Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রাথমিক পড়ুয়াদের মানোন্নয়ন ও মানসিক বিকাশে হলিস্টিক প্রোগ্রেস রিপোর্ট কার্ড

প্রাথমিক পড়ুয়াদের মানোন্নয়ন ও মানসিক বিকাশে হলিস্টিক প্রোগ্রেস রিপোর্ট কার্ড
  • ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: প্রাথমিকের পড়ুয়াদের ভিত মজবুত করে মানোন্নয়ন করার প্রক্রিয়া শুরু হল। মুর্শিদাবাদ জেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের হলিস্টিক প্রোগ্রেস রিপোর্ট কার্ড তৈরি করা হবে। নতুন এই রিপোর্টে পড়ুয়াদের শিক্ষার পাশাপাশি মানসিক ও বৌদ্ধিক চেতনার কতটা বিকাশ হচ্ছে, সে ব্যাপারে মূল্যায়ন করা হবে। শুক্রবার ও শনিবার বহরমপুরের পঞ্চাননতলায় জেলা পরিষদের কমিউনিটি হলে মুর্শিদাবাদ ডিস্ট্রিক্ট প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিল ও প্রাথমিকের ডিআইয়ের তরফে একটি ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়। সেখানে দু’দিনে চারটি শিফটে ৩১৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কীভাবে তাঁরা পড়ুয়াদের মূল্যায়ন করবে, তা ধারাবাহিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হয়। প্রাথমিকের পড়ুয়ারা কতটা শিখছে এবং সেই শেখা থেকে তাদের চেতনা বাড়ছে কি না এই রিপোর্টে তা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। পড়াশোনার পাশাপশি, পড়ুয়াদের সততার দিকটিও বিবেচনা করা হবে। পড়ুয়ারা শ্রদ্ধাশীল হচ্ছে কি না এবং তার নেতৃত্বে দেওয়ার ক্ষমতা আছে কি না, তাও বিচার্য হবে রিপোর্টে। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য এই হলিস্টিক প্রোগ্রেস রিপোর্ট কার্ড আগামী দিনে ব্যাপক গুরুত্ব পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে। 
Advertisement
ডিপিএসসি’র চেয়ারম্যান আশিস মার্জিত বলেন, দু’দিন ব্যাপী জেলাস্তরের ওরিয়েন্টেশন ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে। ৩১৮২টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে এই ক্যাম্প হল। দু’দিনে মোট চারটি শিফটে এই শিক্ষকদের অবগত করা হল। অনলাইন ও অফলাইনে এই হলিস্টিক রিপোর্ট কার্ডের মাধ্যমে জানা যাবে, পড়ুয়াদের অবস্থা। স্থানীয় পরিবেশ, পারিপার্শ্বিক ব্যবস্থার মাধ্যমে পড়ুয়ারা কতটা শিখছে, তার মূল্যায়ন যথার্থভাবে করতে হবে। পড়ুয়াদের ভিত আরও মজবুত করতে হবে। তাই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এই উদ্যোগ নিয়ে রাজ্যের প্রতিটি জেলায় এই ক্যাম্পের আয়োজন করতে বলেছেন। আমাদের জেলায় প্রায় ১০০ শতাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা উপস্থিত হয়েছেন। আন্তরিকভাবে তাঁরা শিখলেন। এর ফলে প্রাথমিকস্তরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নতি হবে এবং পড়ুয়াদের মানোন্নয়ন ঘটবে।  
প্রাথমিকের ডিআই অপর্ণা মণ্ডল বলেন, হলিস্টিক প্রোগ্রেস রিপোর্ট কার্ড একটা বড় বিষয়। পড়ুয়াদের সার্বিক মূল্যায়ন করতে হবে এই রিপোর্টে। শিশুর বৌদ্ধিক বিকাশ ও মানসিক বিকাশ হচ্ছে কি না সেটা আমাদের দেখতে হবে। এর মাধ্যমে আমরা নিজেদের কাজকর্মের নিয়মিত মূল্যায়ন করতে পারব। আমরা কতটা ভালো কাজ করতে পারছি তার মূল্যায়নের সার্টিফিকেট আমরা তখন পাব, যখন পড়ুয়ারা সফলতা পাবে। 
এদিন যে সমস্ত প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক-শিক্ষিকারা এই ক্যাম্পে অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা যাতে প্রত্যেকে নিজের বিদ্যালয় ফিরে গিয়ে সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এই রিপোর্ট কার্ড তৈরির ব্যাপারে শিখিয়ে দেন। এদিন সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক স্কুলে প্রথমে শিক্ষকরা একত্রিত হয়ে বসে একটা বৈঠক করে নিয়ে অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করার কথাও বলা হয়েছে। প্রত্যেক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নতুন নতুন ভাবনাচিন্তা করে কীভাবে পড়ুয়াদের সার্বিক বিকাশ ঘটানো যায় এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। 
অপর্ণাদেবী আরও বলেন, রাজ্যের শিক্ষাদপ্তর চাইছে কীভাবে একটা সুন্দর পরিবেশে শিক্ষার্থীরা ভালো পঠনপাঠন করতে পারে। সেজন্য এই রিপোর্ট কার্ড তৈরি।
সম্পর্কিত সংবাদ