নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে স্বজনপোষণের ঘটনায় হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের কাছ থেকে হলফনামা চেয়েছেন। ২০১২ সালে এই জেলায় ৩৯২৪ জন প্রাথমিক শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ হয়েছিল। শিক্ষক নিয়োগের সিলেকশন কমিটির একাধিক সদস্যর ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূ চাকরি পান। হাইকোর্টের নির্দেশে স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সচিব তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দেন। তাতে স্বজনপোষণের কথা স্বীকার করা হয়। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে ওই মামলার শুনানি ছিল। সেখানে জেলা প্রশাসন নিয়োগ সংক্রান্ত নথি পেশ করে। শুনানিতে জেলা বিদ্যালয় সংসদ জানায়, পরিবারের সদস্যরা চাকরিপ্রার্থী থাকায় সিলেকশন কমিটির ওইসব সদস্য ইন্টারভিউ বোর্ডে ছিলেন না। এনিয়ে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ অফিসে মিটিংয়ে রেজ্যুলেশনও হয়েছিল। এরপরই হাইকোর্ট ওই সংক্রান্ত হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
Advertisement
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ২০১২ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ মামলায় হাইকোর্ট হলফনামা চেয়েছে। নির্দেশমতো আমরা তা জমা করব।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় ৪০০০ শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের সন্ধিক্ষণে তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বাধায় বাম সরকার ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি। ২০১১ সালে পালাবদলের পর দু’বছর আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হয়। তবে, নিয়োগ ঘিরে বিস্তর স্বজনপোষণের অভিযোগ ওঠে। সেই স্বজনপোষণে সিলেকশন কমিটির সদস্য থেকে ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্য এমনকী বহু নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। ২০১৩ সালে এনিয়ে মামলা হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা সেই মামলায় স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সচিবকে তদন্ত করতে বলা হয়। পাশাপাশি ওইবছর নিযুক্ত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ২০২৩ সালে মুচলেকা দিতে হয়েছে।
সম্প্রতি কাঁথির মৃণালকান্তি মাইতি স্বজনপোষণ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। গত ১৭ ডিসেম্বর সেই মামলায় বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত সব নথি জেলাশাসককে হেফাজতে নিতে নির্দেশ দেয়। ১৯ তারিখ শুনানিতে সেইসব নথি জমা করারও নির্দেশ দিয়েছিল। সেইমতো বৃহস্পতিবার মামলার দীর্ঘ শুনানি হয়। সেখানে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদকে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিতর্কের সূত্রপাত তৎকালীন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি গোপালচন্দ্র সাউ এবং সিলেকশন কমিটির সদস্য মামুদ হোসেনকে নিয়ে। গোপালচন্দ্রবাবুর পুত্রবধূ এবং তৎকালীন জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি তথা সিলেকশন কমিটির সদস্য মামুদ হোসেনের ছেলে, মেয়ে এবং মেয়ের ননদ নিয়োগপত্র পান। নিয়োগ সংক্রান্ত চূড়ান্ত কমিটিতে থেকেও বাড়ির সদস্যরা চাকরি পাওয়ার বিষয়টি আশ্চর্যজনক। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
২০১২ সালে ওই নিয়োগের সিলেকশন কমিটিতে ১১ জন এবং ৩৫জনের ইন্টারভিউ বোর্ড গড়া হয়েছিল। আগেই ওই মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সিলেকশন কমিটি এবং ইন্টারভিউ বোর্ডে হাজির থাকা ৩৫ জনের হলফনামা পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে তাঁরা হলফনামা জমা করেছেন। ওই বছর শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ওই দুই কমিটির কোনও সদস্যের আত্মীয় নন, এই মর্মে মুচলেকা জমা করেছেন। এবার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের হলফনামা জমা দেওয়ার পালা। শেষমেশ এই মামলায় কী রায় হয় সেদিকে তাকিয়ে সবপক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রায় ৪০০০ শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল। রাজ্যে পালাবদলের সন্ধিক্ষণে তৎকালীন বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের বাধায় বাম সরকার ওই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেনি। ২০১১ সালে পালাবদলের পর দু’বছর আগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই জেলায় প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ হয়। তবে, নিয়োগ ঘিরে বিস্তর স্বজনপোষণের অভিযোগ ওঠে। সেই স্বজনপোষণে সিলেকশন কমিটির সদস্য থেকে ইন্টারভিউ বোর্ডের সদস্য এমনকী বহু নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ ওঠে। ২০১৩ সালে এনিয়ে মামলা হয়। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে চলা সেই মামলায় স্কুলশিক্ষা দপ্তরের সচিবকে তদন্ত করতে বলা হয়। পাশাপাশি ওইবছর নিযুক্ত সকল শিক্ষক-শিক্ষিকাকে ২০২৩ সালে মুচলেকা দিতে হয়েছে।
সম্প্রতি কাঁথির মৃণালকান্তি মাইতি স্বজনপোষণ নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করেন। গত ১৭ ডিসেম্বর সেই মামলায় বিচারপতি নিয়োগ সংক্রান্ত সব নথি জেলাশাসককে হেফাজতে নিতে নির্দেশ দেয়। ১৯ তারিখ শুনানিতে সেইসব নথি জমা করারও নির্দেশ দিয়েছিল। সেইমতো বৃহস্পতিবার মামলার দীর্ঘ শুনানি হয়। সেখানে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদকে হলফনামা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিতর্কের সূত্রপাত তৎকালীন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি গোপালচন্দ্র সাউ এবং সিলেকশন কমিটির সদস্য মামুদ হোসেনকে নিয়ে। গোপালচন্দ্রবাবুর পুত্রবধূ এবং তৎকালীন জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি তথা সিলেকশন কমিটির সদস্য মামুদ হোসেনের ছেলে, মেয়ে এবং মেয়ের ননদ নিয়োগপত্র পান। নিয়োগ সংক্রান্ত চূড়ান্ত কমিটিতে থেকেও বাড়ির সদস্যরা চাকরি পাওয়ার বিষয়টি আশ্চর্যজনক। তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে।
২০১২ সালে ওই নিয়োগের সিলেকশন কমিটিতে ১১ জন এবং ৩৫জনের ইন্টারভিউ বোর্ড গড়া হয়েছিল। আগেই ওই মামলায় বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সিলেকশন কমিটি এবং ইন্টারভিউ বোর্ডে হাজির থাকা ৩৫ জনের হলফনামা পেশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ২০২৩ সালে তাঁরা হলফনামা জমা করেছেন। ওই বছর শিক্ষক-শিক্ষিকারাও ওই দুই কমিটির কোনও সদস্যের আত্মীয় নন, এই মর্মে মুচলেকা জমা করেছেন। এবার জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের হলফনামা জমা দেওয়ার পালা। শেষমেশ এই মামলায় কী রায় হয় সেদিকে তাকিয়ে সবপক্ষ।



