Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পশ্চিম বর্ধমানে লক্ষাধিক অবৈধ সংযোগ, সর্বত্র মিলছে না জল

পশ্চিম বর্ধমানে লক্ষাধিক অবৈধ সংযোগ, সর্বত্র মিলছে না জল
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: লক্ষাধিক অবৈধ জলের সংযোগে নাজেহাল দশা। এলাকায় পর্যাপ্ত পানীয় জল পৌঁছচ্ছে না। জেলাশাসকের নির্দেশে বুধবার পশ্চিম বর্ধমানের প্রতিটি থানায় জেনারেল ডায়েরি(জিডি) করল জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর। অভিযোগ, বড় হোটেল থেকে বহু কারখানা পাইপ ফুটো করে বিপুল পরিমাণ জল লুট করছে। দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পিএইচই বাড়ি বাড়ি যত জলের ট্যাপ বসিয়েছে তারমধ্যে ৪০ শতাংশ ট্যাপ থেকে জল পড়ে না। কল আছে, জল নেই। পরিস্থিতি সরেজমিনে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন জেলাশাসক পোন্নমবলম এস। বুধবারই জেলার আটজন বিডিওর সঙ্গে বৈঠক করে নিজেদের এলাকায় প্রতিটি অভিযোগ ধরে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। 
Advertisement
জনস্বাস্থ্য‌ ও কারিগরি দপ্তরের এগজিকিউটিভ ‌‌‌ইঞ্জিনিয়ার রূপম ঘোষ বলেন, বারবার অভিযান চালিয়েও জল চুরিতে লাগাম টানা যায়নি। জেলাশাসকের নির্দেশে প্রতিটি থানায় আমরা জল চুরির বিস্তারিত তথ্য দিয়ে জিডি করেছি।
বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছনোর প্রকল্পগুলির পরিষেবা সাধারণ মানুষ যথাযথভাবে না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রাজ্য পুলিসের ডিজি রাজীব কুমারকে স্পেশাল টাস্ক ফোর্স দিয়ে অসাধু ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে নির্দেশ দেন। সেই নির্দেশের পরই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় আলোড়ন পড়েছে। 
খনি অঞ্চল হওয়ায় ভূগর্ভস্থ জল পাওয়া যায় না। জলের জন্য ভরসা দামোদর ও অজয় নদ। সেখান থেকে জল এনে জেলার ২ লক্ষ ৫৫হাজার বাড়িতে নতুন করে সংযোগ দেওয়ার টার্গেট নেওয়া হয়। এখনও পর্যন্ত এক লক্ষ ৭৬ হাজার বাড়িতে জলের সংযোগ পৌঁছেছে। তারমধ্যে আবার ৪০শতাংশ ট্যাপেই জল পড়ছে না। একদিকে জলের নতুন পাইপলাইন বসানোর জন্য রাস্তার দফারফা হয়েছে। বাড়িতে পাইপলাইন এলেও সেখানে জল না পেয়ে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। সে খবর পৌঁছেছে মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও। তারপরই এনিয়ে নির্দেশ এসেছে। 
নির্দেশ আসতেই গাঝাড়া দিয়ে উঠেছে জেলা প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকের পরই জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। কলের জল না পড়ার জন্য অবৈধ জলের সংযোগকেই জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর দায়ী করছে। সালানপুর থেকে জামুড়িয়া, রানিগঞ্জ, সর্বত্র এই সমস্যা রয়েছে বলে আধিকারিকদের দাবি। অনেক ক্ষেত্রে দপ্তরের পক্ষ থেকে অবৈধ সংযোগ কাটার তোড়জোড় শুরু হলেও তা হঠাৎই ঩থেমে যায়। এব্যাপারে বিশেষ করে কয়েকজন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে নানা বেনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তাই অবৈধ জলের সংযোগের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি দপ্তরের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 
পাশাপাশি নতুন জলের সংযোগ শেষ করার সময়সীমাও বেঁধে দিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা। মার্চ মাসের মধ্যে জেলার সব প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। শুধুমাত্র একটি মেগা প্রজেক্ট রয়েছে। যেটিতে মাইথন বাঁধ থেকে জল এনে সরবরাহ করা হবে জামুড়িয়া, রানিগঞ্জ, অণ্ডাল ও পাণ্ডবেশ্বর ব্লকে। সেই প্রকল্প সম্পন্ন করার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে ২০২৫সালের মে মাস।
সম্পর্কিত সংবাদ