Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পাঁশকুড়ায় নেতাদের রক্ষায় ২৭ কনস্টেবল, পুলিসের অভাবে ধুঁকছে বহু ফাঁড়ি

পাঁশকুড়ায় নেতাদের রক্ষায় ২৭ কনস্টেবল, পুলিসের অভাবে ধুঁকছে বহু ফাঁড়ি
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: শুধুমাত্র পাঁশকুড়া থানা এলাকায় সাতজন নেতার সুরক্ষায় ২৭ জন পুলিস কনস্টেবল নিযুক্ত আছেন। ওই পুলিস কর্মীদের কেউ দেহরক্ষী, কেউ হাউস গার্ড কিংবা পাইলট কারে ডিউটি করছেন। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অন্য কোনও থানা এলাকায় এতবেশি সংখ্যক পুলিস নেতাদের নিরাপত্তায় নিযুক্ত নেই। এদিকে, পর্যাপ্ত পুলিস কর্মীর অভাবে নন্দীগ্রাম থানা ভেঙে প্রস্তাবিত রেয়াপাড়া ও তেখালি থানা করার কাজ ঝুলে রয়েছে। তমলুক থানাকে ভাঙার পরিকল্পনা থাকলেও সেই কাজে অন্তরায় পুলিস কর্মীর সঙ্কট। 
Advertisement
জেলা পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পাঁশকুড়ায় সরকারি নিরাপত্তারক্ষী পাওয়া নেতারা হলেন, বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্র, বিধায়ক ফিরোজা বিবি, পুর প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারপার্সন নন্দকুমার মিশ্র, ভাইস চেয়ারপার্সন সইদুল ইসলাম খান, রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের নেতা জইদুল ইসলাম খান, ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায় এবং মাইসোরার আফজল শা। কুরবান শা খুনের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী তাঁর দাদা আফজল শা। ওই মামলায় সাক্ষীদের নানাভাবে ভয় দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে আফজল শা দু’জন নিরাপত্তারক্ষী পেয়েছেন। তাছাড়া, বাকি ছ’জন নেতার নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়েছে জেলা গোয়েন্দা শাখার রিপোর্টের ভিত্তিতে।
জানা গিয়েছে, নন্দকুমার মিশ্র, সইদুল ইসলাম খান, জইদুল ইসলাম খান প্রত্যেকেরই দু’জন করে দেহরক্ষী রয়েছে। পাঁশকুড়া পশ্চিমের বিধায়ক ফিরোজা বিবিরও দু’জন দেহরক্ষী ছিল। তার মধ্যে একজন ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকে একজন দেহরক্ষী রয়েছে। ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায়ের একজন দেহরক্ষী রয়েছে। প্রাক্তন মন্ত্রী সৌমেন মহাপাত্রের বাড়িতে সাতজন নিরাপত্তারক্ষী হাউস গার্ড হিসেবে থাকেন। এছাড়াও সৌমেনবাবুর জন্য সবসময় দু’টি পাইলট কার রয়েছে। হাউস গার্ড, জোড়া পাইলট কার এবং দেহরক্ষী মিলিয়ে মোট পুলিস কর্মীর সংখ্যা ১৭।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মধ্যে নন্দীগ্রাম এবং তমলুক থানা শুধু পরিধিতে বড় নয়, মামলার চাপও অত্যধিক। ২০২৪ সালে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তমলুক থানা঩য় এপর্যন্ত নথিভুক্ত মামলার সংখ্যা ১১৩০টি। আর নন্দীগ্রাম থানায় সংখ্যাটা ১০২৫টি। প্রশাসনিক কাজের সুবিধার জন্য এবং মামলার চাপ কমাতে এই দু’টি থানা ভাঙা খুবই জরুরি। নন্দীগ্রাম থানা ভেঙে তিনটি থানা করার প্রস্তাব গৃহীত হলেও তা অথৈ জলে। কারণ, পুলিস কর্মীর অভাব। তমলুক থানা ভাঙাও জরুরি হয়ে পড়েছে। তমলুক শহর, তমলুক ব্লক এবং শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের বিরাট এলাকা নিয়ে এই থানা। যোগাযোগের সমস্যার কারণে এই জেলায় অনেক ফাঁড়ি তৈরি হয়েছে। যেমন, ভূপতিনগর থানার ইটাবেড়িয়া, নন্দীগ্রামের রেয়াপাড়া ও তেখালি। কিন্তু, ওই ফাঁড়িতে তিন থেকে চারজনের বেশি পুলিসকর্মী নেই। অথচ, একটা থানা এলাকায় শুধুমাত্র নেতাদের নিরাপত্তায় ২৭ জন পুলিস নিযুক্ত রয়েছে।
সৌমেন মহাপাত্র বলেন, আমার নিরাপত্তারক্ষী দু’জন আছেন। এছাড়া, মন্ত্রী থাকার সময় থেকে ছ’জন হাউস গার্ড আছেন। এর বাইরে পাইলট কার আছে। বিজেপি নেতাদের জন্য তো কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী রয়েছে। পাঁশকুড়া পুর প্রশাসক বোর্ডের ভা‌ইস চেয়ারম্যান সইদুল ইসলাম খান বলেন, আমি এবং নন্দ মিশ্র একজন করে দেহরক্ষী পেতাম। তারপর আমাদের উপর একটা হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় পুলিস আরও একজন করে দেহরক্ষী দিয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ