সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বেসরকারি একটি রাইস মিল থেকে নির্গত কালো দূষিত জলে আলিপুরদুয়ারের পররপার গ্রাম পঞ্চায়েতের পাকুড়িতলা গ্রামের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মিলের দূষিত জলে এলাকার হাঁস, মুরগি, খাল-বিলের মাছে যেমন মড়ক লেগেছে তেমনি বাসিন্দারা জমিতেও চাষবাস করতে পারছেন না বলে অভিযোগ। বাসিন্দারা জলবাহিত পেটের রোগেও ভুগছেন।
Advertisement
এই অভিযোগ তুলে রবিবার দুপুরে এলাকার মহিলারা রাইস মিলের সামনে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভের জেরে বন্ধ হয়ে যায় মিলের কাজকর্ম। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলে। পরে মিল কর্তৃপক্ষ দূষিত জল বের না হওয়ার আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। তপসিখাতা বাজার থেকে আলিপুরদুয়ার আয়ুষ হাসপাতাল যাওয়ার রাস্তার বাঁ দিকে ওই রাইস মিলটি। কালো জল মিল থেকে বের হয়ে এলাকার সেচ নালা, কৃষি জমি ও মাছের পুকুরে গিয়ে পড়ছে। সেই নোংরা জল থেকেই দূষণ ছড়াচ্ছে এলাকায়। বিক্ষোভকারী অর্চনা বর্মন বলেন, মিলের ওই দুর্গন্ধ জলে এলাকায় টেকা যাচ্ছে না। জমিতে কাজ করতে পারছি না। মশা মাছির উপদ্রব শুরু হয়েছে। গৃহবধূ কণিকা বর্মন বলেন, মিলের জলের জন্য হাঁস, মুরগি মারা যাচ্ছে। পুকুরের মাছও মরছে। মিল কর্তৃপক্ষ আগেও দূষিত জল বন্ধের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু আশ্বাস দেওয়ার পর চার-পাঁচ মাস কেটে গিয়েছে জল বন্ধ হয়নি। তাই বিক্ষোভ দেখিয়েছি। স্থানীয় বাসিন্দা মৃদুল দাস বলেন, মিলের ছাইও ফেলা হচ্ছে এলাকায়। সেই ছাই বাতাসে উড়ে এলাকায় দূষণ ছড়াচ্ছে। ওই নোংরা জল বের হওয়া বন্ধ না হলে আরও বড় আন্দোলনে যাব আমরা। মহিলাদের বিক্ষোভের জেরে ওই রাইস মিলের ম্যানেজার সোনু ঝাঁ বলেন, জল যাতে আর বের না হয় তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বাইরে জমিতে জমা জল পরিশোধনেরও উপায় খোঁজা হচ্ছে। কীভাবে জনবহুল এলাকায় এই মিলের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। আলিপুরদুয়ারের মহকুমা শাসক দেবব্রত রায় বলেন, খুবই গুরুতর অভিযোগ। ওই মিলের জন্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ, ব্লক প্রশাসন বা পঞ্চায়েতের ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না তা অবশ্যই খতিয়ে দেখা হবে।



