নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: প্রাথমিক স্তরের রাজ্য ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে তাক লাগাল গোঘাটের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী তৃষা মুর্মু। গোঘাটের শ্যাওড়াগেড়িয়া আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ে সে। পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনীতে অনুষ্ঠিত রাজ্য স্তরের প্রতিযোগিতায় হাই জাম্পে তৃষা প্রথম স্থান অধিকার করে গোঘাট তথা হুগলি জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে। রবিবার তৃষা ট্রেন থেকে গোঘাট স্টেশনে নামলে সেখান থেকে সংবর্ধনা দিয়ে গ্রামে নিয়ে আসেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা। আদিবাসীদের রীতি অনুয়ায়ী স্টেশন চত্বরেই ধামসা, মাদল বাজিয়ে তাকে স্বাগত জানানো হয়। আদিবাসী নৃত্যের মাধ্যমেও কুর্নিশ জানানো হয় তৃষাকে। পরে গ্রামে গিয়েও নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাসিন্দারা তৃষাকে সম্মান জানায়। তার সাফল্যে উচ্ছ্বসিত স্কুলের শিক্ষকরাও। এদিন তৃষাকে গোঘাট স্টেশনে আনতে যান গ্রামবাসীদের পাশাপাশি গোঘাট-২ পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ দেবাশিস দত্ত, শ্যামবাজার পঞ্চায়েতের প্রধান প্রভাত গোস্বামী, তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সৌমেন দিগার প্রমুখ।
Advertisement
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিকের ‘খ’ বিভাগে হাই জাম্পে অংশ নেয় তৃষা। তার বাবা সোমাই মুর্মু খেতমজুর। মা স্থানীয় অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সহায়িকা। তার এক দিদিও রয়েছে। স্কুলে ভর্তির পর থেকেই খেলাধূলোয় সম্ভাবনা দেখতে পান শিক্ষকরা। সেইমতো গত বছরও সে স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সাফল্য পায়। এবার সে সার্কেল থেকে জেলা স্তরের প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে রাজ্যে খেলার সুযোগ পায়। শালবনীর নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু ক্রীড়াঙ্গনে গত দুদিন ধরে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। তৃষা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হাই জাম্পে ১.১৪ মিটার টপকে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
তৃষার বাবা বলেন, মেয়ের সাফল্যে ভালোই লাগছে। শিক্ষকরাই ওকে তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতে সে খেলাধূলো নিয়ে এগিয়ে যাক সেটাই চাই। কিন্তু তারজন্য অনেক খরচ। আমাদের যা রোজগার তা দিয়ে তার খরচ জোগানো সম্ভব নয়। সরকারিভাবে সাহায্য পেলে ভালো হয়।
পঞ্চায়েতের প্রধান বলেন, তৃষা এলাকার গর্ব। তার ভবিষ্যৎ পড়াশোনার দায়িত্ব পঞ্চায়েত বহন করবে। অন্যান্য স্কুলের ছাত্রছাত্রীরাও যাতে এভাবে এগিয়ে আসতে পারে সেই আশা রাখছি। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রণজিৎকুমার ভট্টাচার্য বলেন, তৃষার সাফল্যে আমরা গর্বিত। তবে এই স্কুলের পরিকাঠামো তৈরিতে সরকারি অনুদান পেলে ভালো হয়। তৃষার বাবা বলেন, মেয়ের সাফল্যে ভালোই লাগছে। শিক্ষকরাই ওকে তৈরি করেছেন। ভবিষ্যতে সে খেলাধূলো নিয়ে এগিয়ে যাক সেটাই চাই। কিন্তু তারজন্য অনেক খরচ। আমাদের যা রোজগার তা দিয়ে তার খরচ জোগানো সম্ভব নয়। সরকারিভাবে সাহায্য পেলে ভালো হয়।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃষার স্কুলে প্রশিক্ষণের তেমন পরিকাঠামো নেই। তাই বাসিন্দাদের ব্যবহৃত শতরঞ্জি, স্পঞ্জ দিয়ে হাই জাম্পের অস্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলে স্কুল কর্তৃপক্ষ। প্রতিযোগিতার আগে তাতেই প্র্যাকটিস করে সে। তাতে চোট পাওয়ার ঝুঁকি ছিল। কিন্তু তারমধ্যেই সে নিজেকে তৈরি করেছে। স্কুলের এক সহ শিক্ষক আশিসকুমার খাঁ বলেন, তৃষাকে দক্ষ করতে স্কুলের প্রাক্তনীদের সঙ্গে খেলানো হতো। স্কুল ছুটির পর নিয়মিত আমরা প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তাই রাজ্য স্তরে তার এমন সাফল্য এসেছে। ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ওকে সারা বছর প্র্যাকটিসের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তৃষা মুর্মুকে গোঘাট স্টেশনে সংবর্ধনা। -নিজস্ব চিত্র



