নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বেসরকারি বাস ও বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে মঙ্গলবার বিকেলে মৃত্যু হল বাবা ও ছেলের। পুলিস জানিয়েছে, মৃতরা হলেন মাজারুল ইসলাম মিরধা (৪৫) ও জুনেদ সারিম (১০)। ওই ঘটনাতেই আরও এক কিশোর গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। তাঁর নাম শেখ রমজান। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে তাকে বর্ধমানে রেফার করা হয়। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে তাঁরা সকলেই বর্ধমানের কেষ্টপুরের বাসিন্দা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিউড়ির পুরন্দরপুর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। এদিকে ঘটনার পরই সিউড়ি পুলিস ঘাতক বাসটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে। বাস চালক পলাতক। জানা গিয়েছে, বেসরকারি ঘাতক বাসটি বোলপুরের দিক থেকে আসছিল। অন্যদিকে মাজহারুল ইসলাম মিরধা সহ আরও দু’জনে বাইকে চেপে বর্ধমানের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। আচমকাই ওই বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে বাইকে ধাক্কা মারে। মুখোমুখি সংঘর্ষের জেরে ঘটনাস্থলেই মাজহারুল ইসলাম মিরধা ও জুনায়েদের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম কিশোরকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই তাঁর প্রাথমিক চিকিত্সা হয়। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল না হওয়ায় তাঁকে বর্ধমানে রেফার করা হয়েছে। অন্যদিকে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আজ, বুধবার ময়নাতদন্ত হবে। দুর্ঘটনার পরই ঘাতক বাসের চালক ও খালাসি ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। তবে পুলিস ঘাতক ওই বাসটিকে বাজেয়াপ্ত করেছে। ঘাতক বাসটির নম্বরের সূত্র ধরে পুলিস চালকের খোঁজ শুরু করেছে। এদিকে দুর্ঘটনার জেরে দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একদিকে দুর্ঘটনা রুখতে পুলিসের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে পথ দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যুর ঘটনায় পথ নিরাপত্তা ইস্যুতে প্রশ্ন উঠছে। অভিযোগ উঠছে, ওই পথ ধরে বেসরকারি বাসগুলি দ্রুতগতিতে চলাচল করে। অনেকেরই অনুমান, দ্রুতগতির জেরেই দু’জনের মৃত্যু হল। যদিও পুলিস দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে।



