Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পর্যটক সেজে হানা, চালকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর, দেওঘরের জঙ্গলে গাড়ি ছিনতাই, লুট

পর্যটক সেজে হানা, চালকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর, দেওঘরের জঙ্গলে গাড়ি ছিনতাই, লুট
  • ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পর্যটক সেজে তারাপীঠ থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঝাড়খণ্ডের দেওঘরের অদূরে জঙ্গলে লুট চালাল দুষ্কৃতীরা। চালকের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে মারধর ও স্প্রে করে চারচাকা গাড়ি, মোবাইল, টাকা‌ ছিনতাই হয়েছে। অভিযোগ, ঝাড়খণ্ড পুলিসকে জানালেও তারা গুরুত্ব দেয়নি। পরে খবর পেয়ে এখান থেকে লোকজন গিয়ে ওই চালককে উদ্ধার করে গভীর রাতে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। মঙ্গলবার গাড়ির মালিকের পক্ষ থেকে রামপুরহাট থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। পুলিস গাড়ি স্ট্যান্ডের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় আতঙ্কে ভুগছেন অন্যান্য গাড়ির চালকরা। 
Advertisement
সোমবার সকাল ৮টা নাগাদ দেওঘর যাওয়ার জন্য দুই ব্যক্তি গাড়িতে চাপে। ঝাড়খণ্ডের বাসকিনাথের কাছে তাদের পরিচিত আরও এক ব্যক্তি চাপে। দেওঘর ঢোকার আগে বাইপাস রাস্তার উপর গাড়িটি দাঁড় করায় তারা। চালকের হাতে একশো টাকা দিয়ে কিছু খেয়ে নেওয়ার কথা বলে দু’জন নেমে যায়। কিছুক্ষণ পরই তারা এসে ট্রেনের সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়ে জসিডি থেকে ১৫কিমি দূরে গ্রামের বাড়িতে নামিয়ে দেওয়ার জন্য বলে। রামপুরহাটের বগটুই গ্রামের বাসিন্দা চালক ফারাদ শেখ বলেন, ওই গ্রাম ঢোকার আগে একটা জঙ্গল রয়েছে। জঙ্গলের পরই তাদের বাড়ি বলে জানিয়েছিল। বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ জঙ্গলের রাস্তায় ঢোকার পরই পিছনের সিটে বসে থাকা দুই ব্যক্তি মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গাড়ি দাঁড় করাতে বলে। এরপর গাড়িতে কোথায় জিপিএস লাগানো আছে জানতে চায়। আমি জানি না বলায় গাড়ি থেকে আমাকে নামিয়ে শূন্যে ফায়ার করে। এরপরই মারধর করে মুখে কিছু একটা স্প্রে করে দেয়। চোখ জ্বালা করতে শুরু করে। আমি প্রাণ বাঁচাতে অজ্ঞান হওয়ার ভান করি। ওরা আমাকে গাড়িতে তুলে পকেট থেকে মোবাইল ও টাকা নিয়ে আরও কিছুটা দূরে জঙ্গলের রাস্তার ধারে ফেলে দেয়। পরে আমি কোনওরকমে হেঁটে আসতে শুরু করি। জঙ্গলে একটি পোলট্রি ফার্মে কয়েকজনকে বিষয়টি জানাই। ওরাই পুলিসকে খবর দেয়। পরে সেরাজ্যের পুলিস এলেও গুরুত্ব দেয়নি। থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ভ্যানে চাপিয়ে লাহাবন স্টেশনে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে দেওঘরে এসে একজনের ফোন থেকে মালিককে জানাই। তারপর তারাপীঠ থেকে দু’টি গাড়ি পাঠিয়ে রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ রামপুরহাট মেডিক্যালে আনা হয়।
তারাপীঠের বাসিন্দা গাড়ির মালিক কৌশিক সাহা বলেন, ফারাদ প্রায় ১৫ বছর ধরে আমার কাছে কাজ করে। খুবই বিশ্বস্ত। খবর পাওয়ামাত্রই জিপিএস ট্র্যাক করি। সন্ধ্যা নাগাদ গাড়ির সর্বশেষ লোকেশন পাওয়া গিয়েছে বিহারের মুঙ্গেরের কাছে। তারপর থেকে আর লোকেশন পাচ্ছি না। তারাপীঠের তৃণমূল নেতা সুকুমার মুখোপাধ্যায়ের মাধ্যমে সেখানকার এসপির সঙ্গে যোগাযোগ করি। অনলাইনে অভিযোগও জানিয়েছি। দেখা যাক গাড়ি ফিরে পাই কিনা। 
গাড়ির স্ট্যান্ডের অন্যান্য চালকরা বলেন, এর আগেও তিনবার এধরনের ঘটনা ঘটেছে। যাত্রী সেজে ভাড়া করে মাঝরাস্তায় চালককে মারধর করে নামিয়ে গাড়ি নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সেকারণে আতঙ্কে ভুগছি। আইএনটিটিইউসি অনুমোদিত চালক ইউনিয়নের সভাপতি প্রেমানন্দ মণ্ডল বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগের। দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি গাড়িটি উদ্ধার করতে পুলিসকে অনুরোধ করা হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ