নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: শান্তিপুরের পীরের হাট বারোয়ারির জগদ্ধাত্রী পুজোয় এখনও সংকল্প হয় মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের নামে। এই রীতির পিছনে রয়েছে এক কাহিনি। কৃষ্ণনগরে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরু করেছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র। একবার জগদ্ধাত্রী প্রতিমা বানানোর জন্য ভালো মৃৎশিল্পী পাওয়া যাচ্ছিল না। অগত্যা হুগলির গুপ্তিপাড়া থেকে রাজবাড়ির জগদ্ধাত্রী প্রতিমা বানিয়ে আনার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু আনব বললেই কি আর আনা যায়। সে যুগে না আছে গাড়ি, না আছে অন্য ব্যবস্থা। বাহকরা কাঁধে করেই প্রতিমা নিয়ে আসে। দিন পেরিয়ে যায় ঠাকুর আনতে। সেভাবেই রাজবাড়ির প্রতিমা গঙ্গা পেরিয়ে শান্তিপুর হয়ে যাওয়ার কথা ছিল কৃষ্ণনগরে। কিন্তু পথে দেরি হয়ে যায় অনেক। প্রতিমা বাহকরা দেখেন অষ্টমীর পুজো ততক্ষণে শেষ। নবমী পুজো শুরু হওয়ার সময় হয়ে গিয়েছে। কোনওভাবেই ঠিক সময়ে কৃষ্ণনগরে পৌঁছনো অসম্ভব। তাই বাহকরা প্রতিমা নামিয়ে দেন পীরের হাটের কাছেই। তখন স্থানীয় হাটের ব্যবসাদার এবং বাসিন্দারা যৌথভাবে সেই পুজো সম্পন্ন করেন। একসময় আবার সেখানেই বসত হাট। এলাকায় অধিকাংশই মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। অর্থাৎ পুজোর উদ্যোক্তাদের অনেকেই ছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ।
Advertisement
স্থানীয় ইতিহাস বলে, সে বছর নাকি দশমীতে ভাসান হয়নি দেবীর। কারণ স্বয়ং কৃষ্ণচন্দ্র দেবীদর্শন করবেন। তাই অতিরিক্ত এক দিন রেখে দেওয়া হয় প্রতিমা। দশমীতে কৃষ্ণনগরে ঘট বিসর্জন করে পরদিন মহারাজ শান্তিপুরে আসেন ঠাকুর দেখতে। এটাই ছিল সূত্রাগরে পীরের হাটে জগদ্ধাত্রী পুজো শুরুর ইতিহাস। আজও সেই রীতি মেনে দশমীতে কৃষ্ণনগর রাজবাড়ির ঘট বিসর্জন হওয়ার পর শান্তিপুরের এই জগদ্ধাত্রী বিসর্জন হয়। প্রসঙ্গত, একদিকে যখন ধর্মে ধর্মে বিভেদ তৈরির চেষ্টা বিভিন্ন জায়গায়, তখন এই পীরের হাটেই দেখা যায় সম্প্রীতির ছবি। একসময় এই পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তাদের একটা বড় অংশই ছিলেন মুসলিম। আজও দুই ধর্মের মানুষ পুজোয় অংশ নেন।
পুজো উদ্যোক্তারা বলছেন, জগদ্ধাত্রী মন্দিরের পাশেই রয়েছে একটি পীরের মাজার। একসময় সূত্রাগড়ের হাট বসত এখানেই। সেই থেকেই এলাকার নাম পীরের হাট। বর্তমানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন জগদ্ধাত্রী পুজোয় অংশ নেন, তেমনই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করেন সংশ্লিষ্ট মাজার। পীরের হাট বারোয়ারির তরফে উত্তম দাস বলেন, পুজোর প্রচলন করেছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র। তাই আজও মহারাজের নামেই এই পুজোর সংকল্প করা হয়। স্থানীয়ভাবে আমরা ইতিহাস যতটুকু জেনেছি, তাতে আন্দাজ এই পুজোর বয়স আনুমানিক ২৭০ কিংবা ২৭৫ বছর। আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের এই পুজো যথাযথ রীতিনীতি মেনেই হয় আজও।
পুজো উদ্যোক্তারা বলছেন, জগদ্ধাত্রী মন্দিরের পাশেই রয়েছে একটি পীরের মাজার। একসময় সূত্রাগড়ের হাট বসত এখানেই। সেই থেকেই এলাকার নাম পীরের হাট। বর্তমানে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ যেমন জগদ্ধাত্রী পুজোয় অংশ নেন, তেমনই হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করেন সংশ্লিষ্ট মাজার। পীরের হাট বারোয়ারির তরফে উত্তম দাস বলেন, পুজোর প্রচলন করেছিলেন মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র। তাই আজও মহারাজের নামেই এই পুজোর সংকল্প করা হয়। স্থানীয়ভাবে আমরা ইতিহাস যতটুকু জেনেছি, তাতে আন্দাজ এই পুজোর বয়স আনুমানিক ২৭০ কিংবা ২৭৫ বছর। আভিজাত্য ও ঐতিহ্যের এই পুজো যথাযথ রীতিনীতি মেনেই হয় আজও।



