Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পশুখাদ্যের আড়ালে আলু পাচার কুলটির ঝাড়খণ্ড সীমানায় আটক লরি 

পশুখাদ্যের আড়ালে আলু পাচার কুলটির ঝাড়খণ্ড সীমানায় আটক লরি 
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পশুখাদ্য পরিবহণের চালানের আড়ালে বাংলা থেকে ভিনরাজ্যে পাচার হচ্ছে আলু। বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানায় কুলটি থানা ও ট্রাফিক গার্ডের পুলিস চক্রের পর্দাফাঁস করল। শনিবার ডুবুরডিহি চেকপোস্টে একটি লরি ঝাড়খণ্ড অভিমুখে যাওয়ার জন্য আসে। পুলিসকে দেখানো চালানে লেখা ছিল, গাড়িতে ২৫ টন পশুখাদ্য রয়েছে। সন্দেহ হওয়ায় পুলিস গাড়িটি তল্লাশি চালাতেই ঩দেখা যায়, আলুর বস্তা বোঝাই রয়েছে। পুলিস গাড়িটি আটক করেছে। এই ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু এই গাড়িতেই নয়, এভাবে একাধিক আলু বোঝাই গাড়ি পশুখাদ্যের চালান নিয়ে বাংলা সীমানা পার করার চেষ্টা করছে। পুলিসের ধড়পাকড়ে তারা পিঠটান দেয়। চালকদের দাবি, শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন হোটেল থেকে এই চালান দেওয়া হচ্ছে। যাতে সীমানা পার হতে সমস্যা না হয়। এর পিছনে বড় চক্র কাজ করছে বলে মনে করছে পুলিস। 
Advertisement
ডিসি সন্দীপ কাররা বলেন, আমরা প্রথমে বারাবনি থানা এলাকায় নকল চালানে আলু পাচারের চেষ্টা ভেস্তে দিয়েছিলাম। এদিন কুলটি থানা এলাকা থেকেও একই চেষ্টা হয়। আমরা গাড়িটি আটক করেছি। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। 
আলু বিক্রি নিয়ে মাসখানেক ধরেই টানাপোড়েন অব্যাহত। প্রতি বছর বাংলায় প্রচুর আলু উৎপাদন হয়। অথচ বাংলার বাজারেই আলুর অগ্নিমূল্য। কেজি প্রতি ৩৫-৪০টাকা আলুর দাম উঠে গিয়েছে। এই অবস্থায় বাংলার বাজারে কিছুটা সস্তার আলুর জোগান বাড়াতে বাইরে আলু পাঠানোর উপর কঠোর অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব঩ন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিসকে সীমানা এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এতে বাজারে আলুর দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু একশ্রেণির ব্যবসায়ী বেশি মুনাফার লোভে ভিনরাজ্যে আলু পাচার করতে মরিয়া। নকল চালান বানিয়েই বিহার ও ঝাড়খণ্ডে আলু পাঠানোর চেষ্টা হচ্ছে। হুগলি, পূর্ব বর্ধমান থেকেই নকল চালান নিয়ে আলুর গাড়ি রওনা দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার নকল চালান জোগাড় হয়ে যাচ্ছে ঝাড়খণ্ড সীমানা ঘেঁষা শিল্পাঞ্চলেই।
কয়েকদিন আগে ভুয়ো চালানের প্রথম ঘটনাটি ধরা পড়ে বারাবনি থানা এলাকার রুনাকুড়া ঘাটের কাছে। সেখানে লরিতে প্লাস্টিক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে ভুয়ো চালান দেখানো হয় পুলিসকে। সেই লরি থেকে ৫১০ বস্তা আলু উদ্ধার হয়। প্রশাসন সেই আলু বাজেয়াপ্ত করে নিলামও করে দিয়েছে। ঘটনায় চালক, খালাসিকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। এই চক্রের মাথাদের খোঁজে বারাবনি থানার পুলিস হুগলির পাণ্ডুয়া গিয়েছিল। পুলিস জানতে পারে, পাণ্ডুয়া থেকেই ওই আলু লরিতে মজুত করা হয়েছিল। শনিবার উদ্ধার হওয়া আলু আসছিল পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকে। 
শুধু একটি লরি নয়, এভাবে ভুয়ো চালানে বেশকিছু লরি অন্য রাজ্যে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। অনেক চালক দাবি করেছেন, আলু বোঝাই লরিগুলি হুগলি, বাঁকুড়া, পূর্ব বর্ধমান থেকে লোড হচ্ছে। চালকদের হাতে রানিগঞ্জ, আসানসোলের বিভিন্ন জায়গায় ভুয়ো চালান ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাতে সীমানায় নকল চালান দেখিয়ে পেরিয়ে যাওয়া যায়। নকল চালান তৈরির জন্য আলুর কারবারিদের কাছ থেকে মোটা টাকা নেওয়া হচ্ছে বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। পুলিস আলু পাচারের এই মিডলম্যানদের খোঁজ শুরু করেছে।
সম্পর্কিত সংবাদ