সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: রাত হলেই শিলিগুড়িতে পথ কুকুরের দৌরাত্ম্য। দিনে দুপুরেও রেহাই নেই। দিন দিন শহরে পথ কুকুরের আতঙ্ক বেড়েই চলেছে। বাধ্য হয়ে অনেকে লাঠি হাতেও বেরোচ্ছেন। তা সত্ত্বেও রাস্তায় আক্রান্ত হচ্ছেন বহু মানুষ। বাড়ছে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক ইঞ্জেকশনের চাহিদা। সেই সংখ্যাটা যথেষ্ট উদ্বেগজনক। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতাল ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জলাতঙ্ক রোগ প্রতিষেধক ইঞ্জেকশনের চাহিদার পরিসংখ্যান থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরাও। দুই হাসপাতাল মিলিয়ে মাসে প্রায় ২০০ জন জলাতঙ্ক প্রতিষেধক ইঞ্জেকশন নিচ্ছেন। যা শহরে পথ কুকুরের দৌরাত্ম্যর প্রমাণ।
এই ব্যাপারে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সুপার ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, তিন মাস ধরে প্রতি মাসে গড়ে ৯০ জন জলাতঙ্ক প্রতিষেধক ইঞ্জেকশন নিচ্ছেন। এরা সকলেই পথ কুকুরের দ্বারা আক্রান্ত। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে মাসে জলাতঙ্ক প্রতিষেধক ইঞ্জেকশনের সংখ্যা শতাধিক। শিলিগুড়িতে পথ কুকুর নিয়ন্ত্রণে বা ভ্যাকসিনেশনের উদ্যোগ নেই। যা নিয়ে নাগরিকরা চিন্তিত। ডাঃ সঞ্জয় মল্লিক বলেন, পথ কুকুর নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারিভাবে নির্দিষ্ট পরিকাঠামো নেই। উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চত্বর সহ সর্বত্র পথ কুকুর বেড়েছে।এদের ভ্যাকসিন দেওয়া বা নির্বীজকরণে জটিলতা রয়েছে। হাসপাতাল চত্বরে কুকুরদের ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যাপারে রাজ্য প্রাণিসম্পদ দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তাদের বক্তব্য, কুকুর ধরা তাদের কাজ নয়। কুকুর ধরে দিলে তারা ভ্যাকসিন দেবেন। কিন্তু কুকুর ধরার কাজ কাদের এ ব্যাপারে খোঁজখবর করতে গিয়ে দেখা যায়, কিছু এনজিও শহরে এই কাজ করছে। কুকুর প্রতি তাদের হাজার টাকা করে দিতে হয়। এই খরচ ও জটিলতার কারণে পথ কুকুরদের ভ্যাকসিন বা নির্বীজকরণ কর্মসূচি সেভাবে হচ্ছে না। পথ কুকুরের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সুপার মনে করেন, সরকারি অর্থের অপচয় বন্ধ করতে পথ কুকুরের জন্মনিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে স্থায়ী উদ্যোগ থাকাটা জরুরি। পথ কুকুরের কামড়ে জলাতঙ্কের প্রতিষেধক ইঞ্জেকশনের চাহিদা বাড়ছে। সরকারি ক্ষেত্রে বিনামূল্যে সেই ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়। হিসেব করলে দেখা যাবে, এই খাতে সরকারের বিপুল টাকা খরচ হচ্ছে। আজও শিলিগুড়ি পুরসভার নিজস্ব ডগসেল তৈরি হয়নি। কিছুদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে কুকুর ধরে নিবীর্জকরণ কর্মসূচি হয়েছিল। এনজিওর মাধ্যমে এই কাজ করেছিল পুরসভা। কিন্তু সারা বছরের পথ কুকুর ধরা ও নির্বীজকরণের জন্য শিলিগুড়ি পুরসভার নিজস্ব দল নেই। শহরের এই সমস্যা নিয়ে মেয়র গৌতম দেব বলেন, এর আগে এনজিওর মাধ্যমে আমরা পথ কুকুরের নির্বীজকরণ কর্মসূচি চালিয়েছি। তাতে যথেষ্ট খরচ হয়। আমরা এবার কুকুরের নিবীর্জকরণের জন্য ইস্টার্ন বাইপাসে নিজস্ব পশু চিকিৎসা কেন্দ্র তৈরি করছি। চার পাঁচ মাসের মধ্যেই এই চিকিৎসা কেন্দ্র চালু হয়ে যাবে। তবে তার আগে এনজিওর মাধ্যমে পথ পুকুরে নির্বীজকরণ অভিযান শুরু হবে।