নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রামের এক প্রসূতির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যদপ্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালে তাঁর প্রসব হয়। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তর থেকেও রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রেজিনা খাতুন নামে ওই গৃহবধূ ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর বাপেরবাড়ি মেমারির সমসপুরে। ১৮ তারিখ দুপুর ১২টা নাগাদ তাঁর সিজার করা হয়। তারপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বিকেল ৩টে থেকে রক্তক্ষরণ বেড়ে যাওয়ায় তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের লোকজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার গাফিলতিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরও প্রাথমিক তদন্তে গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে।
Advertisement
জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তদন্ত কমিটি বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এক চিকিৎসক বলেন, অপারেশন হওয়ার পর চিকিৎসকের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল। অনেক সময়েই দেখা যায় অপারেশন করেই চিকিৎসক অন্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রোগীর ‘ফলোআপ’ তাঁরা করেন না। সেই কারণেই অনেক প্রসূতির মৃত্যু হয়। অতীতেও এমনটা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণও হয়েছে। তারপরও ছবিটা বদলায়নি। ওই প্রসূতি অপারেশনের আগে সম্পূর্ণ সুস্থ ছিলেন। তাঁর কোনও ধরনের শারীরিক সমস্যা ছিল না। সমস্ত টেস্ট রিপোর্ট স্বাভাবিক ছিল। তারপর এধরনের ঘটনা উচিত ছিল না। অপারেশনে কোনও ভুল থাকতে পারে। মেমারির বিএমওএইচ দেবাশিস বালা অবশ্য এনিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, রাজ্য সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থার ভোল বদলে দিয়েছে। একশ্রেণির চিকিৎসকের এখনও গাছাড়া মনোভাব রয়েছে। তাঁদের জন্যই অঘটন ঘটছে। অনেক চিকিৎসক হাসপাতালে ডিউটি না করে বাইরে চেম্বার করছেন। তাড়াহুড়ো করে তাঁরা অপারেশন সারছেন। এই ডাক্তারদের চিহ্নিত করা হবে। মেমারির ঘটনাটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর গাফিলতি থাকলে কাউকে ছাড়া হবে না।
স্বাস্থ্যদপ্তরের আর এক আধিকারিক বলেন, প্রসূতির কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে অপারেশন ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। তা পরিবারের লোকজনদের জানিয়েও দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তেমন কিছুই হয়নি। তারপরও প্রসূতির মৃত্যু হওয়া দুভার্গ্যজনক। খুব তাড়াতাড়ি কমিটি রিপোর্ট জমা দেবে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, রাজ্য সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থার ভোল বদলে দিয়েছে। একশ্রেণির চিকিৎসকের এখনও গাছাড়া মনোভাব রয়েছে। তাঁদের জন্যই অঘটন ঘটছে। অনেক চিকিৎসক হাসপাতালে ডিউটি না করে বাইরে চেম্বার করছেন। তাড়াহুড়ো করে তাঁরা অপারেশন সারছেন। এই ডাক্তারদের চিহ্নিত করা হবে। মেমারির ঘটনাটিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট দেওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কোনও চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর গাফিলতি থাকলে কাউকে ছাড়া হবে না।
স্বাস্থ্যদপ্তরের আর এক আধিকারিক বলেন, প্রসূতির কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে অপারেশন ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। তা পরিবারের লোকজনদের জানিয়েও দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে তেমন কিছুই হয়নি। তারপরও প্রসূতির মৃত্যু হওয়া দুভার্গ্যজনক। খুব তাড়াতাড়ি কমিটি রিপোর্ট জমা দেবে।



