নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: ঋণ পরিশোধের পরেও বকেয়ার দাবি! ফলত নতুন করে ঋণের সুবিধা থেকে একাধিক উপভোক্তা বঞ্চিত হচ্ছেন। ঘটনায় ক্ষুব্ধ উপভোক্তারা সোমবার বেসরকারি ঋণদানকারী সংস্থার দুই এজেন্টকে দীর্ঘ সময় আটক করে রাখেন। ঘটনার খবর পেয়ে দুবরাজপুর থানার পুলিস ওই দুজনকে উদ্ধার করে। অন্যদিকে, সংস্থার তরফে উপভোক্তাদের ‘নো অবজেকশন সার্কিফিকেট’ দেওয়ার কথা জানানো হলে উপভোক্তাদের ক্ষোভ শান্ত হয়। আটক সংস্থার দুই কর্মীকেও পুলিস মুক্ত করে দেয়। ঘটনাটি দুবরাজপুর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের।
জানা গিয়েছে, ব্যবসায়িক কাজে একাধিক মহিলা একটি বেসরকারি ঋণদানকারী সংস্থা থেকে টাকা নিয়েছিলেন। মাসিক কিস্তিতে সেই টাকা তাঁরা পরিশোধ করেছিলেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। যদিও অভিযোগ, টাকা পরিশোধ করা হলেও অনেকের বকেয়া রয়েছে বলে ঋণদানকারী সংস্থার তরফে জানানো হয়। বকেয়া মেটানোর জন্য চাপও দেওয়া হয়। অন্যদিকে, বকেয়ার জেরে নতুন করে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়। এই পরিস্থিতিতে ওই উপভোক্তারা চরম বিপাকে পড়েন। সমস্যা সমাধানের পথে খুঁজেও অমিল। উপভোক্তাদের কথায়, গত বছর পুজোর আগে ঋণের টাকা বকেয়া থাকার কথা তাঁরা জানতে পারেন। এদিন ওই সংস্থার দুই কর্মী বকেয়া আদায়ে এলাকায় পৌঁছন। এরপরই উপভোক্তারা তাঁদের ঘিরে ধরেন। রীতিমতো তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ চলে। সেইসঙ্গে সকলেই ‘নো অবজেকশন সার্কিফিকেট’-এর দাবিতে সুর চড়ান। ঘটনার জেরে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে। ঘটনার খবর পেতেই পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ঋণদানকারী সংস্থার দুই কর্মীকে সেখান থেকে পুলিস উদ্ধার করে। অন্যদিকে, সংস্থার এক পদস্থ কর্তা ‘নো অবজেকশন সার্কিফিকেট’ দেওয়ার কথা জানালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
বিশেষ সূত্রে জানা গিয়েছে, উপভোক্তাদের ঋণের কিস্তি সংস্থার পূর্বতন এজেন্ট আত্মসাৎ করে নেওয়াতেই এই ঘটনা। যদিও উপভোক্তাদের দাবি, ঋণ পরিশোধ করেও নো অবজেকশন সার্কিফিকেট হাতে পাননি। স্থানীয় সন্তোষী বাউড়ি ও শিলা দাস বলেন, ব্যবসার কাজে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা পরিশোধ করার পরও বকেয়ার দাবি করা হয়। এছাড়াও এনওসি না মেলায় নতুন করে ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হয়। আমরা চাই দ্রুত সমস্যার সমাধান হোক।