Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রতিশ্রুতি মিললেও রবীন্দ্রভবন   হয়নি, চণ্ডীতলা ১ ব্লকে ক্ষোভ

প্রতিশ্রুতি মিললেও রবীন্দ্রভবন   হয়নি, চণ্ডীতলা ১ ব্লকে ক্ষোভ
  • ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: নির্বাচন আসে, নির্বাচন যায়। রবীন্দ্রভবন নিয়ে প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু কাজের কাজ কিছু হয় না। এই চিত্র হুগলির চণ্ডীতলা ১ নম্বর ব্লকের। বিগত একাধিক নির্বাচনে শাসকদলের পক্ষ থেকে রবীন্দ্রভবন বা তার মতো বড় আকারের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত তার একটি ইটও গাঁথা হয়নি। অথচ এলাকায় প্রচুর সরকারি জমি পড়ে রয়েছে। ব্লকের সাংস্কৃতিক কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে আসছে। সেই দাবি এখনও পূরণ না হওয়ায় ব্যাপক ক্ষোভ আছে তাঁদের মনে। এই সমস্যাকে অস্বীকার করছেন না তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্ব। চণ্ডীতলা ১ পঞ্চায়েত সমিতির কর্তাদের দাবি, এর জন্য বিপুল টাকা প্রয়োজন। সেই টাকা ব্লকের হাতে নেই। ফলে, জমি থাকলেও কাজ করা যাচ্ছে না।
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চণ্ডীতলা ১ নম্বর ব্লকের একাংশ পড়ে জাঙ্গিপাড়া এবং অন্য অংশ পড়ে চণ্ডীতলা বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে। এর মধ্যে জাঙ্গিপাড়ার বিধায়ক রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী। চণ্ডীতলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুপ্রাচীন। এলাকায় নাটক, নৃত্যশিল্পের সমৃদ্ধ পরিসর রয়েছে। কিন্তু এত কিছু থাকার পরেও বড়মাপের কোনও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বা রবীন্দ্রভবন নেই। সরকারি উদাসীনতাই এর একমাত্র কারণ। চণ্ডীতলা ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা মলয় খাঁ বলেন, নাগরিকদের অভিযোগ মাথা পেতে নিতে হবে। এটা সত্যি যে, বিভিন্ন নির্বাচনের আগে মানুষ আমাদের কাছে এই দাবি তোলেন। এর জন্য জমি চিহ্নিত করা হয়েছে। পরিবহণ মন্ত্রী আমাদের কিছু টাকা দেবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই প্রকল্প তৈরি করতে প্রায় কোটি টাকা প্রয়োজন। এত টাকা কোনওভাবেই জোগাড় করা যাচ্ছে না। তাও আমরা হাল ছাড়িনি। চেষ্টা চলছে। মশাটের বাসিন্দা তথা নাট্যব্যক্তিত্ব অসিত ভৌমিক বলেন, চণ্ডীতলা ব্লকে বিরাট সাংস্কৃতিক পরিসর আছে। অথচ এখানে বড়মাপের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করার প্রেক্ষাগৃহ নেই। আমি দীর্ঘদিন নাটকের সঙ্গে যুক্ত। আমাদের নাটক করতে হলে ব্লকের বাইরে যেতে হয়। বহু বছর ধরে শুনছি রবীন্দ্রভবন করা হবে। কিন্তু তার একটি ইটও গাঁথতে দেখলাম না।
পঞ্চায়েত সমিতি সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি একাধিক দপ্তরের টাকা একত্রিত করে একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তা নিয়ে প্রচারও হয়েছিল। কিন্তু শেষপর্যন্ত আইনি জটিলতায় এই প্রকল্প থমকে গিয়েছে। ফলে, রবীন্দ্রভবন না হওয়া নিয়ে মানুষের ক্ষোভ আরও বড় আকার নিয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ