Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতারকদের অ্যাকাউন্ট থেকে ট্যাবের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু পুলিসের

প্রতারকদের অ্যাকাউন্ট থেকে ট্যাবের টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু পুলিসের
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ট্যাব কেলেঙ্কারিতে যুক্ত প্রতারকদের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করল পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিস। ৩১টি অ্যাকাউন্টের টাকা তদন্তকারীরা বাজেয়াপ্ত করতে পেরেছে। সেই টাকা ফেরানোর জন্য আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতারকরা সব অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে পারেনি। অভিযোগ পাওয়ার পরই তড়িঘড়ি অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়। ওইসব অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকটি ব্যাঙ্কের শাখায় প্রতারকরা একসঙ্গে অনেকগুলি অ্যাকাউন্ট খুলেছে। সেসব অ্যাকাউন্ট নিয়ম মেনে খোলা হয়েছিল কিনা তা জানতে ব্যাঙ্কের আধিকারিকদের চিঠি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এছাড়া প্রতারকরা বেনামে বেশকিছু সিমকার্ড তুলেছিল। সেগুলিও নিয়ম মেনে বিক্রি করা হয়েছে কিনা সেটাও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছে। পূর্ব বর্ধমানে ৮৫জন পড়ুয়ার অ্যাকাউন্ট থেকে প্রতারকরা টাকা সরিয়েছিল। বৈষ্ণবনগর এবং কিষানগঞ্জে বেনামে সেই অ্যাকাউন্টগুলি খোলা হয়েছিল। অধিকাংশ অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রতারকরা টাকা তুলে নেয়। কিন্তু বেশকিছু অ্যকাউন্ট থেকে তারা টাকা তুলতে ব্যর্থ হয়। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ট্যাব কেলেঙ্কারির প্রতারণার শিকড় অনেক গভীরে রয়েছে। এখনও অনেকেই গ্রেপ্তার হতে বাকি রয়েছে। তাদের বেশিরভাগ উত্তর দিনাজপুর এবং মালদহ জেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে অনেকেই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, প্রতারকরা অত্যন্ত সহজ পদ্ধতিতে টাকা হাতিয়েছে। পোর্টাল তারা হ্যাক করতে পারেনি। সেটা হলে সব পড়ুয়ার টাকা তারা হাতিয়ে নিত। স্রেফ সহজ পদ্ধতি জেনে তারা পোর্টালে অ্যাকসেস নেয়। এই কাজে প্রতারকদের সহযোগিতা করেছিল কয়েকজন শিক্ষক এবং কর্মী। তাদের কয়েকজন গ্রেপ্তার হয়েছে। আরও কয়েকজন তদন্তকারীদের স্ক্যানারে রয়েছে। এক পুলিস আধিকারিক বলেন, প্রতারকরা সব স্কুলের পোর্টালে অ্যাকসেস নিতে পারেনি। কিছু স্কুল কর্তৃপক্ষ পোর্টালের পাসওয়ার্ড বদল করেনি। সেই সুযোগ তারা কাজে লাগায়। এই ঘটনার পর সরকারি বিভিন্ন পোর্টালের সাইবার অডিট করার পরিকল্পনা রয়েছে। কোথায় কী ফাঁক রয়েছে সেটা খতিয়ে দেখা হবে। তা না হলে আগামী দিনে এধরনের ঘটনা আরও হতে পারে। ট্যাব কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত প্রতারকরা অন্যান্য পোর্টালেও ‘অ্যাকসেস’ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। সময়মতো তাদের জালে তোলা না গেলে তারা পরবর্তী ‘অপারেশন’ এ নামত। 
পূর্ব বর্ধমান জেলা পুলিসের আর এক আধিকারিক বলেন, সাইবার প্রতারকরা আগেও ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে অ্যাকসেস নিয়েছিল। আগে তারা ব্যাপকভাবে সফল হয়নি। কিন্তু এবার তারা বাজিমাত করে দেয়। যদিও শেষ মূহূর্তে একটু ভুলের জন্য তাদের পুলিসের জালে জড়িয়ে যেতে হয়। তারা সবরকম কৌশল অবলম্বন করে ময়দানে নেমেছিল। কিন্তু একটি ফোন নম্বর তাদের সব হিসেব বদলে দেয়। পুলিস সেই নম্বর ধরেই বড় ‘ব্রেক থ্রু’ পেয়ে যায়।
সম্পর্কিত সংবাদ