নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জুয়ার আসর থেকে ধৃতদের ২০দিন পুরসভা অফিস সাফাইয়ের শর্তে জামিন দিল আদালত। তমলুক সিজেএম কোর্ট ব্যতিক্রমী এই রায় দিয়েছে। ১৯নভেম্বর আদালতের ওই রায়ের পরই জামিনে মুক্ত তিনজন ২০তারিখ থেকেই তমলুক পুরসভায় কাজে যোগ দিয়েছেন। সকাল ৭টায় পুরসভা অফিসে এসে ঝাঁটা হাতে পুরসভা চত্বর সাফাইয়ের কাজে তাঁরা নেমে পড়ছেন। পুরসভার চেয়ারম্যান দীপেন্দ্রনারায়ণ রায় বলেন, আদালতের নির্দেশে ২০নভেম্বর ওই তিনজন পুরসভা অফিস চত্বর সাফাইয়ের কাজ শুরু করেছেন। ২০দিন ধরে তাঁরা ওই কাজ করবেন।গত ১৮নভেম্বর রাত পৌনে ৮টা নাগাদ তমলুক থানার কাঁকটিয়া বাজার এলাকায় একটি জুয়ার আসর থেকে পুলিস তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিস ৯৫৯৮টাকা এবং দু’টি মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করে। ১৯তারিখ তাদের আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের ২০দিন তমলুক পুরসভায় সাফাইয়ের কাজ করার শর্তে আদালত জামিন দিয়েছে। কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী বুধবার থেকেই ওই তিনজন পুরসভা অফিসে সাফাইয়ের কাজ শুরু করে দিয়েছেন। এর আগে গত ২২অক্টোবর তমলুক শহরে নিমতৌড়িতে জুয়ার আসর থেকে ধৃত পাঁচজনকে রামকৃষ্ণ মিশনে টানা ২০দিন কাজ করার শর্তে জামিন দিয়েছিল আদালত। এক মাসের ব্যবধানে আবারও জুয়ার ঠেকে ধৃতদের পুরসভায় সাফাইয়ের কাজে শর্ত রেখে জামিন দিল সিজেএম কোর্ট। কাঁকটিয়া থেকে ধৃতরা পেশায় রাজমিস্ত্রি। সারাদিনের উপার্জনের টাকা ভাগ্য বদলের নেশায় সন্ধ্যার পর জুয়ার আসরে বাজি ধরত। অনলাইন লোটো এবং সাট্টায় আকৃষ্ট হয়ে অনেকেই সর্বস্বান্ত হচ্ছেন। পুলিস বিভিন্ন জায়গায় এর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর পরও গোপনে এই অবৈধ কারবার চলছে। শুধুমাত্র জেল-জরিমানা নয়, ব্যতিক্রমী রায়ের মধ্য দিয়ে অভিযুক্তদের সংশোধনের ব্যবস্থা করছে আদালত। এরফলে নৈতিক পরিবর্তন হবে। এপ্রসঙ্গে প্রাক্তন বিধায়ক তথা অধ্যাপক ব্রহ্মময় নন্দ বলেন, মানুষের মধ্যে শুভ এবং অশুভ উভয় শক্তি রয়েছে। অশুভ শক্তিকে দমন করতে পারে একমাত্র শুভ শক্তি। এধরনের সামাজিক কাজে যুক্ত করানোর ফলে শুভ শক্তি জাগ্রত হবে। তাতে মন থেকে অশুভ শক্তির দমন হবেই। এই রায়কে স্বাগত জানাই। সুস্থ সমাজের লক্ষ্যে ইতিবাচক রায়। তমলুক পুরসভার চেয়ারম্যান বলেন, কোর্টের নির্দেশে তিনজন ২০তারিখ থেকেই পুরসভায় কাজ করছেন। সকাল ৭টায় এসে তাঁরা কাজ শুরু করছেন। এভাবে ২০দিন কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। পুরসভায় তাঁদের হাজিরা নেওয়া হচ্ছে। সেটা কোর্টে পাঠানো হবে।
Advertisement
এদিন তমলুক পুরসভায় কাজের ফাঁকে তাঁরা বলেন, আমরা রাজমিস্ত্রির কাজ করি। ভুলবশত জুয়ার ঠেকে চলে গিয়েছিলাম। পুলিস সেখান থেকে ধরে এনে আদালতে তোলে। বিচারক আমাদের ২০দিন পুরসভায় কাজ করার শর্তে জামিন দিয়েছেন। সেইমতো আমরা ২০নভেম্বর থেকে পুরসভায় কাজ শুরু করেছি।



