Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পৌষমেলায় ব্যাপক ভিড়, বাড়তি সতর্ক পুলিস-প্রশাসন

পৌষমেলায় ব্যাপক ভিড়, বাড়তি সতর্ক পুলিস-প্রশাসন
  • ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: জমে উঠেছে শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা। মঙ্গলবার পূর্বপল্লির মাঠে দর্শনার্থীদের প্রত্যাশিত ভিড় নজরে পড়ে। আজ, মঙ্গলবার বড়দিন। ছুটি পেতেই বোলপুর-শান্তিনিকেতন, প্রান্তিক প্রভৃতি স্টেশনে পর্যটকের ঢল নেমেছে। ফলে, মেলায় আরও ভিড় বাড়বে। সামলাতে বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে জেলা পুলিস ও প্রশাসন। অপ্রীতিকর ঘটনা ও হুড়োহুড়ি এড়াতে এদিন মেলার মাঠের ফুটপাত খালি করল প্রশাসন। নেতৃত্ব দেন বোলপুরের এসডিপিও রিকি আগরওয়াল। ফুটপাতে পসার সাজিয়ে বসে থাকা হস্তশিল্পীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা দেওয়া হয়েছে  বলে মেলা কমিটি সূত্রে জানা গিয়েছে। পুলিস ও প্রশাসনের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ বছর পৌষমেলার আয়োজক বিশ্বভারতী। স্বাভাবিকভাবে মেলাকে ঘিরে পড়ুয়াদের মধ্যে উন্মাদনা বেশি। ৮ পৌষ সকালে সমাবর্তন উৎসব শেষ হতেই ছাত্রছাত্রী, স্থানীয় বাসিন্দা তথা পর্যটকরা মেলা প্রাঙ্গণে ভিড় করেন। শিশু-বান্ধব কর্নারেও মানুষের সমাগম ছিল দেখার মতো।  রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটক ও দর্শনার্থীদের পাশাপাশি প্রাক্তনীরাও সামিল হয়েছেন পূর্বপল্লির মাঠে। এমন ভিড়ের আঁচ করেই  শান্তিনিকেতন রোড সহ প্রধান রাস্তাগুলিতে যানজট এড়াতে আগে থেকে সতর্ক ছিল পুলিস। বিভিন্ন জায়গায় পুলিস সহায়তা কেন্দ্রও তৈরি করে। পাশাপাশি, বিশেষ কিউআর কোড, হেল্প লাইন তৈরি করে মেলায় আগত দর্শনার্থীদের গাইড ম্যাপ ও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে মেলার বিভিন্ন প্রান্তে লাগানো হয়েছে ৩০০টি সিসি ক্যামেরা। মেলা প্রাঙ্গণে পুলিস কন্ট্রোল রুম থেকেই সমস্ত ক্যামেরায় নজরদারি চালাচ্ছেন আধিকারিকরা। তবে, বড়দিনের ভিড় প্রশাসনের মাথা ব্যথার বড় কারণ। সেজন্য একদিন আগে থেকেই তার বিশেষ প্রস্তুতি নিল পুলিস। 
Advertisement
এ বছর অনলাইন মাধ্যমে স্টল বুকিংয়ের ব্যবস্থা করেছিল বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। দুঃস্থ হস্তশিল্পীদের জন্য অত্যন্ত কম মূল্যে নির্দিষ্ট জায়গা রাখা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও অনেক হস্তশিল্পী ও ব্যবসায়ী মেলা প্রাঙ্গণের বড় স্টলগুলির মাঝামাঝি ফুটপাতে বসে পড়েন। এতে অবাঞ্চিত ভিড় হচ্ছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই তৎপর হয় পুলিস। কন্ট্রোল রুম থেকে বারবার সরে যাওয়ার জন্য মাইকিং করা হলেও অনেকে গ্রাহ্য করছিলেন না। এদিন  ‌বিশাল বাহিনী নিয়ে ফুটপাত ব্যবসায়ীদের সেখান থেকে হটানোর কাজ শুরু করেন বোলপুরের এসডিপিও। তিনি বলেন, ফুটপাত ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। তারপরও অনেকে যত্রতত্র বসে পড়ছিলেন। ফলে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ছে। বড়দিনে লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হবে। তাই কোনওরকম হুড়োহুড়ি যাতে না হয়, সেজন্য আগে থেকেই এই সতর্কতা। তবে, ফুটপাত ব্যবসায়ীদের পূর্ব নির্ধারিত জায়গায় বসানো হয়েছে। পুলিসের এই তৎপরতাকে স্বাগত জানিয়েছেন শান্তিনিকেতন কর্মী পরিষদ। যুগ্ম সম্পাদক দেবাশিস চক্রবর্তী বলেন, বিশ্বভারতীর মেলায় প্রশাসন যেভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে তাতে কোনও প্রশংসা যথেষ্ট নয়। ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের কাছে অনুরোধ সকলে নিয়ম-শৃঙ্খলা বজায় রাখুন। তাহলেই সর্বাঙ্গীন সুন্দর হবে পৌষমেলা।
সম্পর্কিত সংবাদ