নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বর্ধমান দুর্গাপুর আসনে প্রার্থী ছিলেন বিজেপির হেভিওয়েট নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁকে জেতাতে দুর্গাপুরে পড়ে থেকে প্রচারে প্রাণপাত করেছিলেন তৎকালীন আইনমন্ত্রী অর্জুনরাম মেঘওয়াল। দুর্গাপুরে ফার্টিলাইজার কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এবার সার কারখানা খোলার উদ্যোগে নেবে কেন্দ্র। বছর ঘুরতেই অবস্থান বদল। বাজেটে প্রস্তাবিত নতুন সার কারখানা পাচ্ছে বিজেপি শাসিত অসম। বঞ্চিত স্টিলসিটি দুর্গাপুর। ক্ষোভে ফুঁসতে শুরু করেছে ইস্পাত নগরী। শ্রমিক মহলের দাবি, ফের স্টিলসিটির মানুষকে ধোঁকা দিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার। সার কারখানা পরিদর্শন আসলে ছিল লোক দেখানো। ভোটের ভেল্কি! নতুন সার কারখানার কথা বাদ দিলেও দুর্গাপুরের এমএএমসি সহ অন্য কোনও কারখানার পুনরুজ্জীবনের প্রস্তাবও নেই কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের বাজটে ভাষণে।
Advertisement
বর্ধমান দুর্গাপুর কেন্দ্রে দিলীপের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১৯৮৩ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ী দলের সদস্য কীর্তি আজাদ। তিনি তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়েছিলেন। সেয়ানে সেয়ানে টক্কর শুরু হয়েছিল রাজনৈতিক ময়দানে। দিলীপের লড়াই ছিল বিজেপির কাছে প্রেস্টিজ ফাইট। তাঁকে জেতাতে দুর্গাপুরে কার্যত তাবু গেড়ে ছিলেন কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘাওয়াল। প্রচার করার পাশাপাশি হঠাৎই কেন্দ্রীয়মন্ত্রী হিসেবে পরিদর্শন করেন দুর্গাপুরে বন্ধ পড়ে থাকা সার কারখানাটি। পুরো কারখানা ঘুরে দেখে তা খোলার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তৃণমূল তখনই পাল্টা দাবি করেছিল, এসব বিজেপির জুমলা। ভোটের সময় মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তা সত্ত্বেও বন্ধ কারখানা ও পাশ্ববর্তী বেকার যুবকরা স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু বাজেটে এনিয়ে একটি শব্দও খরচ করেননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।
প্রায় হাজার বিঘা জমির উপর দুর্গাপুরে গড়ে উঠেছিল কেন্দ্রীয় সরকারের সার কারখানা। ৩০০ একরের টাউনশিপ ও ৭০০ একরের কারখানা। প্রথমে তা ছিল ফার্টিলাইজার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া। পরে নাম পাল্টে হয় হিন্দুস্থান ফার্টিলাইজার কর্পোরেশন লিমিটেড। প্রায় ২ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। ২০০৩ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের আমলে দেশের সাতটি সার কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। তালিকায় ছিল দুর্গাপুর ও হলদিয়ার সার কারখানা। শ্রমিক নেতাদের দাবি, বাংলার দুটি সার কারখানা ছাড়া দেশের বাকি রাজ্যে থাকা পাঁচটি সার কারখানা চালু হয়ে গিয়েছে।
লোকসভা ভোটে কীর্তি আজাদ জয়ী হন। তিনি আবার সার ও রসায়ন মন্ত্রকের সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। দুর্গাপুরের সার কারখানা খোলা নিয়ে সওয়াল করেন। তারপরও বাজেটে এনিয়ে কোন মন্তব্য না থাকায় নিরাশ দুর্গাপুরবাসী। একই ভাবে এমএএমসি কারখানা খোলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একাধিক আর্জি পরও কেন্দ্রর টনক না নড়ায় হতাশ সেখানকার শ্রমিকরাও।
সার কারখানার তৎকালীন সিটু নেতা দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুর্গাপুর নতুন করে সার কারখানা গড়ার সব সুবিধাই রয়েছে। তাও কেন্দ্র দুর্গাপুরকে বঞ্চনা করে অসমে কারখানা গড়তে যাচ্ছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, দুর্গাপুরে সার কারখানা চালু করার প্রতিশ্রুতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিয়ে যাওয়ার পর বাজেটে অসমের তিন সার কারখানা গড়ার প্রস্তাব! কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কী বলবেন, দুর্গাপুরবাসীকে ভাঁওতা দিয়েছিলেন। এমএএমসির শ্রমিক নেতা অসীম চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুর্গাপুরের জন্য কেন্দ্র কিছু করবে না। আমরা হতাশ।
বিজেপি জেলা সহসভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দুর্গাপুরের সার কারখানা খোলা নিয়ে কেন্দ্রের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। সব বিষয় বাজেটে উল্লেখ থাকে না।
প্রায় হাজার বিঘা জমির উপর দুর্গাপুরে গড়ে উঠেছিল কেন্দ্রীয় সরকারের সার কারখানা। ৩০০ একরের টাউনশিপ ও ৭০০ একরের কারখানা। প্রথমে তা ছিল ফার্টিলাইজার কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া। পরে নাম পাল্টে হয় হিন্দুস্থান ফার্টিলাইজার কর্পোরেশন লিমিটেড। প্রায় ২ হাজার শ্রমিক কাজ করতেন। ২০০৩ সালে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকারের আমলে দেশের সাতটি সার কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। তালিকায় ছিল দুর্গাপুর ও হলদিয়ার সার কারখানা। শ্রমিক নেতাদের দাবি, বাংলার দুটি সার কারখানা ছাড়া দেশের বাকি রাজ্যে থাকা পাঁচটি সার কারখানা চালু হয়ে গিয়েছে।
লোকসভা ভোটে কীর্তি আজাদ জয়ী হন। তিনি আবার সার ও রসায়ন মন্ত্রকের সংসদীয় স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান। দুর্গাপুরের সার কারখানা খোলা নিয়ে সওয়াল করেন। তারপরও বাজেটে এনিয়ে কোন মন্তব্য না থাকায় নিরাশ দুর্গাপুরবাসী। একই ভাবে এমএএমসি কারখানা খোলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে একাধিক আর্জি পরও কেন্দ্রর টনক না নড়ায় হতাশ সেখানকার শ্রমিকরাও।
সার কারখানার তৎকালীন সিটু নেতা দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুর্গাপুর নতুন করে সার কারখানা গড়ার সব সুবিধাই রয়েছে। তাও কেন্দ্র দুর্গাপুরকে বঞ্চনা করে অসমে কারখানা গড়তে যাচ্ছে। রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার বলেন, দুর্গাপুরে সার কারখানা চালু করার প্রতিশ্রুতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দিয়ে যাওয়ার পর বাজেটে অসমের তিন সার কারখানা গড়ার প্রস্তাব! কেন্দ্রীয় আইনমন্ত্রী কী বলবেন, দুর্গাপুরবাসীকে ভাঁওতা দিয়েছিলেন। এমএএমসির শ্রমিক নেতা অসীম চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুর্গাপুরের জন্য কেন্দ্র কিছু করবে না। আমরা হতাশ।
বিজেপি জেলা সহসভাপতি চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দুর্গাপুরের সার কারখানা খোলা নিয়ে কেন্দ্রের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। সব বিষয় বাজেটে উল্লেখ থাকে না।



