নিজস্ব প্রতিনিধি, পানাগড়: পানাগড় বাজারের পুরনো জিটি রোড থেকে রাইস মিল রাস্তা ধরে এগলেই চোখ ছানাবড়া হওয়ার জোগাড়। রাস্তার দু’পাশের পুকুর বুজিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বিশাল বিশাল অট্টালিকা, গাড়ি কাটিংয়ের মাঠ। এলাকায় কান পাতলেই শোনা যায়, একদা এখানে বড় পুকুর ছিল। তার অস্তিত্বের টের এখনও পান স্থানীয়রা। সেই পুকুর ভরাট করে তৈরি হয়েছে অবৈধ কাবাড়িপট্টি। ক্রমেই সেটি ঘিঞ্জি হয়েছে। ফলে, কখনও কা ঠের দোকান আগুন লাগছে। কখনও গাড়িতে আগুন লেগে ঝলসে যাচ্ছে নাবালকরা। পুরো পানাগড় বাজার এখন জতুগৃহ!
Advertisement
বাম জনানায় সিপিএমের সঙ্গে সদ্ভাব রেখে চলত কাবাড়িপট্টির সুরমারা। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর প্রথমে কিছুটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করে। পরে বিজেপির উত্থানের সঙ্গে সঙ্গেই বামেদের বিশ্বস্ত সঙ্গীরা রামেদের হাত ধরে। শুধু পুকুর ভরাট নয়, চোরাই গাড়ি কাটিং কারবার করে কোটি কোটি টাকা ওড়ে। বিভিন্ন স্তরে সেই মধুভাণ্ডের ভাগ পৌঁছে যেত। সম্প্রতি পুলিসি অভিযান বেড়েছে। একই চেচিস, ইঞ্জিন নম্বরের একাধিক গাড়ি পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে। পুলিসি সক্রিয়তা বাড়তেই পিঠ বাঁচাতে কারবারিদের একাংশ চাইছে শাসক তৃণমূল কংগ্রেসের শেল্টার। কিন্তু, এলাকাবাসীদের দাবি, অবৈধ কারবার, পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিক প্রশাসন। না হলে একদিন আস্ত পানাগড় বাজারটাই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যেতে পারে। জানা গিয়েছে, বাম আমলের এক কমরেড এই এলাকার পুকুরগুলিতে মাছ চাষ করতেন। অভিযোগ,তিনিই ষড়যন্ত্র করে প্রভাব খাটিয়ে পুকুরগুলিকে বিক্রি করে দেন। কেউ সেখানে নিজেদের গ্যারেজ বানিয়েছে। কেউ পুকুর ভরিয়ে বাড়ি বানিয়ে নিয়েছে। সেই কমরেডের ছেলে এখন আবার বিজেপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন। পুকুর বুজিয়েই অট্টালিকা নির্মাণ করেছেন আর এক কমরেড। তিনি একটা সময়ে সাধারণ দোকানের কর্মী ছিলেন। মালিক এক অশান্তির জেরে এলাকা ছাড়া হতেই তিনিই ব্যবসার সর্বেসর্বা হয়ে ওঠেন। এক দাপুটে সিপিএম নেতার ছায়াসঙ্গী হয়ে কাবাড়িপট্টির নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। নিজে এখন দুর্গাপুরে চলে গেলেও কারবারের রাশ ধরে রেখেছেন। এই পুকুর ভরাট নিয়ে সরব হয়েছিল পানাগড়ের সাধারণ মানুষ। লিখিত অভিযোগও করা হয়েছিল। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
পানাগড়ের বাসিন্দা প্রকাশ দাস বলেন, ১৮ বিঘা একটি বিশাল দিঘি চোখের সামনে বুজিয়ে দিল। এছাড়াও ওই এলাকায় একাধিক পুকুর ভরাট হয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করায় হুমকি আসে।
সাম্প্রতিকালে পুলিস কাবাড়িপট্টির অবৈধ কারবারে রাশ টানতে তৎপর হয়েছে। তারা চারটি বড় লরি বাজেয়াপ্ত করেছে যাঁদের চেচিস নম্বর বদল করা হয়েছিল। তিনজনকে ধরা হয়েছে। জানা গিয়েছে, অসাধু কারবারিরা একটি চক্র চালাচ্ছে। বৈধ ভাবে যাঁদের গাড়ি কাটা হচ্ছে, তাঁদের গাড়ির নথি নম্বর প্লেট রেখে দিচ্ছে। এবার কোনও চোরাই গাড়ি পেলে সেই গাড়ি রিমডেলিং করে সেখানে বৈধ ভাবে কাটিং হয়ে যাওয়া গাড়ির চেচিস নম্বর পাঞ্চ করে দেওয়া হচ্ছে চোরাই গাড়িতে। এলাকাবাসীর দাবি, মূলত উত্তরপ্রদেশের কারবারিরা এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে। তাদের একটি অংশ এখানে পাকাপাকিভাবে ব্যবসা করে। এই এলাকায় ভোটে বরাবর বিজেপি লিড পায়। এবার সেই এলাকার ব্যবসায়ীরাই তৃণমূলের ছত্রছায়ায় সংগঠন গড়তে চাইছে। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানি ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূল কোনও অন্যায়কে প্রশয় দেবে না। আমরা পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেব।
পানাগড়ের বাসিন্দা প্রকাশ দাস বলেন, ১৮ বিঘা একটি বিশাল দিঘি চোখের সামনে বুজিয়ে দিল। এছাড়াও ওই এলাকায় একাধিক পুকুর ভরাট হয়েছে। আমরা বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করায় হুমকি আসে।
সাম্প্রতিকালে পুলিস কাবাড়িপট্টির অবৈধ কারবারে রাশ টানতে তৎপর হয়েছে। তারা চারটি বড় লরি বাজেয়াপ্ত করেছে যাঁদের চেচিস নম্বর বদল করা হয়েছিল। তিনজনকে ধরা হয়েছে। জানা গিয়েছে, অসাধু কারবারিরা একটি চক্র চালাচ্ছে। বৈধ ভাবে যাঁদের গাড়ি কাটা হচ্ছে, তাঁদের গাড়ির নথি নম্বর প্লেট রেখে দিচ্ছে। এবার কোনও চোরাই গাড়ি পেলে সেই গাড়ি রিমডেলিং করে সেখানে বৈধ ভাবে কাটিং হয়ে যাওয়া গাড়ির চেচিস নম্বর পাঞ্চ করে দেওয়া হচ্ছে চোরাই গাড়িতে। এলাকাবাসীর দাবি, মূলত উত্তরপ্রদেশের কারবারিরা এই কাণ্ড ঘটাচ্ছে। তাদের একটি অংশ এখানে পাকাপাকিভাবে ব্যবসা করে। এই এলাকায় ভোটে বরাবর বিজেপি লিড পায়। এবার সেই এলাকার ব্যবসায়ীরাই তৃণমূলের ছত্রছায়ায় সংগঠন গড়তে চাইছে। কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানি ভট্টাচার্য বলেন, তৃণমূল কোনও অন্যায়কে প্রশয় দেবে না। আমরা পুকুর ভরাটের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেব।



