সংবাদদাতা, দিনহাটা: বৃহস্পতিবার পুরনো মামলায় হাজিরা দিতে এসে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বিজেপি বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে। দিনহাটা মহকুমা আদালতে ঢোকার সময় ‘গো-ব্যাক’ স্লোগান দেন তৃণমূল কর্মী- সমর্থকরা। হাজিরা শেষে ফেরার সময় তাঁকে ও বিজেপি নেতাদের তাড়া করা হয়। তাঁদের ইট-পাটকেল ও ডিম ছুড়ে মারা হয় বলে অভিযোগ বিজেপির। বিধায়কের গাড়ির কাচ ঢিল ছুড়ে ভাঙা হয়। কেন্দ্রীয় নিরাপত্তারক্ষীরা কোনওক্রমে এমএলএ’কে আদালত চত্বর থেকে বাইরে নিয়ে আসেন। বারবার পুলিসকে জানিয়েও সুরাহা হয়নি বলে অভিযোগ নিখিলবাবুর। ঘটনার প্রতিবাদে দিনহাটা-কোচবিহার রাজ্য সড়কের মরাপোড়া চৌপথি অবরোধ করেন পদ্ম শিবিরের কর্মীরা। ঘটনায় দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি। যদিও ঘটনার কথা অস্বীকার করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার প্রতিবাদেই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ বলে দাবি তাদের। বিজেপি নেতাদের পুরনো তাণ্ডবের কীর্তি এখনও সাধারণ মানুষ ভোলেনি, সেই কারণেই এই প্রতিবাদ বলে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহ দাবি করেন।
কোচবিহার দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে বলেন, একটি পুরনো মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য এদিন দিনহাটা মহকুমা আদালতে আসি। আমার এবং দলের কর্মীদের উপস্থিতির খবর পেয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে তৃণমূলের গুন্ডারা। আমার নিরাপত্তারক্ষীরা থানায় খবর দিয়েছিলেন। হাজিরা দিয়ে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় আক্রমণ করা হয়। আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। কোচবিহারে যাতে ফিরতে না পারি সেইজন্য গাড়ির চাকার হওয়াও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উদয়ন গুহের নির্দেশ এই ঘটনা ঘটেছে।
কোচবিহার জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ বর্মন বলেন,তৃণমূলী দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবের জন্য কোনও এলাকাই এখন আর নিরাপদ নয়। বিজেপি বিধায়ক সহ নেতা-কর্মীদের আক্রমণের প্রতিবাদে কোচবিহারের মরাপোড়া চৌপথিতে পথ অবরোধ করা হয়েছিল। দোষীদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের নামব আমরা।
উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী বলেন, বাংলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে উস্কানি দিচ্ছেন বিজেপির নেতা-কর্মীরা। সেই জন্যই সাধারণ মানুষ আজ প্রতিবাদ করেছে। এই নেতারা সেদিন দিনহাটাতে যা তাণ্ডব করেছিলেন, মানুষ তা ভোলেনি। তাই বারবার এইভাবে প্রতিবাদ হচ্ছে। বাংলার স্বার্থে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করছি বলেই আমাকে আক্রমণ করছেন ওই দলের নেতারা।