Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পৌষমাসের শুরুতে কান্দির দোহালিয়া দক্ষিণাকালী মন্দিরে পুজো দিতে ভিড়

পৌষমাসের শুরুতে কান্দির দোহালিয়া দক্ষিণাকালী মন্দিরে পুজো দিতে ভিড়
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: মঙ্গলবার পৌষের প্রথমদিনেই কান্দির দোহালিয়া দক্ষিণাকালী মন্দিরে ভিড় উপচে পড়ল। লাইন দিয়ে পুজো দিলেন বাসিন্দারা। সকাল থেকেই দোহালিয়া গ্রামের বাসিন্দারা দেবীকে মুলো ও সর্ষের গাছ সমর্পণ করলেন। মন্দির চত্বরে শুরু হয়েছে পৌষমেলা। ভক্তদের নিরাপত্তার জন্য মন্দির কমিটি বিশেষ ব্যবস্থাও নিয়েছে।
Advertisement
বহু প্রাচীন এই মন্দিরের সঙ্গে বাংলার রাজা বল্লাল সেন ও লক্ষ্মণ সেনের নাম জড়িত। ব্যাঘ্ররূপী দক্ষিণাকালীর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাংলার এই দুই রাজার নাম। সারা বছরই মন্দিরে দেবীর পুজো দিতে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা সহ ভিনজেলা এমনকী ভিনরাজ্যের অনেকে। তবে দেবীর আর্বিভাব মাস উপলক্ষ্যে পৌষ মাসজুড়ে ব্যাপক ভিড় হয়ে থাকে। এবছরও পৌষের প্রথমদিনে তার ব্যতিক্রম হল না। এদিন প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। সকাল থেকেই পুজো দেওয়ার লাইন পড়ে যায় মন্দিরের গেটে। স্থানীয় বাসিন্দারা ছাড়াও প্রতিবেশী বীরভূম ও পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেও ভক্তের দল পুজো দিতে এসেছিলেন। বীরভূমের ময়ূরেশ্বরের বাসিন্দা পুলকেন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বহু বছর ধরেই এই মাসের প্রথম মঙ্গলবার আমরা পুজো দিতে আসি। এবারও পরিজনদের নিয়ে মন্দিরে এসেছি। দেবী মনোস্কামনা পূরণ করেছেন। মন্দিরের পুরোহিত শ্যামল চক্রবর্তী বলেন, সারা বছর মন্দিরে ভক্তরা এলেও পৌষমাসে ভিড় উপচে পড়ে। যার ব্যতিক্রম হল না এবছরও। পৌষের প্রথম দিনেই হাজারের বেশি ভক্তের সমাগম হয়েছে।
এদিন স্থানীয় দোহালিয়া গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দা মন্দিরে পুজো দিতে আসেন। তাঁদের হাতে ছিল মুলো ও সর্ষের গাছ। পুরনো প্রথা মেনে এই গ্রামের বাসিন্দারা শীতকালীন জমির ফসল প্রথমে গ্রাম্য দেবতা দক্ষিণাকালীকে উৎসর্গ করেন। তারপর ওই ফসল বাড়িতে নিয়ে যেতে পারেন। মন্দিরের আর এক পুরোহিত পলাশ মুখোপাধ্যায় জানান, হাজার বছরের প্রাচীন প্রথা এটি। শীতকালীন ফসল প্রথমে দেবতাকে উৎসর্গ করার পরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে এখন অনেকের জমি না থাকার কারণে প্রথার কিছুটা রদবদল হয়েছে। এখন বাজার থেকে মুলো ও সর্ষেগাছ কেনার পরে মন্দিরে নিয়ে আসেন অনেকে।
মন্দির চত্বরে সোমবার থেকেই শুরু হয়েছে পৌষমেলা। মেলায় বিভিন্ন স্টল বসতে শুরু করেছে। খেলনা থেকে রেস্তরাঁ, গৃহসামগ্রী থেকে শীতবস্ত্রের দোকান রয়েছে। এক মাস ধরে এই মেলা চলবে বলে মেলা কমিটি সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তার বিষয়ে এবার জোর দিয়েছে কমিটি। মন্দির কমিটির সম্পাদক গৌরব চট্টোপাধ্যায় বলেন, সকলের নিরাপত্তার জন্য গ্রামের শতাধিক পুরুষ ও মহিলাকে নিয়ে স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী তৈরি করেছি। পুলিস ক্যাম্পও থাকছে। বেশকিছু সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। মন্দিরের সামনে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স থাকছে।
সম্পর্কিত সংবাদ