Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রথম দিন মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই

প্রথম দিন মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই
  • ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, বীরভূম: বীরভূম জেলায় মাধ্যমিকের প্রথম দিনের বাংলা পরীক্ষা নির্বিঘ্নেই শেষ হল। জেলার কোথাও প্রশ্ন ফাঁস বা টুকলির মতো ঘটনা না ঘটায় স্বস্তিতে প্রশাসন। শুধু মহম্মদবাজারে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে দুই পরীক্ষার্থী পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা করিয়ে পরীক্ষার বন্দোবস্ত করা হয়। বীরভূম জেলার মাধ্যমিক পরীক্ষার আহ্বায়ক চন্দন ঘোষ বলেন, নির্বিঘ্নেই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।
Advertisement
এবার জেলায় ৪৩হাজার ১৭জন পরীক্ষার্থী ছিল। এবারও ছেলেদের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি ছিল। অ্যাডমিট হাতে পেয়েও জেলার প্রায় ৩ শতাংশ পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছয়নি। বোলপুরে এই অনুপস্থিতির হার বেশি। কেন তারা পরীক্ষা দিল না তা আগামী দিনে খতিয়ে দেখা হবে। এদিন ইলামবাজারে ধল্লা গ্রামের এক পরীক্ষার্থী শ্রীনন্দা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের বদলে বোলপুর বালিকা উচ্চবিদ্যালয় পৌঁছে গিয়েছিল। বিষয়টি জানার পরই পুলিসকর্মীরা তাকে তৃণমূলের ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত বোলপুর শহর তৃণমূল সভাপতি সুকান্ত হাজরা ওই ছাত্রীকে বাইকে চাপিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দেন। আবার এক পরীক্ষার্থী কড়িধ্যা যদু রায় মেমোরিয়াল অ্যান্ড পাবলিক ইনস্টিটিউশনের বদলে করিধ্যা বিদ্যানিকেতনে পৌঁছে গিয়েছিল। অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি তাকে বাইকে চাপিয়ে নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে দিয়ে আসেন। মহম্মদবাজারের বুড়িতলার মঙ্গর হাঁসদা অ্যাডমিট ছাড়াই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিল। এক সিভিক ভলান্টিয়ার তাকে সাহায্য করেন। রামপুরহাটেও আনজির হোসেন নামে এক পরীক্ষার্থী অ্যাডমিট সংগ্রহই করেনি। এক সিভিক ভলান্টিয়ার তাকে নিয়ে গিয়ে অ্যাডমিট তুলে ১৩ মিনিটে কেন্দ্রে পৌঁছে দেন। দৃষ্টিহীন সরস্বতী রবিদাস মুরারইয়ের রাজগ্রাম মহামায়া হাইস্কুলে পরীক্ষা দেয়। পরীক্ষার হলে ঢোকার সময় সে বলে, বাবা খুব কষ্ট করে আমাদের বড় করছে। আমরা নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে পড়াশোনা করছি। শিক্ষিকা হয়ে আমাদের মতো দৃষ্টিহীন ছেলেমেয়েদের পাশে দাঁড়াতে চা‌ই।   
চুনপলাশি পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার পথে দুই পরীক্ষার্থী বাইক থেকে পড়ে চোট পায়। তাদের প্রাথমিক চিকিত্সা করিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। জখমদের মধ্যে সানোয়াজ মোল্লার হাতে চোট লেগেছিল। পরীক্ষা শুরুর কিছু সময় পর তাকে রাইটারের সাহায্য নিতে হয়।
পরীক্ষার প্রথমদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্তে পরীক্ষার্থীদের হাতে জলের বোতল, কলম তুলে দেয় তৃণমূল নেতৃত্ব সহ জনপ্রতিনিধিরা। বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ গোলাপফুল ও কলম দিয়ে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান। লাভপুরে তৃণমূল কর্মীরা প্রতিটি পরীক্ষাকেন্দ্রের ২০০মিটার দূরে ক্যাম্প করে পরীক্ষার্থীদের কলম ও গোলাপ ফুল দেন। অভিভাবকদের বসার জায়গা ও পানীয় জলেরও বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। এসআরডিএর চেয়ারম্যান অনুব্রত মণ্ডলের নির্দেশে বোলপুর শহরে একাধিক ক্যাম্প করে পরীক্ষার্থীদের সাহায্য করা হয়। সিউড়িতে কড়িধ্যা অঞ্চল তৃণমূলের তরফেও পৃথক দু’টি কেন্দ্রের পরীক্ষার্থীদের কলম ও জলের বোতল দেওয়া হয়। সদাইপুর থানার পুলিসও একইভাবে পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। -নিজস্ব চিত্র
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ