Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পৌষমেলায় হোটেলের হাহাকার, দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া হাঁকাচ্ছে মালিকরা

পৌষমেলায় হোটেলের হাহাকার, দ্বিগুণ-তিনগুণ ভাড়া হাঁকাচ্ছে মালিকরা
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: পৌষমেলায় দিনগুলিতে হোটেল নিয়ে হাহাকার শুরু হয়েছে। একমাস আগে থেকেই বোলপুরের অধিকাংশ হোটেল বুকিং হয়ে গিয়েছে। যে কয়েকটি হোটেল, লজ ফাঁকা রয়েছে সেগুলিতে চড়া দাম হাঁকছে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। চাহিদার কথা মাথায় রেখে অনেকে দুই থেকে তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে হোটেলের রুম নিচ্ছেন। সুযোগ বুঝে অনেকে দুই বা তিনদিনের প্যাকেজ হিসেবে রুম ভাড়া দিচ্ছেন। এই ঘটনায় ভ্রমণপ্রিয় মানুষজন প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। মূলত, রাঙাবিতান, শান্তবিতান সহ সরকারি গেস্টহাউসগুলি বুক হয়ে যাওয়ার সুযোগ নিচ্ছেন অনেক অসাধু হোটেল ব্যবসায়ী। পর্যটকদের দাবি, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ করা উচিত। যদিও হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের বক্তব্য, চাহিদার জন্য দাম বাড়ানো হয়নি। বরাবর বসন্ত উৎসব ও পৌষমেলায় প্যাকেজ সিস্টেমে ভাড়া দেওয়া হয়। ‌
Advertisement
উল্লেখ্য, রাজ্যের পর্যটন মানচিত্র এই মুহূর্তে শান্তিনিকেতন অন্যতম বড় নাম। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট স্বীকৃতি পাওয়ার পর কবিগুরুর কর্মতীর্থের গুরুত্ব বেড়েছে। বিশ্বভারতীর ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা দেখতে রাজ্যের পাশাপাশি দেশ-বিদেশে থেকে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। ‌মেলা প্রাঙ্গণে আউল-বাউল ফকির সহ লোকসংস্কৃতির অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া ঘুরে দেখার জন্য রয়েছে সোনাঝুরি খোয়াইয়ের হাট ও সতীপীঠ কঙ্কালীতলা। ফলে দুয়ে দুয়ে চার। তাই, ছুটির ক’টা দিন অনেকেই এই সময় শান্তিনিকেতন ঘুরতে পছন্দ করেন। মূলত পৌষ মেলাকে সামনে রেখেই পর্যটকরা হোটেল বুক করেন। এবছর যেন হোটেলের আকাল পড়েছে। অনেকে বাড়িতে পেইং গেস্ট রেখেও উপার্জন করেন। 
বোলপুর শান্তিনিকেতনে দীর্ঘদিন ধরেই রয়েছে রাজ্য সরকারের শান্তবিতান ও রাঙাবিতান গেস্টহাউস। সরকারি হওয়ার কারণে এই দু’টি হোটেলের সারা বছর সুনির্দিষ্ট ভাড়া রয়েছে।‌ যা মধ্যবিত্তের সাধ্যের মধ্যে। এই কারণে মেলার চারমাস আগেই সরকারি দু’টি হোটেলের সব রুম বুক হয়ে গিয়েছে। এই সুযোগেই বেসরকারি হোটেল মালিকদের একাংশ দাম চড়িয়েছেন বলে অভিযোগ। বোলপুর হোটেল মালিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রসেনজিৎ চৌধুরী বলেন, সারা বছর দারুণ ব্যবসা হয়, এমনটা নয়। সেজন্য আমরা পৌষমেলা ও বসন্ত উৎসবের অপেক্ষায় থাকি। এই সময়ে হোটেলের ভাড়া বেশি থাকে। প্রতিবারের মতো এবারও দু’দিনের প্যাকেজ চালু করা হয়েছে। হোটেলের মান অনুযায়ী ভাড়া শুরু। দিন প্রতি তিন হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া। প্যাকেজ অর্থাৎ দু’দিনের তা আরও বেড়ে দাঁড়ায়।
এই অবস্থায় মধ্যবিত্তরা সাধারণ ঘরও পেইংগেস্ট হিসেবে ভাড়া নিচ্ছেন। তাতেও যে ভাড়া কম, এমনটা নয়। ‌এতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ অধিকাংশ পর্যটক। কলকাতার চিরঞ্জীব সরকার ও কনকলতা রায় বলেন, বোলপুরে হোটেল ব্যবসার নামে কার্যত কালোবাজারি চলছে। অবিলম্বে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ করা উচিত। মহকুমা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া যাতে কেউ না নেয়, সেজন্য মাঝে মাঝেই অভিযান চালানো হচ্ছে। পর্যটকরা প্রতারিত হলে অভিযোগ জানাতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ