Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোটের ময়দানে নামছে তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেড, কটাক্ষ বিজেপির

পশ্চিম মেদিনীপুরে ভোটের ময়দানে নামছে তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেড, কটাক্ষ বিজেপির
  • ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: লক্ষ্য ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভালো ফলাফল। সেই লক্ষ্যে জেলার প্রায় তিন লক্ষ মহিলা কর্মী-সমর্থককে ভোটের ময়দানে নামার নির্দেশ দিল তৃণমূল। মূলত মহিলা ভোট ব্যাঙ্ক অটুট রাখতেই আগে থেকে মহিলা কর্মী-সমর্থকদের ভোটের ময়দানে নামাচ্ছে রাজ্য নেতৃত্ব। জানা গিয়েছে, রবিবার মেদিনীপুরের জেলা পরিষদ হলে কয়েকশো মহিলা কর্মীর উপস্থিতিতে ‘আলাপচারিতা’ কর্মসূচি পালন করা হয়। এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদিকা শর্মিলা সিনহা, রাজ্য তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সহ সভানেত্রী কবিতা রেহমান, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি, মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা, জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক প্রমুখ। মহিলা তৃণমূল নেতৃত্বের কথায়, এদিনের কর্মসূচির মাধ্যমে রাজ্য নেতৃত্বের তরফে জেলার মহিলা নেতৃত্বকে বেশকিছু বার্তা দেওয়া হয়েছে। সারা বছর ধরেই মহিলা নেতৃত্ব সেই পথ অনুসরণ করে চলবে। পাশাপাশি জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় জন সংযোগ বৃদ্ধির জন্য নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য নেতৃত্বে। একইসঙ্গে রাজ্য সরকারের জনমুখী প্রকল্পের প্রচারও করবেন মহিলারা। 
Advertisement
এদিন রাজ্য তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সহ সভানেত্রী কবিতা রেহমান বলেন, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে মহিলারা সুরক্ষিত। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার সহ একাধিক সরকারি প্রকল্পে মহিলারা আজ উপকৃত। শুধু তাই নয়, বাংলার নারীদের স্বনির্ভরতা ও ক্ষমতায়নে মুখ্যমন্ত্রীর অবদান অনস্বীকার্য। মানুষের কাছে সেই তথ্য তুলে ধরতেই হবে। জেলার মহিলারাই পথ দেখাবেন। 
প্রসঙ্গত, রাজ্যের প্রতিটি নির্বাচনে মহিলা ভোট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মহিলা ভোট নিজেদের ঝুলিতে ভরতে ঝাঁপিয়ে পড়ে শাসক- বিরোধী উভয়পক্ষ। ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটেও মহিলা ভোট বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সেই লক্ষ্যেই এখন থেকেই ময়দানে নামতে চাইছে তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেড। জানা গিয়েছে, রাজ্যের ক্ষমতা দখলের পরই মহিলাদের জন্য বেশকিছু প্রকল্প উপহার দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার মধ্যে কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এছাড়া, মহিলাদের স্বনির্ভর করতেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এরফলে জঙ্গলমহল জুড়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। কিন্তু মহিলাদের সাংগঠনিক দুর্বলতার দিক আগের বেশকিছু নির্বাচনে ফুটে উঠেছে। এরফলে গত বিধানসভা, পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনে কিছু এলাকা থেকে পিছিয়ে গিয়েছিল তৃণমূল। তার অন্যতম কারণ ছিল মহিলা ভোট। তৃণমূলের এক মহিলা কর্মীর কথায়, গত মেদিনীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লক্ষ ৯১ হাজারের বেশি। তার মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৪৩ হাজার। অপরদিকে, মহিলা ভোটারের সংখ্যা ১ লক্ষ ৪৮ হাজারের বেশি। মহিলা ভোটারের অধিকাংশে তৃণমূলের ঝুলিতে যাওয়ায় বড় মার্জিনে জয় এসেছে। বিজেপির মহিলা সংগঠন খুবই দুর্বল হয়ে গিয়েছে। যার সুযোগ নিতে হবেই। মহিলা তৃণমূল কর্মী সুমিতা ঘোষ বলেন, লোকসভার পর থেকে কোনও বিশেষ কর্মসূচি না থাকায় বসে গিয়েছিলাম। তবে বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এখন থেকেই ঝাঁপাতে বলা হয়েছে। আমরা লড়াইয়ের জন্য তৈরি। 
জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, মহিলারা চাকরি চান, ভাতা নয়। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ