সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: পৌষ সংক্রান্তির শেষদিনে ঘরে ঘরে পিঠে তৈরিতে মাজদিয়ায় খেজুর গুড়ের চাহিদা তুঙ্গে। শীত এলেই জিভে জল আনা পিঠে তৈরির ধুম পড়ে যায়। পিঠেপুলি খাওয়ার আনন্দই আলাদা।
Advertisement
ভাপা, সরা, খোলা পিঠে, গোকুল পিঠে, পাটিসাপটা, ভাজা পুলি, দুধপুলি সহ একাধিক পিঠের স্বাদে এই সময় বাঙালি মজে যায়। সেই স্বাদের ক্ষেত্রে সুস্বাদু খেজুর গুড়েরও বিরাট ভূমিকা আছে। এই গুড় না হলে সমস্ত কিছু যেন ফিকে হয়ে যায়। এমনিতে ভেজাল গুড়ের মাঝে ভালো গুড়ের সন্ধান পাওয়া দুরূহ ব্যাপার। তবে পৌষ সংক্রান্তির পিঠে পুলিউৎসব এলে এত কিছু মাথায় থাকে না। তাই রাজ্যের পুরনো বিখ্যাত খেজুর গুড়ের হাটগুলির মধ্যে অন্যতম মাজদিয়ার গুড়ের হাটে ব্যাপক গুড় বিক্রি হয়েছে। এই গুড়ের হাট বসে রবিবার ও বুধবার। খেজুর গুড়ের মরশুমে ৫০০’র বেশি শিউলি এখানে তাঁদের গুড় নিয়ে আসেন। এছাড়া এই সময় ভাজনঘাট থেকে মাজদিয়া বাসস্ট্যান্ড ছাড়িয়ে প্রায় ৪০০ মিটার রাস্তার ধার পর্যন্ত সাইকেলে গুড় নিয়ে শিউলিরা দাঁড়ান। গুড়ের এই মাস চারেকের মরশুমে শিউলিরা বাড়তি টাকা আয় করেন। এই সময় শিউলিরা দুটো বাড়তি পয়সার সন্ধানে প্রবল ঠান্ডার মধ্যে খেজুর গাছে মাটির হাঁড়ি ঝোলান। পরের দিন সকালে গাছ থেকে রস ভর্তি হাঁড়ি পেড়ে আনেন। সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হয় নলেন গুড়। এই গুড় কিনতে পশ্চিমবঙ্গের বাইরের থেকেও ব্যবসায়ীরা কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়ায় আসেন। মাজদিয়ার হাটে নলেন গুড় কিলো প্রতি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাটালি গুড় ২০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ভালো গুড়ের জন্য পাইকারি দাম ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা পড়ে যাচ্ছে। ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরেও খেজুর গুড় পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার, মঙ্গলবারও মাজদিয়া বাজার ও লাগোয়া রাস্তায় সারিবদ্ধভাবে বসে খেজুর গুড় বিক্রি করতে দেখা গিয়েছে। সেই গুড় কিনতে সাধারণ মানুষের উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। খেজুর গুড় ব্যবসায়ী সুনীল বিশ্বাস বলেন, ‘এ বছর একটু দেরি করে ভালো রস পাওয়া গিয়েছে। তাই ভালো খেজুর গুড় হতে একটু দেরি হয়েছে। বাজার কেমন হবে এ নিয়ে আশঙ্কা ছিল। কিন্তু পৌষ সংক্রান্তির জন্য কয়েক দিন ধরে ব্যাপক খেজুর গুড় বিক্রি হয়েছে।’ গেদে বানপুর, আদিত্যপুর, খালবোয়ালিয়া সহ একাধিক এলাকা থেকে শিউলিরা পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে রাস্তার ধারে বসে গুড় বিক্রি করেছেন। পৌষ সংক্রান্তির জন্য ক্রেতারা দুটো পয়সা দিতে কার্পণ্যকরেননি। এ প্রসঙ্গে মাজদিয়ার বাসিন্দা স্বপনকুমার ভৌমিক বলেন, আমাদের বাড়িতেও পৌষ সংক্রান্তির জন্য পিঠেপুলি হচ্ছে। তার জন্য বাজার থেকে মোটামুটি গুড় ২০০ টাকা কেজি দরে কিনেছি। একটু দাম বেশি বললেও এই সময়দরাদরি করিনি। উৎসবের মধ্যে দু’টো বাড়তি পয়সা আয় হয়েছে।’



