নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: শীতের উপরেই নির্ভর করে ভালোমানের চন্দ্রমল্লিকা ফুলের চাষ। নদীয়া থেকে যা রপ্তানি হয় বিভিন্ন রাজ্য ও প্রতিবেশী কয়েকটি দেশেও। এই সময়ই কিছুটা মুনাফার মুখ দেখেন চাষিরা। কিন্তু ডিসেম্বর মাস প্রায় মধ্য গগনে। এখনও জাঁকিয়ে শীত পড়েনি এই জেলায়। এমতাবস্থায় ফুলের মান নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন ফুলচাষিরা।
Advertisement
কৃষি প্রধান নদীয়া জেলায় সব ধরনের চাষ করা হয়। যদিও তার মধ্যেই একটা বড় অংশের মানুষ নির্ভরশীল ফুলচাষের উপরে। রানাঘাট মহকুমার অন্তর্গত রানাঘাট-২ ও ১ ব্লকের বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ফুলের চাষ হয়। এখানকার মাঠে ময়দানে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের ফুল রপ্তানি হয় কলকাতা সহ রাজ্যের অন্যান্য জেলার ফুল বাজারগুলিতে। তবে লাভজনক সময় শীতকালই। কারণ চন্দ্রমল্লিকা ফুটিয়ে এই সময়তেই কিছুটা বেশি লাভের মুখ দেখেন ফুলচাষিরা। শুধুমাত্র রানাঘাট-২ ব্লকেই সব মিলিয়ে কয়েকশো হেক্টর জমিতে এই ফুলের চাষ হয়। কিন্তু তার জন্য প্রয়োজন জাঁকিয়ে শীত। কারণ ঠান্ডা যত বেশি হবে ততই এই ফুলের গুণগত মান বাড়বে। কিন্তু ক্যালেন্ডার বলছে ডিসেম্বর প্রায় মাঝামাঝি। অথচ এখনও হাড় কাঁপানো শীত ধরা দেয়নি। ফলে ফলন এবং ফুলের গুণগত মান নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা। চাষিদের দাবি, চন্দ্রমল্লিকা বিক্রি করে যেমন কিছুটা বাড়তি লাভের মুখ দেখা যায়, তেমনই এই চাষে খরচ হয় অনেক। ফলে প্রচুর টাকা ব্যয়ের পর যদি আশানুরূপ ফলন না হয় তাহলে সারা বছরের চাষে মূলধন তোলা সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। পুরাতন চাপড়ার চাষি রাজীব বিশ্বাস বলেন, শীতের একদম শুরুতে হঠাৎ বৃষ্টি হল। তাতে ইতিমধ্যেই চাষের বেশ ক্ষতি হয়েছে। এক বিঘে জমিতে চন্দ্রমল্লিকা চাষ করতে এই মুহূর্তে প্রায় ৮০ হাজার টাকা বা তারও বেশি খরচ হচ্ছে। ঠিকঠাক ফলন হলে তবেই এই টাকা তুলে আনা সম্ভব। অন্য এক চাষি রমেন বিশ্বাস বলেন, একদিকে জমিতে চাষ করে আড়াই লক্ষ টাকা বিক্রি না করতে পারলে সমস্ত খরচ চালানো যাবে না। কারণ চন্দ্রমল্লিকা ফুল বিমানে পাঠাতে হয় বিভিন্ন রাজ্যে এবং অন্যান্য দেশে। ফলে চাষের খরচ বাদ দিলেও রপ্তানির জন্য তার প্যাকিং, বরফের খরচ মিলিয়ে খরচ ভালোই দাঁড়ায়। এদিকে, জঁকিয়ে শীত না পড়লেও চাষ শুরু হয়েছে চন্দ্রমল্লিকার। এমনকী বিমানে বেঙ্গালুরু, হায়দ্রাবাদ, এলাহাবাদের মতো দেশের বিভিন্ন রাজ্যের বড় বড় শহরে রপ্তানি শুরু হয়েছে রানাঘাট থেকেই। কৃষক এবং ব্যবসায়ীরা বলছেন, নেপাল, ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলি থেকেও অর্ডার আসছে। এখন অপেক্ষা শুধু জাঁকিয়ে শীতের। তাহলেই আশানুরূপ লাভের মুখ দেখতে পারবেন তাঁরা।
-নিজস্ব চিত্র
-নিজস্ব চিত্র



