সংবাদদাতা, ঘাটাল: মাতৃগর্ভে মাত্র সাত মাস থাকার পরই জন্ম। জন্মের পর থেকেই তাদের জীবন ছিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, কিন্তু সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই দাসপুর থানার রাধাকান্তপুর হাইস্কুলের ট্রিপলেট সহোদর প্রত্যুষ, প্রিয়ম এবং পিউস মণ্ডল এবার একসঙ্গে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছে। প্রতিকূলতাকে জয় করে তারা এই বিশেষ মুহূর্তে পৌঁছে বেজায় খুশি। শুধু তারা নয়, পরিবার, প্রতিবেশী সবাই আনন্দিত। তিনপুত্রের বাবার নাম আলোক মণ্ডল। তিনি বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটা ব্যবসা চালান। মা রীতা মণ্ডল গৃহবধূ। দুই মেয়ে প্রীতি ও পূর্বার পরই একই দিনে তিন পুত্রের জন্ম হয়। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে পাঁচ-সাত মিনিট অন্তর তিন ভাইয়ের জন্ম হয় ঘাটাল মহকুমা হাসপাতালে। প্রিম্যাচিওরড্ হওয়ার কারণে জন্মের পরই তাদের শারীরিক জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। এক মাসেরও বেশি সময় পূর্ব মেদিনীপুরের কোঘাটালের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রেখে তাদের চিকিৎসা করানো হয়। আলোকবাবু বলেন, সেই সময় আমাদের রাতের ঘুম চলে গিয়েছিল। একসঙ্গে তিনটি শিশুকে সুস্থ করা ছিল তাঁদের কাছে মস্তবড় চ্যালেঞ্জ। তবে এখন তিনভাই সম্পূর্ণ সুস্থ এবং স্বাভাবিক। তিনজন একসঙ্গে টিউশনে যায়, বাড়িতে প্রাইভেট টিউটরের কাছে পড়াশোনা করে। এমনকী খেলাধুলোও করে একসঙ্গে। কিছু দিন আগে পর্যন্তও তিন ভাইয়ের মধ্যে ‘দক্ষযজ্ঞ’ বেধে যেত। তখন বাড়ির লোকেরা ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতেন। যত বড় হচ্ছে তত তাদের মধ্যে বন্ধুত্ব বাড়ছে। এক জনের সমস্যায় অন্যরা এগিয়ে আসে।
Advertisement
রীতাদেবী বলেন, তিন জন একই রকম দেখতে না হলেও, পছন্দ, ভালোলাগা সবই প্রায় এক। খাবার পছন্দও প্রায় এক ধরনের। তবে মেজো ছেলে মাছ একেবারেই পছন্দ করে না। কিন্তু তিন জনেরই মাংস, ডিম ও বিরিয়ানি খুবই প্রিয়। তিন জন একে অপরকে ছাড়া থাকতে পারে না। সময় পেলে মায়ের মোবাইল নিয়ে একই সঙ্গে গেম খেলে। তিন ভাইয়ের সিট পড়েছে সাগরপুর স্যার আশুতোষ হাইস্কুলে। জীবনের এই প্রথম বড় পরীক্ষা নিয়ে তাদের উৎসাহ তুঙ্গে। কিন্তু ভবিষ্যতে তারা কী হতে চায়, সে বিষয়ে এখনও মনস্থির করতে পারেনি।-নিজস্ব চিত্র



