নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: সোমবার ২০২৫সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল প্রশাসন। সেই পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, জেলায় ১০০বছরের বেশি বয়সি ভোটারের সংখ্যা ৯৭। ৮৫বছরের বেশি বয়স্ক ভোটার রয়েছেন ১২ হাজার ৪৭৯জন। বিশেষভাবে সক্ষম ভোটার ১৪১০৭জন। শতায়ু ভোটারের সংখ্যা যথেষ্ট নজর কেড়েছে। এদিন জেলাশাসক সর্বদলীয় বৈঠকে অন্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে এই তালিকা প্রকাশ করেন। এবার ভোটার তালিকা সংশোধনীতে ২২ হাজার ৪০১টি নাম সংযুক্ত হয়েছে। ১৭ হাজার ৯৬৬টি নাম বাদ পড়েছে। জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, এদিন চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হয়েছে। সর্বদলীয় বৈঠক করে মতামত নেওয়া হয়েছে। জেলায় প্রায় সাড়ে চারহাজার ভোটার বেড়েছে। এই তালিকা অনুযায়ী জেলায় ২৩ লক্ষ ১৮ হাজার ৬৯৯জন ভোটার রয়েছে। মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ছে। সেইসঙ্গে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতির জেরে মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। এবার তার প্রমাণ মিলল পশ্চিম বর্ধমান জেলার ভোটার তালিকাতেই। সেখানে দেখা গিয়েছে, এমন ৯৭জন ভোটার জীবিত রয়েছেন, যাঁদের বয়স ১০০ পার হয়েছে। আসানসোল-দুর্গাপুরে ভোট হলে বহু প্রবীণকে ভোটের লাইনে দাঁড়াতে দেখা যায়। এখন অবশ্য বেশি বয়স্কদের জন্য বাড়িতে ভোট নেওয়ার ব্যবস্থা করছে প্রশাসন। তবে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি অভিযোগ তুলেছে। তাদের অভিযোগ, বহু ভুয়ো ভোটারের নাম বিএলওরা তালিকা থেকে বাদ দেননি। মৃত ভোটারের নাম তালিকায় থাকার কথা জানানো হলে বিএলওরা মৃত্যুর শংসাপত্র চাইছেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী কোনও অভিযোগ এলে বিএলওর সরেজমিনে খতিয়ে দেখে নাম বাদ নেওয়া উচিত। এভাবেই যাঁরা মারা গিয়েছে, যাঁরা এলাকা থেকে চলে গিয়েছে-সেই সমস্ত ভোটারদের নাম তালিকায় ঢুকিয়ে শাসকদল কারচুপি করছে বলে কংগ্রেস ও সিপিএম অভিযোগ তুলেছে। কংগ্রেসের জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, বিএলওরা ভালো কাজ করছে না। কোনও ভোটারের মৃত্যু হয়েছে বলে জানালেও আমাদের কাছে ডেথ সার্টিফিকেট চাওয়া হচ্ছে। সিপিএম জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য তুফান মণ্ডলও একই অভিযোগ তোলেন। সর্বদলীয় বৈঠকে তৃণমূলের প্রতিনিধি আকাশ মুখোপাধ্যায় বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন চলাকালীন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের বুথ লেভেল এজেন্ট দেওয়ার করা।



