Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রথমদিনই থমকাল ধান কেনার প্রক্রিয়া

প্রথমদিনই থমকাল ধান কেনার প্রক্রিয়া
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত। তার ফলে প্রথম দিনই সহায়ক মূল্যে ধান কেনার প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়ল। সিপিসিতে (ক্রপ প্রকিউরমেন্ট সেন্টার) ধান বিক্রি করতে এসে বহু চাষি হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। যদিও সোমবার ধান কেনা সম্ভব হবে না বলে সরকারিভাবে চাষিদের আগাম সূচনা দেওয়া হয়েছিল বলে দপ্তরের দাবি। যাঁরা সরকারি বিজ্ঞপ্তি জানতে পারেননি কেবলমাত্র সেই চাষিদের ফিরে যেতে হয়েছে। কবে থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা শুরু হবে এখনই জানা যায়নি। খাদ্যদপ্তরের জেলা আধিকারিক সুদীপ্ত সামন্ত বলেন, সোমবার থেকে ধান ক্রয় শুরু হবে বলে সব ব্যবস্থা পাকা করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু জেলায় এই মুহূর্তে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট দিনেও ধান ক্রয় সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার সকাল ৮টার পর ইন্টারনেট পরিষেবা স্বাভাবিক হবে বলেই আপাতত নির্দেশিকা জারি রয়েছে। তবে সে সময়ও বাড়তে পারে। নেট পরিষেবা স্বাভাবিক হলেই ধান কেনা শুরু হবে।
Advertisement
রাজ্যজুড়ে ২ নভেম্বর থেকে সহায়ক মূল্যে ধান কেনা শুরু হয়েছে। কিন্তু মুর্শিদাবাদে এবার ওই সময়ে আমন ধান মাঠ থেকে উঠতে শুরু করেনি। যার জন্য সহায়ক মূল্যে ধান ক্রয়ের দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মুর্শিদাবাদে ১৮ নভেম্বর থেকে ধান ক্রয়ের কথা ছিল। কিন্তু ১৭ নভেম্বর থেকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ কারণে সমস্ত ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। আর তার জেরেই প্রথম দিনেই সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান কেনার প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়েছে।
ধান ক্রয় কেন্দ্রগুলি বন্ধ থাকবে এমন আগাম সূচনা না মেলায় বহু চাষি সোমবার সকাল থেকে ধান বিক্রির জন্য হাজির হতে শুরু করেন। তাঁরা ধান ক্রয় কেন্দ্রে এসেই সমস্যার কথা জানতে পারেন। কার্যত হতাশ হয়েই তাঁরা ফিরে যান। সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রির জন্য ডাকবাংলা সিপিসিতে এসেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তিনি বলেন, প্রায় দশদিন আগে ধান ঝেড়ে ঘরে মজুত করেছি। প্রথম দিন বিক্রি করব বলে আজ মাঠের কাজেও যাইনি। এদিকে দু’জন লেবারের খরচা অহেতুক বহন করতে হল। কার্তিক সাহা বলেন, আজ ধান কেনা হবে না, সেটা আগাম মাইকিং করে জানিয়ে দেওয়া উচিত ছিল। সরকারিভাবে তা না করায় অহেতুক হয়রানি ও খরচা দুটোই হল। কবে থেকে ধান কেনা হবে, তাও জানা গেল না।
এবার মুর্শিদাবাদে সহায়ক মূল্যে ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ৬ লক্ষ ২২ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর অপেক্ষা এবার ১৫টি সিপিসি বাড়িয়ে ৬০টি করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সমবায় সমিতি ও গোষ্ঠী মিলিয়ে আরও দুশোটি কেন্দ্র থেকে ধান কেনা হবে। ২ হাজার ৩০০ টাকা কুইন্টাল হিসাবে সহায়ক মূল্য ধার্য্য করা হয়েছে। এর বাইরে চাষিদের কুইন্টাল প্রতি ২০ টাকা ইনসেন্টিভ দেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ