Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতি সপ্তাহে মহকুমাভিত্তিক ড্রাইভিং লাইসেন্স মেলা, বেপরোয়া বাইকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ জেলাশাসকের

প্রতি সপ্তাহে মহকুমাভিত্তিক ড্রাইভিং লাইসেন্স মেলা, বেপরোয়া বাইকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ জেলাশাসকের
  • ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বেপরোয়া বাইক চালকদের দাপাদাপিতে রাশ টানতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে পূর্ব মেদিনীপুরে। বাইক ও লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হবে। ওই বাইক চালক যাতে ভবিষ্যতে আর লাইসেন্স করাতে না পারে সেটাও নিশ্চিত করা হবে। শুক্রবার তমলুকের নিমতৌড়িতে পথ নিরাপত্তা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে শেষদিনের অনুষ্ঠান ছিল। সেখানে জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী, পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য সহ জেলা প্রশাসন ও পুলিসের অন্যান্য অফিসাররা উপস্থিত ছিলেন। সেই সভায় জেলাশাসক বেপরোয়া বাইক চালকদের কঠোর হাতে দমন করার নির্দেশ দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রছাত্রী ও সাধারণ মানুষকে এই কাজে এগিয়ে আসার পরামর্শ দেন। রাস্তায় স্টান্ট দেখানো বাইকারদের গাড়ির নম্বরের ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তারপর প্রশাসন উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বাস দেন।এরাজ্যে পথ দুর্ঘটনায় এগিয়ে থাকা জেলার মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুর অন্যতম। তিনটি জাতীয় সড়ক এবং একাধিক রাজ্য সড়ক রয়েছে। দীঘার মতো পর্যটন কেন্দ্র এবং হলদিয়া শিল্পশহর রয়েছে। তাই গাড়ির চাপ অনেক বেশি। দুর্ঘটনার হারও বেশি। ২০২৩সালে দুর্ঘটনায় এই জেলায় প্রায় ৪৯০জনের মৃত্যু হয়। ২০২৪সালে কিছুটা কমে ৪৭০। কীভাবে দুর্ঘটনার সংখ্যা কমানো যায়, তা নিয়ে নিরন্তর ভাবনাচিন্তা করছে প্রশাসন। নানা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। কিন্তু তারই মধ্যে দুর্ঘটনা ঘটে চলছে।
Advertisement
জেলাশাসক এদিনের সভায় বলেন, আমি বৃহস্পতিবার এগরা গিয়েছিলাম। এগরা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ঢুকে ইমার্জেন্সিতে কত সংখ্য‌ক রোগী এসেছে জানতে চাই। ডাক্তার জানালেন মোট ২৬জন। তারমধ্যে দুর্ঘটনায় জখম কতজন? চিকিৎসক জানালেন, নয়-দশ জন। একটা হাসপাতালে একদিনে দুর্ঘটনায় এতজন জখম হয়ে গিয়েছেন। ভাবা যায়? জেলাশাসক আরও বলেন, কেন এত দুর্ঘটনা হচ্ছে আমরা প্রতিনিয়ত তার কারণ খুঁজছি। একদিকে, রাস্তা চওড়া হচ্ছে। সরকারি টাকায় রাস্তা সম্প্রসারণ ও মজবুত করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তা দখল করে দোকান, বাজার গজিয়ে ওঠছে। গাড়ি কেনার সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। উন্মাদনা ও উচ্ছ্বাস প্রকাশের জায়গা হিসেবে রাস্তাকে বেছে নেওয়া হচ্ছে। রাত বাড়লে বাইক নিয়ে রাস্তায় স্টান্ট দেখানো হচ্ছে। তাদের অধিকাংশের মাথায় হেলমেট থাকে না। এরা কতটা প্রকৃতিস্থ অবস্থায় থাকে, তা নিয়েও সংশয় আছে। এসব বন্ধ করতে হলে কড়া অনুশাসন প্রয়োজন। তা না হলে আটকানো অসম্ভব। এদের জন্য রাস্তায় নিরীহ লোকজনও মারা পড়েন। বাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বেরনোর সময় চাবির সঙ্গে কেন হেলমেট আবশ্যক হিসেবে হাতে ওঠে না? কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতা আনতে হবে। তাঁরা ড্রাইভিং লাইসেন্স করাবেন। তার আগে শৃঙ্খলাবোধ জাগাতে হবে।
এদিনের সভায় জেলাশাসক ঘোষণা করেন প্রতি সপ্তাহে মহকুমাভিত্তিক ড্রাইভিং লাইসেন্স মেলা হবে। এনিয়ে মঞ্চে উপস্থিত অতিরিক্ত জেলাশাসক(সাধারণ) সৌভিক চট্টোপাধ্যায়কে নির্দেশ দেন। এদিনের সভায় পুলিস সুপার বলেন, ২০২৩এর তুলনায় ২০২৪সালে এই জেলায় দুর্ঘটনায় মৃত্যু সংখ্যা কিছুটা কমেছে। আমরা পথ নিরাপত্তাকে আরও নিশ্চিত করতে চাই। জেলায় ট্রাফিক ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করা হবে। ট্রাফিক পুলিস কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় কাজ হয় না। সেই ব্রতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ আমাদের করতে হবে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ