নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুরসভার কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের পরিবর্তে পাবলিক সার্ভিস কমিশন (পিসিসি)-এর মাধ্যমে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তারা। বিগত সরকারের আমলে পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন তৎকালীন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসু। এই প্রেক্ষাপটে পুর-নিয়োগের বিষয়টি পিএসসির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। পাশাপাশি, সম্প্রতি কলকাতা এবং হাওড়া ছাড়া ১২৬টি পুরসভায় অননুমোদিত নিয়োগের তথ্য খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিগত সরকারের আমলে পুর ও নগরোন্নয়ন এবং অর্থদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই অনুমোদিত পদে (স্যাংশনড পোস্ট) নিয়োগ হয়েছে অধিকাংশ পুরসভায়। তাই সেই সমস্ত নিয়োগের তালিকা তৈরি করে পরবর্তী পদক্ষেপ করতে চাইছে রাজ্য। পুর-নিয়োগের ক্ষেত্রে মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশনের পরিবর্তে পিএসসির ভূমিকা বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে শীর্ষস্তরে আলোচনা হয়েছে বলে খবর। এ বিষয়ে রাজ্যের এক পদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, ‘পিএসসিকে দিয়ে নিয়োগের ব্যাপারে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বলা যেতে পারে, বিষয়টি এখন ‘ট্রানজিশন পিরিয়ডে’ আছে।’ অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, এগজিকিউটিভ অফিসার, ক্লার্ক থেকে শুরু করে পুর-পরিষেবা নিশ্চিত করতে নানা গ্রুপের কর্মী নিয়োগের দায়িত্বে রয়েছে মিউনিসিপ্যাল সার্ভিস কমিশন। আগামী দিনে এসমস্ত ক্ষেত্রের নিয়োগও পিএসসির মাধ্যমে হবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইনি পরিকাঠামো তৈরির প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন তিনি। ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে জেলাস্তরের বদলে কেন্দ্রীয়ভাবে পিএসসির মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবান্ন একই পদ্ধতি পুরসভাগুলির জন্যও চাইছে বলেই আমলা মহল সূত্রে খবর। প্রসঙ্গত, বুধবার নবান্ন সভাঘরে একটি অনুষ্ঠান থেকে রাজ্য পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান অনিল ভার্মার উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় আগামী ৮ মে’র মধ্যে এক লক্ষ পদে নিয়োগ হবে। নিয়োগে বেনিয়ম হতে দেবেন না তিনি। যোগ্যরাই চাকরি পাবেন। এক্ষেত্রে পুরসভার নিয়োগও পিএসসির মাধ্যমে করানোর সিদ্ধান্ত যথেষ্ট প্রাসঙ্গিক বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, কোন পুরসভায় কতজন কর্মী অনুমোদন ছাড়া নিযুক্ত হয়েছেন, তাঁদের নিয়োগের প্রেক্ষাপট কী এবং কীভাবে এই নিয়োগ হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে ১২৬টি পুরসভাকে। কলকাতা এবং হাওড়ার ক্ষেত্রে বিষয়টি পৃথকভাবে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, পুর নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই পদক্ষেপ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। অনুমোদিত শূন্যপদে সরাসরি নিয়োগ ছাড়াও নতুন পদ সৃষ্টি এবং অপ্রয়োজনীয় পদ বিলোপ, নিয়োগ সংক্রান্ত রেজিস্টার যাচাইয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে পুরসভাগুলিকে।



