Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পোশাক ও অন্দরসজ্জার সামগ্রীতে পটচিত্র, বিকোচ্ছে হস্তশিল্প মেলায়

পোশাক ও অন্দরসজ্জার সামগ্রীতে পটচিত্র, বিকোচ্ছে হস্তশিল্প মেলায়
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বোলপুর: পটচিত্রেরঐতিহ্য লুপ্তপ্রায়। পেশা ও ঐতিহ্য বাঁচাতে তাই অভিনব উদ্যোগ নিলেন পটশিল্পীরা। পোশাক ও ঘর সাজানোর সামগ্রীতেও তাঁরা ব্যবহার করছেন পটচিত্র। পূর্ব মেদিনীপুর থেকে আগত শিল্পীদেরএই কাজ বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজারের রাজ্য হস্তশিল্প মেলায় পাওয়া যাবে। সেখানে দুই পটশিল্পী এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে আধুনিক পোশাকে অন্য মাত্রায় তুলে ধরেছেন। যার দাম রাখা হয়েছে মধ্যবিত্তের নাগালে। মেয়েদের শাড়ি থেকে কুর্তি, চুড়িদার, ওড়নার পাশাপাশি ছেলেদের টি শার্ট, পাঞ্জাবিতেও নানা আঙ্গিকের পট এঁকে বিক্রি করছেন বকুল ও সাকিনা চিত্রকর। বিষয়টি অভিনব হওয়ায় পটের তৈরি পোশাক ও ঘর সাজাবার সামগ্রী কিনতে ভিড় জমিয়েছেমানুষ।
Advertisement
প্রতিবছরের মতো এবারেও বোলপুরের শিবপুর মৌজার বিশ্ব ক্ষুদ্র বাজারে বসেছে রাজ্য হস্তশিল্প মেলা। মেলার আয়োজক রাজ্য সরকারের ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ এবং বস্ত্রদপ্তর। গত ১৬ ডিসেম্বর এই মেলার সূচনা হলেও শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন এসআরডিএর চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডল। সেখানে ২৫টি স্টলে রাজ্যের প্রতিটি জেলার ৩৫০ জন হস্তশিল্পীরা পসরা সাজিয়ে বসেছেন। 
বাঁশ, কাঠ, বেত, কাঁথা স্টিচের পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থানার মুরাদপুরেরদম্পতি বকুল ও স্ত্রী সাকিনা চিত্রকর মনসামঙ্গল, চণ্ডীমঙ্গল, রামায়ন, রাসলীলা, সত্যপীরের পাঁচালিইত্যাদি পৌরাণিক কাহিনি তুলে ধরেছেন পটচিত্রে।‌ এগুলির দাম ঘোরাফেরা করছে আট থেকে ১২ হাজার টাকার মধ্যে। পট দেখিয়ে গান গেয়ে এইসব গল্প শিল্পীরা তুলে ধরেন। কিন্তু তাঁদের দাবি, আগের মতো পৌরাণিক কাহিনিতে আগ্রহ নেই আধুনিক প্রজন্মের। তাই তাদের মন পেতে পোশাক ও ঘর সাজানোর সামগ্রীতে পটচিত্র তুলে ধরতে উদ্যোগী হয়েছেনতাঁরা। বেশ কয়েক বছর ধরে রাজ্য সরকার আয়োজিত হস্তশিল্প মেলায় তাঁরা এই আধুনিক ট্রেন্ডের পোশাক বিক্রি করছেন। তাঁরা বলেন, ‘দাম সবার নাগালের মধ্যেই রাখা হয়েছে। পট আঁকা শাড়ির দাম তিন থেকে চার হাজার টাকা। এছাড়া মেয়েদের কুর্তি, চুড়িদার, ওড়নার দাম ঘোরাফেরা করছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে। আছে ছেলেদেরও পাঞ্জাবি, টি-শার্ট। সেগুলি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৭০০ টাকার মধ্যে। পোশাকের পাশাপাশি ঘর সাজানোর সামগ্রী হিসেবে কাপ, ট্রে, চাবির রিং, ফুলদানি প্রভৃতি সামগ্রীতেও পটশিল্পকে তুলে ধরা হয়েছে। বিক্রি মন্দ হচ্ছে না।”
সম্পর্কিত সংবাদ