Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রসূতিকে মারধরের অভিযোগ উঠল কান্দি মহকুমা হাসপাতালের বিরুদ্ধে

প্রসূতিকে মারধরের অভিযোগ উঠল কান্দি মহকুমা হাসপাতালের বিরুদ্ধে
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: এক প্রসূতির পরিবারের থেকে জোর করে ৩ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠল কান্দি মহকুমা হাসপাতালের আয়া ও নার্সদের বিরুদ্ধে। তাঁকে এক চিকিৎসক মারধর করেন বলেও অভিযোগ ওই প্রসূতির বাড়ির লোকজনের। তাছাড়া প্রথমবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগ ঘিরে সোমবার সকালে সেখানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রসূতির পরিজনরা বিক্ষোভ দেখান হাসপাতালের গেটে। পরে কান্দি থানার পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। যদিও হাসপাতাল সুপার রাজেশনাথ সাহা জানিয়েছেন, এই অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তবে সুপার যা-ই বলুন, স্বাস্থ্যভবন ঘটনাটিকে মোটেই হালকা ভাবে নেয়নি। 
Advertisement
স্বাস্থ্যদপ্তরের জেলা অফিসের সূত্রে জানা গিয়েছে, এনিয়ে সিএমওএইচকে কথা শুনতে হয়েছে। সিএমওএইচ সন্দীপ স্যান্যাল ফোনে জানান, ঘটনাটি নিয়ে কান্দি মহকুমা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। 
গত রবিবার সকালে ওই হাসপাতালে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হন বড়ঞা থানার ভবানীনগর গ্রামের মতিয়ারা খাতুন। তবে সন্তান না হওয়ায় বিকেল চারটে নাগাদ প্রসূতিকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়। 
কিন্তু বাড়ি ফেরার পর সেদিন রাত ১০টা নাগাদ মতিয়ারার ফের প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয়। এরপর বাড়িতেই তিনি এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন। প্রসৃতির পরিবারের অভিযোগ, রাত ১০টা থেকে পরিবারের লোকজন বারবার ১০২ টোল ফ্রি নম্বরে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ফোন করেন। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি। অগত্য প্রসূতিকে টোটোতে চাপিয়ে গভীর রাতে হাসপাতালে নিয়ে এসে ভর্তি করানো হয়। প্রসূতির আত্মীয় সেরিনা বিবি বলেন, ‘সন্তান প্রসবের পর আমরা প্রসূতির নাড়ি না কেটেই সদ্যোজাত সহ হাসপাতালে নিয়ে আসি। হাসপাতালে ভর্তি করার পর মতিয়ারাকে লেবার রুমেও নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু তারপরেই আয়া ও নার্সদিদিরা টাকা দাবি করেন। জোর করে আমাদের থেকে ৩০০০ টাকা নেওয়া হয়। টাকা নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে আমাদের সঙ্গে ঝামেলা করেন ওঁরা।’
এরপর সোমবার সকালে প্রসূতিকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। প্রসূতির পরিবারের অভিযোগ, বাড়িতে প্রসব করানোর কৈফিয়ত চেয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। প্রসূতির বাবা রেজাউল শেখ বলেন, মেয়েকে ডাক্তারবাবু বলেছিলেন কেন বাড়িতে প্রসব করা হয়েছে। মেয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করলে ডাক্তারবাবু মারেন।
এই ঘটনার খবর রোগীর পরিজনদের কাছে পৌঁছতেই সোমবার সকালে হাসপাতালে প্রধান গেটে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন তাঁরা। ফলে সেখানে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। অন্যান্য রোগীদের মধ্যে ভীতির সঞ্চার হয়। পরে সেখানে কান্দি থানার আইসি মৃণাল সিনহা সহ পুলিস পৌঁছলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও হাসপাতাল সুপার বলেন, আমরা পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে তদন্ত করেছি। অভিযোগ পুরো মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। ওয়ার্ডের অন্যান্য প্রসূতির সঙ্গেও কথা বলা হয়েছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ