Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রাথমিক সমীক্ষায় বাতিল তালিকা ফের খতিয়ে দেখতে সুপার চেকিং

প্রাথমিক সমীক্ষায় বাতিল তালিকা ফের খতিয়ে দেখতে সুপার চেকিং
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: বাংলা আবাসের প্রাপকদের চূড়ান্ত তালিকা নিশ্চিত করতে সুপার চেকিংয়ে নামছে হুগলি জেলা প্রশাসন। আরামবাগ মহকুমা সহ হুগলি জেলায় প্রায় দেড় লক্ষেরও বেশি বাড়িতে সুপার চেকিং করা হবে। আগামী ৫ ও ৬ নভেম্বর জেলা প্রশাসনের অফিসাররা সেই সুপার চেকিং করবেন। প্রাথমিক সমীক্ষায় বাতিল হওয়া তালিকা আরও গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখতে হবে বলেও প্রশাসন নির্দেশ দিয়েছে। শনিবার হুগলি জেলা প্রশাসন এই ব্যাপারে একটি ভার্চুয়াল মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেছে। সুপার চেকিংয়ের জন্য ব্লক স্তরে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের বাড়তি দায়িত্বও দিয়েছে প্রশাসন। তাঁরা ফের বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রাপকদের অবস্থান খতিয়ে দেখবেন। 
Advertisement
হুগলি জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আবাস প্লাসে প্রায় একলক্ষ ৬৪ হাজার বাড়ির প্রাথমিক সমীক্ষা জেলায় সম্পন্ন হবে। তবে এখনও পর্যন্ত প্রায় এক লক্ষ ২০ হাজার বাড়িতে প্রাথমিক সমীক্ষা হয়েছে। তার ভিত্তিতে প্রায় ২৫ শতাংশ প্রাপককে সম্ভাব্য বাতিল হিসেবে ধরা হয়েছে। এবার জেলাজুড়ে তালিকায় থাকা সমস্ত বাড়িই ফের চেকিং করবেন সিনিয়র অফিসাররা। সম্ভাব্য বাতিল হওয়া বাড়িগুলিও খতিয়ে দেখা হবে। তালিকা থেকে বাতিল হওয়া নাম চেক করে পুনরায় প্রাপক হিসেবেও মান্যতা দেওয়া হতে পারে। কিন্তু নতুন করে কারও নাম সংযুক্ত হবে না। বৈঠকে এই সংক্রান্ত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিভিন্ন ব্লক ইতিমধ্যেই সুপার চেকিং শুরু করে দিয়েছে। আগামী মঙ্গল ও বুধবার শীর্ষ অফিসাররা চেকিং করবেন। 
উল্লেখ্য, আবাস যোজনায় কেন্দ্র বরাদ্দ দেওয়া বন্ধ করেছে বলে অভিযোগ। তাই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন বাড়ি তৈরিতে আর্থিক সাহায্য তাঁর সরকারই দেবে। আগামী ডিসেম্বর মাসে তার প্রথম কিস্তির টাকাও দেওয়া হতে পারে। সেইজন্য প্রশাসনের অন্দরে চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে আরামবাগ মহকুমা সহ হুগলি জেলায় প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ শেষ হয়েছে। তার ভিত্তিতে সুপার চেকিংয়ে নামছে প্রশাসন। আগামী ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত তা চলবে। প্রত্যেক ব্লকের সঙ্গে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটদের ট্যাগ করা হয়েছে। তাঁরা প্রাপকদের বাড়ি বাড়ি সমীক্ষা করবেন। 
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ মহকুমার ছ’টি ব্লকেই ৫০ হাজারের কাছাকাছি প্রাপকের তালিকা রয়েছে। তারসঙ্গে বন্যা পরিস্থিতিতে বহু পাকা ও কাঁচা বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেইসব ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সমীক্ষাও করছে প্রশাসন। এছাড়া যাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীতে ফোন করে আবাসের জন্য আবেদন করেছিলেন সেইসব উপভোক্তাদের অবস্থানও খতিয়ে দেখছে প্রশাসন। 
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে আবাস প্লাসের সমীক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আরামবাগ ও গোঘাট ২ ব্লকের বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অনেক অবস্থাপন্ন ব্যক্তির বাড়ির সমীক্ষা হয়েছে। অথচ প্রকৃত গরিবরা বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রশাসন অবশ্য আশ্বস্ত করেছে, যোগ্যরাই বাড়ির জন্য আর্থিক সাহায্য পাবেন। এরজন্য কিছু ক্ষেত্রে পুলিসও তালিকা খতিয়ে দেখছে। তবে আবাস নিয়ে রাজনৈতিক তরজাও হচ্ছে আরামবাগে। 
বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, এখনও যা খবর পেয়েছি তাতে আবাসের সমীক্ষা ত্রুটিপূর্ণ। বেছে বেছে তৃণমূল নেতাদের বাড়ির সমীক্ষা করা হয়েছে। এই প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে চায় না রাজ্য। 
পাল্টা তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী বলেন, বিজেপি ভোটে হেরে যাওয়ায় বাংলার জন্য আবাসের বরাদ্দ বন্ধ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে স্বচ্ছভাবেই আবাসের সমীক্ষা হচ্ছে। দলমত নির্বিশেষে প্রকৃত দরিদ্ররাই বাড়ি পাবেন। 
সম্পর্কিত সংবাদ