নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: কর্মজীবনের শুরুতে ট্রেনে পেপার বিক্রি করতেন। থাকতেন বস্তির ভাঙাচোরা বাড়িতে। তবে, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সান্নিধ্যে আসার পর থেকেই উল্কার গতিতে উত্থান হতে থাকে। ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে সম্পত্তির পরিমাণ। সামান্য তৃণমূল কর্মী থেকে ‘দাপুটে’ নেতা। কাগজ বিক্রেতার জীবন ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি। সেইসঙ্গে একাধিক জমি, গাড়ি, প্রসাদোপম বাড়ির মালিক। বিরোধীদের দাবি, সবই হয়েছে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর ‘আশীর্বাদে’। একসময় দাপুটে এই তৃণমূল নেতা আবার পার্থ গ্রেপ্তার হতেই চলে গিয়েছিলেন ‘অন্তরালে’। দীর্ঘ কয়েক বছর পর ফের তাঁকে নিয়ে পুরুলিয়া জেলাজুড়ে হইচই শুরু হয়েছে।
Advertisement
প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে কারা চাকরির সুপারিশ করেছিলেন, সেই সংক্রান্ত কিছু নথি আদালতে জমা দিয়েছে সিবিআই। সেই তালিকায় নাম রয়েছে একসময়ের তৃণমূলের দাপুটে নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদ থেকে শুরু করে প্রাক্তন এক পুলিস কর্তারও। তাঁদের পাশাপাশি নাম রয়েছে পুরুলিয়ার শম্ভু সরকারের। মোট ৭৮ জনের নাম তিনি চাকরির জন্য পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে সুপারিশ করেছিলেন। তাঁদের অনেকে চাকরিও করছেন। এই ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই শোরগোল শুরু হয়েছে জেলাজুড়ে। নিজেদের মধ্যে কানাঘুষো করতে শুরু করেছেন তৃণমূলের নেতারা। তবে শম্ভুর নাম সামনে আসতেই সেইসব নেতারা যেন চিনতেই পারছেন না! বিস্ময় প্রকাশ করে জিজ্ঞাসা করছেন, ‘কে শম্ভু?’ শম্ভু সম্পর্কে তৃণমূল নেতাদের একাংশের কাছ থেকেই জানা যায়, পুরুলিয়ার বাসিন্দা শম্ভু বাম আমলে পুরুলিয়া এক্সপ্রেসে কাগজ বিক্রি করতেন। সেইসঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের একনিষ্ঠ কর্মী। জেলার বর্ষীয়ান এক নেতার অত্যন্ত স্নেহধন্য। বামেদের শেষ জমানায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় যখন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা, তখন তিনি মাঝেমধ্যে পুরুলিয়া আসতেন। সেই সময় ওই জেলা নেতার মাধ্যমে পার্থর সঙ্গে আলাপ হয় শম্ভুর। পালাবদলের পর ওই নেতার সঙ্গে তিনি কয়েকবার কলকাতাও গিয়েছিলেন। সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়। পার্থর সান্নিধ্য পাওয়ার পর থেকেই জেলার রাজনীতিতেও উত্থান হতে থাকে শম্ভুর। নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরিও পান। এক তৃণমূল নেতার কথায়, শুরুতে শম্ভু দলের সেরকম কেউকেটা কেউ ছিলেন না। কিন্তু, দলের প্রাক্তন মহাসচিবের হাত মাথায় ওঠার পর থেকেই নিজের দাপট দেখাতে থাকেন। অনেকেই বলছেন, ২০১৩-’১৪ সালের পর থেকেই ফুলেফেঁপে উঠতে শুরু করেন এক সময়ের কাগজ বিক্রেতা। জমি জায়গা থেকে শুরু করে গাড়ি, বাড়ি-বহু সম্পত্তিরই তিনি অধিকারী হয়ে ওঠেন। তবে, ২০২২ সালের ২২ জুলাই জুলাই পার্থ চট্টোপাধ্যায় গ্রেপ্তার হতেই ধীরে ধীরে লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যান শম্ভু। দলের সংস্রব ত্যাগ করতে শুরু করেন।
এনিয়ে তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য শম্ভু সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁর অবশ্য দাবি, ‘ওই নথিতে যে শম্ভু সরকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আমি এধরনের কাজ করিনি।’ বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, ‘ও তৃণমূলের চুনোপুঁটি একজন নেতা ছিল। জেলার কিছু নেতার তল্পিবাহকতা করত। সেইসব নেতা ওকে সামনে রেখে গোটা দুর্নীতিটা করেছে। ওকেও ভাগ দিয়েছে। নাহলে এত জমি জায়গা, গাড়ি বাড়ি হল কীভাবে? তাঁর সংযোজন, সিবিআই সঠিক করে তদন্ত করলে জেলার বহু নেতাই নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়াবেন। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, দল দুর্নীতি সমর্থন করে না। বিভিন্ন দুর্নীতিতে যাঁদেরই নাম সামনে এসেছে, তাঁদেরই দল বহিষ্কার করেছে।
এনিয়ে তৃণমূলের জেলা কমিটির সদস্য শম্ভু সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তাঁর অবশ্য দাবি, ‘ওই নথিতে যে শম্ভু সরকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। আমি এধরনের কাজ করিনি।’ বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, ‘ও তৃণমূলের চুনোপুঁটি একজন নেতা ছিল। জেলার কিছু নেতার তল্পিবাহকতা করত। সেইসব নেতা ওকে সামনে রেখে গোটা দুর্নীতিটা করেছে। ওকেও ভাগ দিয়েছে। নাহলে এত জমি জায়গা, গাড়ি বাড়ি হল কীভাবে? তাঁর সংযোজন, সিবিআই সঠিক করে তদন্ত করলে জেলার বহু নেতাই নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়াবেন। তৃণমূলের জেলা সভাপতি সৌমেন বেলথরিয়া বলেন, দল দুর্নীতি সমর্থন করে না। বিভিন্ন দুর্নীতিতে যাঁদেরই নাম সামনে এসেছে, তাঁদেরই দল বহিষ্কার করেছে।



