সংবাদদাতা, বোলপুর: প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর জন্যই বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার নানুরে এমনই মন্তব্য করলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি কাজল শেখ। পাশাপাশি তিনি বলেন, এবছর বিশ্বভারতী ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট যৌথ উদ্যোগে পৌষমেলা আয়োজন করতে চলেছে বলে জানতে পেরেছি। এটা জেলাবাসী, হস্তশিল্পী তথা ব্যবসায়ীদের কাছে অত্যন্ত খুশির খবর। বিশ্বভারতী জেলা প্রশাসনের কাছে সাহায্যের জন্য আবেদন করলে গতবছরের মতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব। সভাধিপতির এই আশ্বাসে খুশি বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও শান্তিনিকেতন ট্রাস্ট।
Advertisement
শিশু দিবস উপলক্ষ্যে এদিন নানুর ব্লক ও চণ্ডীদাস মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাল্যবিবাহ সমাজের অভিশাপ, পড়ুয়ারা নাটকের মাধ্যমে উপস্থাপন করে। অনুষ্ঠানে কাজল পৌষমেলা নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি বলেন, পৌষমেলা জেলার অন্যতম ঐতিহ্য। স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলাবাসী সারা বছর ধরে মেলার জন্য অপেক্ষা করে। স্থানীয় ছোট ব্যবসায়ী, দোকানদার, হোটেল মালিক, টোটোচালক সকলেই আর্থিকভাবে উপকৃত হন। জেলার অর্থনীতিতে এই মেলার বড় ভূমিকা রয়েছে। অথচ, আগের উপাচার্যের জন্যই পৌষমেলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তিনি মেলা করতে দেননি। তাঁর বিদায়ের পর গতবছর মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ও জেলাশাসকের সহযোগিতায় মাত্র কয়েকদিনেই সফলভাবে পৌষমেলার আয়োজন করেছিলাম। এবারও বিশ্বভারতী সাহায্যের আবেদন করলে নিশ্চয়ই পাশে থাকার চেষ্টা করব। প্রাক্তন উপাচার্যকে কটাক্ষ করে কাজল বলেন, ওঁর নাম মুখেও আনতে চাই না। কারণ নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের মতো ব্যক্তিত্বকে উনি আক্রমণ করেছেন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিকৃষ্ট ভাষায় কুকথা বলতে ছাড়েননি। তাই ওঁকে নিয়ে কোনও আলোচনা করতে চাই না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন ভিবিউফার সভাপতি মানস মাইতি বলেন, উনি ঠিকই বলেছেন। বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিশ্বভারতীর প্রচুর সর্বনাশ করেছেন। পৌষমেলা বন্ধ করা তার মধ্যে অন্যতম। উনি চাইলেই মেলা আয়োজন করতে পারতেন। কিন্তু স্রেফ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই ঐতিহ্য চিরতরে বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, জেলার অন্যতম প্রশাসক হিসেবে কাজলবাবু সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত সাহায্যের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে বিশ্বভারতীর দ্রুত আবেদন করা উচিত। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক আতিগ ঘোষ বলেন, মেলা নিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত বৈঠকে বসবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সংগঠন ভিবিউফার সভাপতি মানস মাইতি বলেন, উনি ঠিকই বলেছেন। বিদ্যুৎ চক্রবর্তী বিশ্বভারতীর প্রচুর সর্বনাশ করেছেন। পৌষমেলা বন্ধ করা তার মধ্যে অন্যতম। উনি চাইলেই মেলা আয়োজন করতে পারতেন। কিন্তু স্রেফ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই ঐতিহ্য চিরতরে বন্ধ করতে চেয়েছিলেন। শান্তিনিকেতন ট্রাস্টের সম্পাদক অনিল কোনার বলেন, জেলার অন্যতম প্রশাসক হিসেবে কাজলবাবু সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিকাঠামোগত সাহায্যের জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে বিশ্বভারতীর দ্রুত আবেদন করা উচিত। বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক আতিগ ঘোষ বলেন, মেলা নিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত বৈঠকে বসবে।



