Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পড়শি যুবকের সঙ্গে উধাও স্ত্রী, ছেড়ে যাওয়া ওড়নার ফাঁসে আত্মঘাতী যুবক

পড়শি যুবকের সঙ্গে উধাও স্ত্রী, ছেড়ে যাওয়া ওড়নার ফাঁসে আত্মঘাতী যুবক
  • ২০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: এক সন্তানকে বাড়িতে রেখে অন্য সন্তানকে নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়েছে স্ত্রী। চারদিন পরও ফিরে না আসায় স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন যুবক। বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে সাগরদিঘির বালিয়াতে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম বার্নার মুর্মু (৩১)। বাড়ি সাগরদিঘি থানার বালিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের ন'পাড়া সাতগাছিয়া গ্রামে। পুলিস দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। বার্নার পেশায় দিনমজুর ছিলেন। বর্তমানে বাড়িতে তাঁর দশ বছরের এক কন্যা রয়েছে। স্ত্রীকে খুঁজে আনতে শ্বশুরবাড়ির লোকজন যুবকের উপর চাপ সৃষ্টি করছিল বলে অভিযোগ। একদিকে স্ত্রীর সন্ধান না মেলা, অপরদিকে শ্বশুরবাড়ির চাপ—সেই কারণেই বার্নার আত্মহত্যার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেয় বলে তাঁর পরিবারের দাবি। সাগরদিঘি থানার পুলিস জানিয়েছে, দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে মর্গে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। পুলিস ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার সন্ধ্যায় কাজ থেকে বাড়ি ফিরে বার্নার দেখতে স্ত্রী শিখা ঘরে নেই। মা কোথায় গিয়েছে বলে বড়ো মেয়ের কাছে জানতে চান তিনি। মেয়ে কিছুই বলতে পারেনি। রাত পর্যন্ত ঘরে স্ত্রী ঘরে ফিরে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। গভীর রাত পর্যন্ত স্ত্রী ঘরে ফিরে আসেননি। পরে বার্নার জানতে পারেন কোলের কন্যাসন্তানকে নিয়েই প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে স্ত্রী। বধুর বাপের বাড়ির লোকজন বিষয়টি জানতে পারলে বার্নারকেই দোষারোপ করেন। মেয়েকে যেখান থেকে হোক খুঁজে নিয়ে আসার জন্য চাপ দেন তাঁরা। ঘটনা পর গত দু’দিন ধরে স্ত্রী ও সন্তানের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরেছেন বার্নার। শেষে জানতে পারেন, স্ত্রী প্রেমিকের সঙ্গে বারালা আদিবাসী পাড়ায় রয়েছেন। স্ত্রীকে ঘরে ফেরাতে কয়েক কিমি দূরে শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে নিয়ে সেখানে যান যুবক। কিন্তু সন্তান সহ স্ত্রী ও তাঁর প্রেমিকের কোনও খোঁজ মেলেনি। হতাশ হয়ে ফিরতে হয় সকলকেই। 
Advertisement
এদিন সকালে সিঁড়িঘরে স্ত্রীর ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে বার্নারকে ঝুলতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সাগরদিঘি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃতের এক আত্মীয় ইন্দ্র হেমব্রম বলেন,  ওঁর স্ত্রী প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে কোলের মেয়েকে নিয়ে চলে গিয়েছে। শ্বশুর বাড়ির লোকজনও চাপ দিচ্ছিল। নিজেকে আর সামলাতে পারেনি। তাই চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছে বার্নার।’ বালিয়া গ্রামপঞ্চায়েতের সদস্যা জাচিন্তা হেমব্রম বলেন, ‘শুনেছি বড়ো মেয়েকে বাড়িতে রেখে বার্নারের স্ত্রী কোলের সন্তানকে নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছে। আত্মহত্যার পিছনে এটাই মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।’ 
সম্পর্কিত সংবাদ