Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পর্যটকদের কাছে খেজুর গুড়ের চাহিদা ব্যাপক হঠাৎ শীত থমকে যাওয়ায় মিলছে না ভালো রস

পর্যটকদের কাছে খেজুর গুড়ের চাহিদা ব্যাপক হঠাৎ শীত থমকে যাওয়ায় মিলছে না ভালো রস
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর:  বেশিরভাগ স্কুলের পরীক্ষা শেষ। তাই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে খেজুরের গুড় বিক্রি। বিপুল পরিমাণে গুড় বিক্রি হওয়ায় খুশি ভিন জেলা থেকে আসা গুড় ব্যবসায়ী ও শিউলিরা। জানা গিয়েছে, প্রতিদিন গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে। নতুন বছরে গুড় বিক্রির পরিমাণ আরও বাড়বে। গুড় ব্যবসায়ীদের কথায়, হঠাৎই শীত কমে গিয়েছে। এছাড়াও কুয়াশা বাড়ছে। এরফলে খেজুরের রসে তার প্রভাব পড়ছে। কিন্তু বাজারে খেজুর গুড়ের চাহিদা রয়েছে। জেলায় ঘুরতে আসা পর্যটকরা গাড়ি থামিয়ে গুড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। গুড়ের দাম গত বছরের তুলনায় সামান্য বেড়েছে। 
Advertisement
এদিন কথা হচ্ছিল বাঁকুড়া জেলা থেকে আসা গুড় ব্যবসায়ী নাদির মল্লিকের সঙ্গে। তিনি বলেন, কুয়াশা খুব সমস্যা করছে। কিন্তু স্কুল বন্ধ থাকায় প্রচুর মানুষ বেড়াতে বেরচ্ছেন। তাই গুড় বিক্রি ভালোই হচ্ছে। জাতীয় সড়ক সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের থেকে প্রচুর মানুষ গুড় কিনছেন। পাইকারিতে গুড়ের দাম কিছুটা কম। 
প্রসঙ্গত, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গ্রাম ও জঙ্গলে প্রচুর পরিমাণে খেজুর গাছ আছে। প্রতিবছর শীত পড়লেই সেই গাছগুলো থেকে চলে রস সংগ্রহের কাজ। গুড় তৈরির কাজ করতে বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, দুই ২৪ পরগনা  জেলা থেকেও কারিগররা আসেন। শীত বাড়লে তাঁদের বিক্রি বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিমাণও বাড়তে থাকে। বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসের শেষ থেকে জানুয়ারি মাসের শেষ পর্যন্ত বিপুল পরিমাণে গুড় বিক্রি হয়। গড়বেতা, চন্দ্রকোনারোড, শালবনী এলাকায় সবচেয়ে বেশি গুড় তৈরি হয়। রাস্তার ধারেই খেজুর পাতা দিয়ে ব্যবসায়ীরা ঘর তৈরি করে থাকেন।  জানা গিয়েছে, খেজুরের গুড় তৈরির কারিগররা প্রথমে কমবেশি ৯০টি খেজুর গাছ সাফ করে রস সংগ্রহের উপযুক্ত করেন। তাঁরা দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ কেজি করে গুড় তৈরি করে থাকেন। গুড় প্রতি কেজিতে ৯০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি হয়। একইসঙ্গে খেজুরের রসের চাহিদা রয়েছে। শীতের সকালে সেই রস বিক্রি হয় ৪০ টাকা প্রতি গ্লাস। শীত জাঁকিয়ে পড়লে রসের পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যায়। তখন গুড় তৈরিও বেশি হয়। পাশাপাশি পাটালি গুড়ের চাহিদাও রয়েছে। রসালো গুড় তৈরির পর প্রক্রিয়াক্রমে তৈরি হয় পাটালি গুড়। 
শালবনী এলাকার গুড় বিক্রিতা আসিফ মণ্ডল বলেন, পাইকারি দামে গুড়ের চাহিদা রয়েছে। প্রচুর পরিমাণে মানুষ খাঁটি গুড় কিনে যান। কিন্তু ভোরে কুয়াশার দাপটে ব্যবসায় প্রভাব পড়ছে। গুড়ের দাম খুব বেশি বাড়েনি। এই সময় অনেকে পিঠে বানান। সামনেই পৌষ সংক্রান্তি আসছে। পিঠে বানানোর সময় অনেকেই গুড় ব্যবহার করেন। তাই বিক্রি বাড়বে। 
এদিন শালবনীতে জাতীয় সড়কের পাশে গুড় কিনতে আসেন কাঁথি শহরের বাসিন্দা প্রশান্ত সিকদার। তিনি বলেন, অফিসের পিকনিক চলছে। সেখানে গুড় নিয়ে যাব। জঙ্গলমহলের গুড়ের স্বাদ আলাদা।
সম্পর্কিত সংবাদ