Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রত্যন্ত এলাকায় বদলি করা হবে ১০০০ স্কুল শিক্ষককে

প্রত্যন্ত এলাকায় বদলি করা হবে ১০০০ স্কুল শিক্ষককে
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: অবশেষে শিক্ষক সঙ্কট কিছুটা হলেও মিটতে চলেছে নদীয়া জেলায়। প্রায় এক হাজার জন শিক্ষককে বিভিন্ন স্কুলে বদলি করা হবে বলে শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকেও এই অনেক শিক্ষককে বদলি করে আনা হবে। জেলার প্রত্যন্ত এলাকার বহু স্কুল রয়েছে যেখানে পড়ুয়ার সংখ্যার অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা অস্বাভাবিক কম। বিশেষ করে চাপড়া ও কালীগঞ্জ ব্লকে শিক্ষকের সঙ্কট সবচেয়ে বেশি। আবার শহর ও শহরতলি এলাকার বহু স্কুলে প্রয়োজনের অতিরিক্ত শিক্ষক রয়েছেন। সেই বৈষম্য এবার দূর করতে চাইছে শিক্ষাদপ্তর।‌ বিভিন্ন স্কুলে থাকা সেই অতিরিক্ত  শিক্ষকদের এবার গ্রামের স্কুলগুলিতে বদলি করিয়ে সমস্যার সুরাহা চাইছে রাজ্য। তাতে একদিকে যেমন পড়ুয়া ও শিক্ষকভারসাম্য ফিরে আসবে তেমনইপঠন পাঠনও আরও ভালো হবে বলে মনে করছে শিক্ষক মহল। 
Advertisement
ডিআই দিব্যেন্দু পাল বলেন, ‘আদালতের সমস্যা আর নেই। অনেক স্কুলেই সারপ্লাস শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের অন্যত্র ট্রান্সফার করে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের সংখ্যা ব্যালান্স করা হবে। এর ফলে পঠন পাঠন আরও ভালো হবে।’ নদীয়া জেলার মধ্যশিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন কনভেনর শিক্ষক রমেন ঘোষ বলেন,‘যে সমস্ত স্কুলে শিক্ষকের সঙ্কট রয়েছে সেখানে জেলাজুড়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষককের বদলি হতে চলেছে।এর ফলে শিক্ষক সঙ্কটের সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।’
নদীয়া জেলায় ৬৬১টি স্কুল রয়েছে। যেখানে পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। অনেক স্কুলেই শিক্ষক সঙ্কটের কারণে পঠন পাঠন শিকেয় উঠেছে। সেই সমস্যা দূর করতে বিভিন্ন জায়গা থেকে অতিরিক্ত শিক্ষকদের বদলি করার পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। 
পড়ুয়ার সংখ্যার ভিত্তিতে স্কুলে কত জন শিক্ষক থাকবেন, তার স্পষ্ট  নির্দেশিকা তৈরি করে দিয়েছে শিক্ষা দপ্তর। একশোজন পর্যন্ত পড়ুয়া থাকা স্কুলে পাঁচ জন শিক্ষক, আড়াইশো জন পর্যন্ত পড়ুয়া থাকা স্কুলে সাতজন শিক্ষক, ৩৫০জন পর্যন্ত পড়ুয়া থাকা স্কুলে প্রধান শিক্ষক সহ ন’জন, ৪০০জন পর্যন্ত পড়ুয়া থাকা স্কুলে প্রধান শিক্ষক সহ ১১জন, ৫০০ জন পর্যন্ত পড়ুয়া থাকা স্কুলে প্রধান শিক্ষক সহ ১৩ জন শিক্ষক থাকবেন। কোনও স্কুলে এর থেকে বেশি শিক্ষক থাকলে তাঁকে সারপ্লাস শিক্ষক হিসেবে অন্যত্র বদলি করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি যে সমস্ত স্কুলে পঞ্চাশের নীচে পড়ুয়া রয়েছে সেই স্কুলগুলি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেই সমস্ত স্কুলের শিক্ষকদের অন্যত্র বদলি করিয়ে সঙ্কট মেটানো হবে। 
২০১৬ সালের পর থেকে রাজ্যজুড়ে প্রায় ৩০ হাজার শিক্ষক পছন্দের জায়গায় বদলি নেন। অধিকাংশ শিক্ষকই গ্রামের স্কুল ছেড়ে বাড়ির কাছে শহরের স্কুলে চলে আসেন। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলিতে পঠন-পাঠন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। শিক্ষক সঙ্কটে ধুঁকতে থাকে বহু স্কুল। কালীগঞ্জ, চাপড়া, তেহট্ট, করিমপুর, এই সমস্ত ব্লকের শিক্ষক সংকটের সমস্যা প্রকট। কয়েক বছর আগে রাজ্যের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়, যেসব স্কুলে সারপ্লাস শিক্ষক রয়েছেন তাঁদের অন্য স্কুলে বদলি করা হবে। শিক্ষকদের একাংশ বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করে। সুপ্রিম কোর্ট চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সেই মামলা খারিজ করে রাজ্য সরকারের হাতে যত্রতত্র বদলির ক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়। প্রতীকী ছবি
সম্পর্কিত সংবাদ