদের দিয়েই ভোজের জায়গা ঝাঁট দেওয়ানো হচ্ছে! এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দাঁইহাট চক্রের স্কুল পরিদর্শক পিনাকি ঘোষ বলেন, এটা কোনওভাবেও করা যায় না। আমি তদন্ত করে দেখব। কাটোয়া মহকুমাজুড়ে প্রাথমিক স্কুলগুলি পড়ুয়ার অভাবে ধুঁকছে। বেশির ভাগ স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা পঞ্চাশের নীচে। কোথাও আবার চারজন অথবা দশ পড়ুয়া নিয়ে স্কুল চলছে। পড়ুয়া জোগাড় করতে শিক্ষকদের বাড়ি বাড়ি ঘুরতে হচ্ছে। সেখানে কাটোয়ার গাঁফুলিয়া গ্রামের পশ্চিমপাড়া অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ১২৭ জন পড়ুয়া রয়েছে। সাতজন শিক্ষক রয়েছেন। সেখানে এরকম কারবার অভিভাবকদের ভাবিয়ে তুলেছে। শ্রাদ্ধের ভোজের জন্য স্কুলকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। তাও আবার শিক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই নাকি এই রেওয়াজ চলে আসছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের পাশেই কড়ি দাসের (৮৫) বাড়ি। তিনি কয়েকদিন আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। তাঁর ছেলেরা স্কুল বাড়িতেই শ্রাদ্ধের ভোজের আয়োজন করেছে। ছ’ শ নিমন্ত্রিতের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অথচ স্কুলে ক্লাসও চলছে। ওই স্কুলেই আবার ৪২ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার রয়েছে। সেখানেও প্রতিদিন ৭০ জনের রান্না হয়। অভিযোগ, এদিন সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পঠনপাঠন বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু খিচুড়ি আর ডিমসেদ্ধ দিয়ে ভাগিয়ে দেওয়া হয়েছে খুদে পড়ুয়াদের। ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী নমিতা মণ্ডল বলেন, স্কুলে শ্রাদ্ধ থাকায় আমরা তাড়াতাড়ি খাবার দিয়ে দিয়েছি। অন্যদিকে মৃতের ছেলে সনৎ দাস বলছেন, আমরা স্কুলের শিক্ষকদের অনুমতি নিয়েই বাবার কাজ করছি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত মণ্ডল বলেন, আমি স্থানীয় সদস্যদের জানিয়েই অনুমতি দিয়েছিলাম। এটা এখানে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। এটা করা যায় না। ভবিষ্যতেও আর এরকম করব না। আমি ওদের সরিয়ে নিতে বলছি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বলা সত্ত্বেও রান্না চলছেই। শুধু ত্রিপল খুলে নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের একাংশ বলছেন, ছেলেমেয়েদের এই কারণেই সরকারি স্কুলে পাঠায় না লোকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্কুলের পাশেই কড়ি দাসের (৮৫) বাড়ি। তিনি কয়েকদিন আগে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। তাঁর ছেলেরা স্কুল বাড়িতেই শ্রাদ্ধের ভোজের আয়োজন করেছে। ছ’ শ নিমন্ত্রিতের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। অথচ স্কুলে ক্লাসও চলছে। ওই স্কুলেই আবার ৪২ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি সেন্টার রয়েছে। সেখানেও প্রতিদিন ৭০ জনের রান্না হয়। অভিযোগ, এদিন সেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পঠনপাঠন বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু খিচুড়ি আর ডিমসেদ্ধ দিয়ে ভাগিয়ে দেওয়া হয়েছে খুদে পড়ুয়াদের। ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মী নমিতা মণ্ডল বলেন, স্কুলে শ্রাদ্ধ থাকায় আমরা তাড়াতাড়ি খাবার দিয়ে দিয়েছি। অন্যদিকে মৃতের ছেলে সনৎ দাস বলছেন, আমরা স্কুলের শিক্ষকদের অনুমতি নিয়েই বাবার কাজ করছি।
স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত মণ্ডল বলেন, আমি স্থানীয় সদস্যদের জানিয়েই অনুমতি দিয়েছিলাম। এটা এখানে দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। এটা করা যায় না। ভবিষ্যতেও আর এরকম করব না। আমি ওদের সরিয়ে নিতে বলছি। কিন্তু প্রধান শিক্ষক বলা সত্ত্বেও রান্না চলছেই। শুধু ত্রিপল খুলে নেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের একাংশ বলছেন, ছেলেমেয়েদের এই কারণেই সরকারি স্কুলে পাঠায় না লোকে।



