বেঙ্গালুরু: সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পর দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে ‘সম্মানের সঙ্গে মৃত্যু’র অধিকারে স্বীকৃতি দিল কর্ণাটক। বৃহস্পতিবারই এসংক্রান্ত ঐতিহাসিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সিদ্ধারামাইয়া সরকার। জানা গিয়েছে, লাইফ সাপোর্টে এমন অনেক শয্যাশায়ী রোগী রয়েছেন, যাঁদের সুস্থ হয়ে ওঠার কোনও সম্ভাবনা নেই। সেক্ষেত্রে মরণাপন্ন ওই রোগীদের সম্মানের সঙ্গে মৃত্যু বা স্বেচ্ছামৃত্যুর সুযোগ দেওয়া হোক। দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি উঠেছে। বিশ্বের একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই একে সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে এই দাবিতে। সবদিক খতিয়ে দেখে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে সায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টও। শীর্ষ আদালত জানিয়েছিল, এই ধরনের ঘটনায় দু’টি আলাদা বোর্ড থাকবে। একটি হাসপাতাল স্তরে। অন্যটি জেলাস্তরে। জেলার ওই কমিটি বা বোর্ডের দায়িত্বে থাকবেন জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক বা তাঁর মনোনিত কোনও আধিকারিক। দু’টি বোর্ড সম্মিলিতভাবে এসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
Advertisement
দীর্ঘদিন ধরে ‘সম্মানজনক মৃত্যু’র দাবিতে আন্দোলন করছেন মুম্বইয়ের পিডি হিন্দুজা ন্যাশনাল হাসপাতাল অ্যান্ড মেডিক্যাল রিসার্চ সেন্টারের নিউরোলজিস্ট ডাঃ রূপ গুরসাহানি। তিনি জানিয়েছেন, দেশের প্রথম রাজ্য হিসেবে কর্ণাটক মরণাপন্ন রোগীকে সম্মানজনক মৃত্যুর অনুমতি দিল। গোয়া, মহারাষ্ট্র ও কেরল এসংক্রান্ত কিছু বিধি জারি করেছে। কিন্তু, সেই প্রক্রিয়া বেশ জটিল। কর্ণাটকের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী দীনেশ গুন্ডু জানিয়েছেন, রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসক ও মরণাপন্ন রোগীর পরিবার—উভয়েরই সুবিধা হবে। সিদ্ধারামাইয়ার সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ‘স্বেচ্ছামৃ্যতু’র সঙ্গে গুলিয়ে ফেলতে বারণ করেছেন ওই মন্ত্রী। তাঁর যুক্তি, যাঁরা লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন এবং জীবনদায়ী চিকিৎসার পরও যাঁদের বাঁচার কোনওরকম সম্ভাবনা নেই—একমাত্র সেই রোগীর জন্যই এই সিদ্ধান্ত। এব্যাপারে অ্যাডভান্সড মেডিক্যাল ডিরেক্টিভও প্রকাশ করবে কর্ণাটক। এর অধীনে রোগী তাঁর ভবিষ্যত চিকিৎসার ব্যাপারে মতামত জানাতে পারবেন। সেইসঙ্গে, ভবিষ্যতে তাঁর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দু’জনকে মনোনীত করতে পারবেন। পরবর্তী সময়ে ওই নথির ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন চিকিৎসকরা।



