নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল পুরসভার ৪০ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগের তদন্তে নেমে বড় সাইবার প্রতারণা চক্রের হদিশ পেল পুলিস। এই প্রতারণা চক্রের জাল ছড়িয়ে রয়েছে মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড় ও মহারাষ্ট্রে। তিন রাজ্যের সীমানার লাগোয়া এলাকায় ছড়িয়ে থেকে প্রতারণা চালানো হচ্ছে দেশজুড়ে। তাদের লক্ষ্য বড় বড় সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির চেক নকল করে লক্ষ লক্ষ টাকা লুট করা। ইতিমধ্যেই পুলিসের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে দু’জন। একজনের বাড়ি মধ্যপ্রদেশে অন্যজনের ছত্রিশগড়ে। যদি তাদের দু’জনের বাড়ির দূরত্ব মাত্র ৩০ কিলোমিটার। একইভাবে ওই এলাকার পাশে রয়েছে মহারাষ্ট্রও। সেখানের নাগপুরেরও যোগসূত্র মিলছে। সিট গঠন করে এসিপি পদমর্যাদার অফিসারের নেতৃত্বে ভিনরাজ্যে অভিযানে নেমেছে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিস কমিশনারেট। আন্তঃরাজ্য প্রতারকদের নজর পড়েছে তাঁদের অ্যাকাউন্টে। এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে ব্যবস্থা নিচ্ছে আসানসোল পুরসভার অর্থ বিভাগ। একটা সময়ে আসানসোল পুরসভার ১৮০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল। এখন সেই সংখ্যা কমে ৭২টি হয়েছে। এত বেশি সংখ্যক অ্যাকাউন্টে ধারাবাহিক নজরদারি করা যাচ্ছে না তা এই ঘটনা থেকেই স্পষ্ট। তাই এবাব আরও অ্যাকাউন্ট বন্ধের পথে হাঁটছে আসানসোল পুরসভা। সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রতি সপ্তাহে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট নিয়ে পুরসভার নথির সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে। আসানসোল পুরসভার মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, জামুড়িয়া, রানিগঞ্জ, কুলটি তিনটি পুরসভা আসানসোল পুরসভার সঙ্গে যুক্ত হয়। সেই সময়ে মোট ১৮০টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছিল। তারপর তা কমানো শুরু হয়। এখনও এত বেশি সংখ্যক অ্যাকাউন্ট রয়েছে যাতে ধারাবাহিক নজরদারির সমস্যা হচ্ছে। আমরা আরও অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ বিষয়ে এসিপি বিশ্বজিৎ নস্কর বলেন, আমরা এই ঘটনার সঙ্গে তিনটি রাজ্যের যোগসূত্র পেয়েছি। তদন্তের ভালো অগ্রগতি হয়েছে। আসানসোল থেকে বর্ধমান একের পর এক বড় পুরসভা থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। প্রতারণার পদ্ধতি একই। পুরসভার চেক নম্বর ব্যবহার করে টাকা উঠছে কখনও মধ্যপ্রদেশ থেকে কখনও মহারাষ্ট্র থেকে। ধারাবাহিক এই প্রতারণার ঘটনায় ব্যাঙ্ক ও পুরকর্মীদের ভূমিকাও স্ক্যানারে রয়েছে। আসানসোল পুরসভার অ্যাকাউন্ট থেকে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরের আনপুরের একটি ব্যাঙ্কের শাখা থেকে ৪০ লক্ষ টাকা তুলে নেওয়া হয়। মহারাষ্ট্রের একটি ব্যাঙ্ক থেকে একই অ্যাকাউন্ট থেকে ৮০ লক্ষ টাকা তোলার চেষ্টা হলে বিষয়টি জানাজানি হয়। তদন্তে নেমে পুলিস আনপুরের বাসিন্দা মাধব সরোগীকে গ্রেপ্তার করে। তার আগে গ্রেপ্তার হয়েছিল তার থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরের ছত্রিশগড়ের পেন্দ্রার প্রিয়াংশু সাহু। জানা গিয়েছে, তার অ্যাকাউন্টেই ঢুকেছিল টাকা। ১০ শতাংশ কমিশনের ভিত্তিতে মাধবকে নিজের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দিয়েছিল সে। তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ট যোগ পাওয়া গিয়েছে মহারাষ্ট্রে ৮০ লক্ষ টাকা তোলার চেষ্টা করা বাকিদেরও। তিন রাজ্যের সীমানা এলাকাজুড়ে এই অপরাধ চলছে। যাতে ভিনরাজ্যের পুলিস সহজে একসঙ্গে সবাইকে ধরতে না পারে। তবে আর ঝুঁকি নিতে নারাজ আসানসোল পুরসভা। এই ঘটনার পরই ৭২টি অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট নিয়ে অর্থ বিভাগ হিসাব মিলিয়েছে। তাতে নতুন কোনও কারচুপি ধরা পড়েনি। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গিয়েছে, অন্য সময়ে ব্যাঙ্ক থেকে এক, দু’মাস পর যে স্টেটমেন্ট আসত তা খতিয়ে দেখা হতো। এবার থেকে প্রতি সপ্তাহে সেই কাজ করা হবে।



