Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াকে পিছন থেকে ‘চড়’ শিক্ষকের

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়াকে পিছন থেকে ‘চড়’ শিক্ষকের
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: হরিহরপাড়ার রায়পুরে গণেশ নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ছাত্রকে সজোরে চর মারার ঘটনার প্রতিবাদে চাঞ্চল্য ছড়াল। জানা গিয়েছে, গত ৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রধান শিক্ষক পিছন দিক থেকে প্রাক প্রাথমিকের ওই পড়ুয়াকে সপাটে চড় মারেন। চড় খেয়ে ওই পড়ুয়া মুখ থুবড়ে পড়ে যায়। তার কপালে এবং মুখে গুরুতর আঘাত লাগে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সোমবার বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে যান অভিভাবকরা। প্রধান শিক্ষক এদিন অভিভাবকদের নিয়ে আলোচনায় বিষয়টি মিটমাট করে নেন। তবে, পড়ুয়াকে মারার ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার বিস্তারিতভাবে খোঁজ নেন জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক। হরিহরপাড়ার এসআইয়ের কাছে ঘটনা নিয়ে বিবৃতি চাওয়া হয়। এসআইয়ের তরফ থেকে এদিনই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে ফোন করে এই ঘটনার ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। 
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে গ্রামবাসীদের একটি শান্তি বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে বিষয়টি মিটমাট হয়ে যায়। আগামীতে যাতে কোনও পড়ুয়ার গায়ে হাত দেওয়ার আগে শিক্ষকরা একটু ভাবেন, এদিন সেই আবেদনও করা হয়েছে অভিভাবকদের তরফ থেকে। 
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিদর্শক অপর্ণা মণ্ডল বলেন, লিখিতভাবে আমার কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি। তবে আমি এসআইয়ের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জেনেছি। গণেশ নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ছাত্রকে মারধর করা হয়েছিল। পরে শিক্ষকরা অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক করে বিষয়টি মিটিয়ে নিয়েছেন। ফিজিক্যাল পানিশমেন্ট নিয়ে শিক্ষকরা সবাই সবকিছু জানেন। সেটাকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিঙ্কর মণ্ডল বলেন, এসআই ম্যাডাম আমাকে ফোন করেছিলেন। আমি সম্পূর্ণ ঘটনা তাঁকে জানিয়েছি। আজকে পড়ুয়ার অভিভাবকদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ বৈঠক হয়েছে। কোনও অভিযোগ তাঁদের নেই। গ্রামের লোকজন খুবই ভালো। গ্রামের লোকেরাই বিষয়টি মিটিয়ে দিয়েছেন। 
ওই পড়ুয়ার বাবা মিজাউর শেখ বলেন, আজকের বৈঠক ভালোভাবে হয়েছে। সমস্যা মিটমাট করে নেওয়া হয়েছে। বাচ্চাদের আর মারধর করা হবে না বলে শিক্ষকরা জানিয়েছেন। আমার ছেলে এখন অনেকটাই সুস্থ। 
ওই পড়ুয়ার দাদু বলেন, একটা বাজে ঘটনা ঘটে গিয়েছিল। আমার নাতির খুবই লেগেছিল। আমরা নিজেরা খরচ করে চিকিৎসা করেছি। ঠোঁটের কাটাটা এখনও আছে। আমরা চাই না এটা নিয়ে আর কিছু সমস্যা বাড়ুক। সবাই ভালোভাবে পড়াশোনা করে বড় হোক, সেটাই তো চাইব। আজ আমরা বৈঠক করে বিষয়টি মেটালাম।
জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ সফিউজ্জামান শেখ বলেন, ছাত্রছাত্রীদের কোনও অবস্থাতেই মারা উচিত নয়। শিক্ষক শিক্ষিকারা অনেক সময় পড়ুয়াদের ভালো চাইতে গিয়ে, একটু শাসন করতে যান। তাতে হয়তো ক্ষতি হয়ে যায় অনেকের। সেটা খেয়াল রাখা উচিত শিক্ষক শিক্ষিকাদের। ছাত্রদের প্রতি স্নেহ ভালোবাসা দেখানো উচিত। সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, কাউকে শারীরিক হেনস্তা করা যাবে না। ঘটনা যা ঘটেছে সেটা দুর্ভাগ্যজনক। এখন শিক্ষক যদি ক্ষমা চেয়ে নেন, তাহলে বিষয়টি একদম মিটিয়ে নেওয়া উচিত। বরং পরে যাতে এই ঘটনা না ঘটে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ