Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতিমার বিসর্জনের শোভাযাত্রা ঘিরে উন্মাদনা

প্রতিমার বিসর্জনের শোভাযাত্রা ঘিরে উন্মাদনা
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: সোমবার রাতে কালী প্রতিমার বিসর্জনের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে সোনামুখীর বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। এদিন ২১টি পুজো উদ্যোক্তাদের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় উপচে পড়ে। আলোর রোশনাই আর হরেক বাদ্য বাজনার বোলে তাল মিলিয়ে বাসিন্দাদের উচ্ছ্বাস ছিল তুঙ্গে। শোভাযাত্রায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের তরফে প্রচুর পুলিস মোতায়েন করা হয়। সবকটি পুজোর বিসর্জনের শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ হতে রাত গড়িয়ে ভোর হয়ে যায়। এবার পুজোর আগে থেকেই নিষিদ্ধ বাজি ফাটানো নিয়ে প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ নেয়। প্রচুর শব্দবাজি বাজেয়াপ্ত করা হয়। এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারও করা হয়। সেই জন্য এবার সোনামুখীবাসী শব্দদানবের হাত থেকে অনেকটাই রক্ষা পেয়েছেন। তার জন্য নাগরিকরা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। 
Advertisement
সোনামুখী পুরসভার চেয়ারম্যান সন্তোষ মুখোপাধ্যায় বলেন, সোনামুখী শহরে কালী ঠাকুরের বিসর্জনের শোভাযাত্রা খুবই জাঁকজমকপূর্ণভাবে হয়। শহর ছাড়াও আশেপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মানুষজন তা দেখতে আসেন। সেই জন্য এদিন শহরের প্রধান রাস্তাগুলিতে কার্যত জনজোয়ার সৃষ্টি হয়। অধিক ভিড় সামলাতে পুলিস ও প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। প্রতিমা নিরঞ্জনের পর জলাশয় থেকে দ্রুত কাঠামো তুলে ফেলা হবে। 
বিষ্ণুপুরের এসডিপিও সুপ্রকাশ দাস বলেন, নিষিদ্ধ শব্দবাজি ফাটানো বন্ধে পুজোর আগে থেকেই পুলিস বিশেষ অভিযান চালিয়েছে। তার ফলে কালীপুজো ও বিসর্জনের শোভাযাত্রায় অন্যান্যবারের চেয়ে এবার অনেকটাই কম শব্দবাজি ফেটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিকেল থেকেই পাড়ায় পাড়ায় শোভাযাত্রা শুরু হয়। তবে সন্ধ্যার পর থেকে শহরের মেন রাস্তায় শোভাযাত্রা নিয়ে যাওয়ার জন্য পুজো উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় নামেন। হরেক রকম বাদ্যযন্ত্র ও আলোকমালা সাজিয়ে শোভাযাত্রা শুরু হয়। রথতলা থেকে চৌরাস্তা পর্যন্ত রাস্তায় পরপর বিসর্জনের শোভাযাত্রা অতিক্রম করে। মোট ২১টি প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রা শেষ হতে রাত গড়িয়ে ভোর হয়ে যায়। সোনামুখী শহর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী আমচূড়া, পাঁচাল, বলরামপুর, পাথরমোড়া, মহেশপুর, রামপুর, ধুলাই, নফরডাঙা প্রভৃতি গ্রামের বাসিন্দারা শোভাযাত্রা দেখতে আসেন। সন্ধ্যার পর প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। পুজো উদ্যোক্তারা বলেন, আজ, মঙ্গলবার সকালে শোভাযাত্রা শেষে প্রতিটি পাড়ার প্রতিমা স্থানীয় জলাশয়ে নিরঞ্জন করা হবে। দশেরপুকুর, কেওটপুকুর, কুলুপুকুর, শালি নদী, পাটারপুকুর, রানির বাঁধ, সায়েরপুকুর প্রভৃতি জলাশয়ে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। পুলিস ও পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরের চৌরাস্তায় বিসর্জনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। প্রথমে বড় কালী যাওয়ার পর পর্যায়ক্রমে বাকি ২০টি প্রতিমা শোভাযাত্রা সহকারে যায়। শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত পুলিস মোতায়েন ছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ