সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: অণ্ডাল থানার মদনপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বিশাল আকারের একাধিক পরিত্যক্ত কয়লা খাদানের জলাশয় অবৈধভাবে ভরাট করার অভিযোগ উঠছে এক অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, যে খনি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে জলকষ্টে জেরবার সাধারণ মানুষ। সেখানে তাঁদের রেহাই দিতে প্রশাসন ‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্পের জলের উৎস হিসেবে ওই সমস্ত জলাশয়কে বেছে নিয়েছেন ইতিমধ্যে। পাশাপাশি অবৈধ কয়লা কারবারির মামলার নিষ্পত্তি ঘটার আগেই অবৈধ খাদানের জলাশয় ভরাটের তোড়জোড় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। একটি অবৈধ খাদানের জলাশয় ভরাট নজরে পড়তেই পঞ্চায়েতের তরফে বিডিওর কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয় শুক্রবার। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর এবং পুলিস।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাম আমল থেকে চলে আসা ওই এলাকায় একাধিক অবৈধ কয়লা খনি রয়েছে। কয়লা উত্তোলনের পরে খোলামুখ ওই কোলিয়ারিগুলিতে বৃষ্টির ও ভূগর্ভের জল ভরে বিশাল আকারের জলাশয়ের রূপ নিয়েছে। ওই সমস্ত এলাকার বাসিন্দাদের পানীয় জল থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জলের ব্যাপক সঙ্কট। স্থানীয় বাসিন্দারা পথকল ও টিউবওয়েল থাকা সত্ত্বেও কুয়োর জল পান করেন। তাও আবার গ্রীষ্মকালে শুকিয়ে যায়। এলাকার মানুষ ওই সমস্ত খাদানের জল নিত্য প্রয়োজনে ও চাষবাসে ব্যবহার করে থাকেন। ইতিমধ্যেই ওই সমস্ত এলাকায় ‘জলস্বপ্ন’ প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি জলের পাইপলাইন ও কল বসেছে। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর ওই জলস্বপ্ন প্রকল্পের জলের উৎস হিসেবে পরিত্যক্ত খাদানের জলাশয়ের ওপর ভরসা করে প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করেছে। সেখানে অসাধু চক্র ডিভিসির ছাই ডাম্পারে করে এনে দিনরাত ওই জলাশয়গুলিতে ফেলে ভরাট করে চলেছে। বাবুইশোল কলোনি ও গ্রামে তেমনই দু’টি বড় বড় খাদানের জলাশয় ভরাটের কাজ চলছিল। একটি জলাশয় ভরাট করা নিয়ে এলাকাবাসী পঞ্চায়েত প্রধানকে অভিযোগ করেন। পঞ্চায়েত প্রধান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তৎক্ষণাৎ বিডিওকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। চক্রামবাটি এলাকায় একটি পরিত্যক্ত খাদানের জলাশয় পরীক্ষা করে জলস্বপ্ন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। ওই এলাকাতেও বড় আকারের একটি জলাশয় ছাই দিয়ে ভরাট করার কাজ চলছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীরা বলেন, এই জলাশয়গুলি একসময় অবৈধ খোলামুখ খাদান ছিল। কয়লাকাণ্ডে সিবিআই ও সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। তার পর থেকে প্রায় এক বছর ধরে জলাশয়গুলি ছাই দিয়ে ভরাটের কাজ চলছে। কয়লা মাফিয়া অথবা জমি মাফিয়াদের কার্যকলাপ এগুলি। ওই মাফিয়াদের সাথে রয়েছে ডিভিসির ছাই ফেলার ঠিকাদাররা। আমাদের এলাকায় জলের সমস্যা রয়েছে। এই জলাশয়গুলি আমাদের রক্ষা করে।
মদনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পার্থ দেওয়াসি বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পাওয়া মাত্র আমি বিডিওর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি। এক শ্রেণীর অসাধু চক্র এই সমস্ত কাজ করছে। অনুমান করা হচ্ছে, ডিভিসির ছাই ফেলার জন্য কেউ এই জলাশয়টি ব্যবহার করছে। বাকি যে দু’টি ভরাট হচ্ছে সেই বিষয়ে আমার জানা নেই। কয়লাকাণ্ডের বিষয়ে বলতে পারব না।
অণ্ডাল বিডিও দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ভূমি ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তর সহ পুলিসকে জানানো হয়েছে। তদন্ত চলছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক গ্রামবাসীরা বলেন, এই জলাশয়গুলি একসময় অবৈধ খোলামুখ খাদান ছিল। কয়লাকাণ্ডে সিবিআই ও সিআইডি তদন্ত শুরু করেছে। তার পর থেকে প্রায় এক বছর ধরে জলাশয়গুলি ছাই দিয়ে ভরাটের কাজ চলছে। কয়লা মাফিয়া অথবা জমি মাফিয়াদের কার্যকলাপ এগুলি। ওই মাফিয়াদের সাথে রয়েছে ডিভিসির ছাই ফেলার ঠিকাদাররা। আমাদের এলাকায় জলের সমস্যা রয়েছে। এই জলাশয়গুলি আমাদের রক্ষা করে।
মদনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পার্থ দেওয়াসি বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগ পাওয়া মাত্র আমি বিডিওর কাছে অভিযোগ দায়ের করেছি। এক শ্রেণীর অসাধু চক্র এই সমস্ত কাজ করছে। অনুমান করা হচ্ছে, ডিভিসির ছাই ফেলার জন্য কেউ এই জলাশয়টি ব্যবহার করছে। বাকি যে দু’টি ভরাট হচ্ছে সেই বিষয়ে আমার জানা নেই। কয়লাকাণ্ডের বিষয়ে বলতে পারব না।
অণ্ডাল বিডিও দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি। ভূমি ও ভূমি সংরক্ষণ দপ্তর সহ পুলিসকে জানানো হয়েছে। তদন্ত চলছে।



