Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পথ আটকে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, স্কুলে যেতে ভয়, থানার দ্বারস্থ পরিবার

পথ আটকে ছাত্রীর শ্লীলতাহানি, স্কুলে যেতে ভয়, থানার দ্বারস্থ পরিবার
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: স্কুলে যাওয়ার পথে শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছিল নবম শ্রেণির ছাত্রী। ফলে আতঙ্কে প্রায় দেড়মাস ধরে স্কুলে যেতে পারছে না ওই ছাত্রী। এমনকী প্রাইভেট টিউশনে যাওয়াও বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পরিবারে উদ্বেগ নেমে এসেছে। মুর্শিদাবাদের ভরতপুরের এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার পুলিসে অভিযোগ করেছে ছাত্রীর পরিবার। ওই ছাত্রী ভরতপুর আলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। স্থানীয়দের দাবি, স্কুল টাইমে এলাকায় রোমিওদের দাপট এতটাই বেড়ে যায় যে, এমন ঘটনা অনেকের সঙ্গেই ঘটে। তাই বাসিন্দারা পুলিসে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
Advertisement
গ্রামের সল্লাপাড়ায় থাকেন ছাত্রীর পরিবার। ছাত্রীর বাবা কর্মসূত্রে সৌদিতে থাকেন। বাড়িতে মা ও মেয়ে থাকেন। অভিযোগ, প্রায় একবছর ধরে গ্রামের কিছু যুবক ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে। স্কুল আসার পথে বারবার ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগ। নোংরা কথা থেকে বাজে ইঙ্গিত সবকিছুই ছাত্রীকে সহ্য করতে হয়। এমনকী ছাত্রীর হাত ধরেও টানাটানি করা হয় বলে দাবি। যার ফলে প্রায় দু’মাস ধরে স্কুল আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে ছাত্রীর।
গত সাতদিন ধরে সে  টিউশনে যাওয়াও বন্ধ করেছে। তারপরেই শুরু হয়েছে আরও এক অত্যাচার। ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগ, এবার  ওই যুবকরা বাড়ির মোবাইলে কল করে বিরক্ত করতে শুরু করেছে। এমনকী ছাত্রী বাড়ির বাইরে না এলে তাকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। নিরুপায় হয়ে ছাত্রীর মা এদিন সকালে ভরতপুর থানায় পুরো ঘটনা জানিয়ে কয়েকজনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ছাত্রীর মা বলেন, আমার স্বামী কাজের সূত্রে ভিন দেশে থাকেন। মেয়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছি। কয়েকজন যুবক মেয়েকে উত্ত্যক্ত ও শ্লীলতাহানি করার সাথে বাড়ি থেকে বেরনোও বন্ধ করে দিয়েছে। অসহায় অবস্থায় পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছি। ছাত্রীটি জানায়, প্রায় একবছর ধরে এসব চলছে। তবে লজ্জার ভয়ে প্রথমে বিষয়টি কাউকে জানাইনি।
অভিযোগে প্রকাশ, অভিযুক্তদের বাড়ি ভরতপুরের সুরপাড়া ও সল্লাপাড়া এলাকায়। ঘটনার পিছনে এক মহিলার ইন্ধন রয়েছে বলেও অভিযোগ। এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এমন ঘটনা ভরতপুর আলিয়া স্কুল চত্বরে প্রায় ঘটে থাকে। স্কুল খোলার সময়, টিফিন টাইম ও ছুটির সময়ে স্কুল সংলগ্ন এলাকায় রোমিওদের দাপট বেড়ে যায়। তাদের মধ্যে অনেকেই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় থাকে। ছাত্রীদের এইসব অত্যাচার মুখ বুজে সহ্য করতে হয়। স্থানীয়রাও ঝামেলার ভয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পান না।  এক ব্যবসায়ী বলেন, বিষয়টি পুলিসও জানে। কারণ মাঝেমধ্যেই পুলিস ধরপাকড় করে। যদিও কিছুদিন পর ফের একই ঘটনা শুরু হয়ে যায়। এবিষয়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রেজাউল করিম বলেন, ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ও স্কুল বন্ধ হওয়ার খবর আমার কাছে পৌঁছয়নি। ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে কিছু জানানোও হয়নি। তবে এমন সমস্যার কথা আগেও পুলিসকে জানানো হয়েছিল। আবার জানানো হবে। ভরতপুর থানার পুলিস পুরো ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ