Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পৌষ সংক্রান্তিতে মকর ও টুসু পরবে মাতোয়ারা জঙ্গলমহল

পৌষ সংক্রান্তিতে মকর ও টুসু পরবে মাতোয়ারা জঙ্গলমহল
  • ১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে টুসু পরবে মাতোয়ারা জনজাতির মানুষ। পার্শ্ববর্তী পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরেও মকর পরব ঘিরে ছিল উৎসবের মেজাজ। সুবর্ণরেখা, কংসাবতী নদীতে বহু মানুষ এদিন পুণ্যস্নান করেছেন। গ্ৰামীন মেলাগুলোতে ভিড় উপচে পড়ছে । মোরগ লড়াই ছিল মেলার প্রধান আকর্ষণ।
Advertisement
জঙ্গলমহলের বিভিন্ন এলাকায় অগ্ৰহায়ণের শেষ দিনে শুরু হয় টুসু উৎসব।  পৌষের সন্ধ্যায়  মাটির গন্ধমাখা টুসু গানের সুর ভেসে আসে। অগ্ৰহায়ণ সংক্রান্তিতে ইতু বিসর্জন দিয়ে ধানের তুষ ও গাঁদা ফুল দিয়ে সাজিয়ে টুসু খোলা তৈরি হয়। পৌষ মাস ধরে বাড়ির মাটির নিকানো উঠোনে টুসু খোলাকে ঘিরে টুসুর বন্দনা করা হয়। পৌষ সংক্রান্তির ভোরে নদী বা পুকুরে টুকুকে বিসর্জন দিয়ে হয় বড় মকর পালন। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এবারও ধূমধাম করে মকরপরব পালিত হয়েছে। সুবর্ণরেখা, কংসাবতী , শাখা যমুনা নদী ছাড়াও ছোট জলাশয় ও পুকুরে টুসু বিসর্জন দেওয়া হয়েছে। জেলার বিভিন্ন মন্দিরগুলোতে  পুজো দিতে সকাল থেকেই ছিল মানুষের ভিড় । জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষ গ্ৰাম্য দেবদেবীর থানে পুজো দিয়েছেন।  বিনপুর-১ ও  ২ ব্লকে বৈতা , বসন্তপুর,  ডোমগড় , ভিমার্জুন, গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকের ফুলবেড়িয়া, ডুঙলিয়ায় ভিড় উপচে পড়েছে। নয়াগ্ৰাম ব্লকে চুনখুলিয়ায় টুসু কার্নিভালের আয়োজন করা হয়। কার্নিভালে স্থানীয় মানুষজন শামিল হন।  গোপীবল্লভপুরে রাধাগোবিন্দ জীউর মন্দিরে প্রশাসনের নির্দেশে ঐতিহ্যবাহী সাড়ে চারশো বছরের বুলবুল পাখির লড়াই বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে এলাকার মানুষ হতাশা প্রকাশ করেছেন। ঝাড়গ্রাম ব্লক তৃণমূলের সভাপতি নরেন মাহাত এদিন বলেন, জঙ্গলমহলের মানুষের প্রধান উৎসব মকর পরব। পরবের প্রধান অনুষঙ্গ টুসু গান। জেলার লোকশিল্পীদের গানে  কন্যাশ্রী , রূপশ্রী , লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কথা উঠে  আসছে। মেদিনীপুরের বিভিন্ন প্রান্তে এদিন মকর পরব উপলক্ষ্যে নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গ্রামীণ এলাকায় বসে মোরগ লড়াইয়ের আসর বসে। পাশাপাশি শালবনীর রানি শিরোমনি কর্ণগড় মন্দিরে সকাল থেকে ভক্তদের পুজো দিতে দেখা যায়। শালবনী, মেদিনীপুর সদর সহ বেশিরভাগ ব্লকে মকর পরবে আদিবাসী-মূলবাসীদের বাড়িতে টুসু পুজোর আয়োজন করা হয়। গ্ৰামে গ্ৰামে  ফল-মূল, পিঠে ও খই-মুড়কির নৈবেদ্য সাজিয়ে টুসু পুজোর আয়োজন করা হয়।   কংসাবতী নদীর বিভিন্ন ঘাটে পুণ্যস্নান করেন বহু মানুষ। মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, জেলাজুড়ে রীতি অনুসারে মকর পরব পালন করা হয়েছে। পুরসভার তরফেও সন্ধ্যা আরতি সহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। 
এবছর বিভিন্ন ঘাটে রেকর্ড পরিমাণে মানুষের সমাগম হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলাজুড়ে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানে মাতলেন জেলাবাসী। তমলুক শহরে কপালমোচন ঘাটে ও রূপনারায়ণ নদের তীরে ঐতিহ্যবাহী বারুণী মেলায় লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। রূপনারায়ণ নদে পুণ্যস্নানের জন্য ভোর থেকেই পুণ্যার্থীরা ভিড় জমান। বারুণী মেলায় অন্যতম আকর্ষণ হস্তশিল্পীদের তৈরি গৃহস্থালির নানা জিনিসপত্র। একদিনের মেলায় গোটা জেলার নানাপ্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ ভিড় করেন। নরঘাটে মাতঙ্গিনী সেতুর দুই ধারে গঙ্গাপুজো উপলক্ষ্যে মেলা বসেছে। হলদি নদীতে মকর সংক্রান্তির স্নান করার জন্য অনেকেই ভিড় জমান। শঙ্করপুরে গঙ্গোৎসব উপলক্ষ্যে মেলা বসেছে। দীঘা, শঙ্করপুর, মন্দারমণি, রসুলপুরে মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে বহু মানুষ পুণ্যস্নান করেন। 
সম্পর্কিত সংবাদ