নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মদ্যপ অবস্থায় অ্যাম্বুলেন্স চালানোর প্রতিবাদে বিক্ষোভ দেখালেন রোগীর পরিজনরা। তাঁরা গাড়ির চালককে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। এনিয়ে বুধবার দুপুরে কালীগঞ্জে বিএমওএইচ অফিস ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার পুলিস এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। এই ঘটনায় কালীগঞ্জে শোরগোল পড়ে যায়।
জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার রাত ১০টা নাগাদ মিমি খাতুন নামে এক গর্ভবতী মহিলাকে নিয়ে কালীগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে আসেন পরিবারের লোকজন। সেখান থেকে তাঁকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয় তার চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিল। পরিবারের লোকজন তাতে আপত্তি জানান। হাসপাতালের ডাক্তারদেরও বিষয়টি জানান। কিন্তু, শেষ পর্যন্ত মদ্যপ গাড়ি চালকের গড়িতেই তাঁদের শক্তিনগর পাঠানো হয়। কৃষ্ণনগরে ফেরার পথে অ্যাম্বুলেন্স চালক ফের মদ খেতে চায়। কিন্তু, রোগীর বাড়ির লোকজন তাতে আপত্তি জানান। ওইদিন রাতেই নাকাশিপাড়ার বেথুয়াডহরির কাছে একটি মোটরবাইকে ধাক্কা মারে অ্যাম্বুলেন্সটি। তাতে দু’জন জখম হয়। বুধবার রোগীর আত্মীয় ও গ্রামবাসীরা কালীগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে আসেন। তাঁরা বিএমওএইচের কাছে ওই মদ্যপ অ্যাম্বুলেন্স চালককে সারানোর দাবি জানান। পাশাপাশি অফিসের সমানে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। পরে পুলিস পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
রোগীর পরিবারের এক সদস্য গুলফান বিবি বলেন, আমার ভাইঝিকে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। এক মদ্যপ অ্যাম্বুলেন্স চালক ওকে নিয়ে যায়। আমরা বলেছিলাম ভালো অ্যাম্বুলেন্স চালক দিতে। কিন্তু, ওরা ওই মদ্যপ চালককে দিয়েই অ্যাম্বুলেন্সে আমাদের হাসপাতালে পাঠায়। তার প্রতিবাদে আমরা কালীগঞ্জ হাসপাতালে এসেছিলাম।
কালীগঞ্জের বিএমওএইচ তিমিরকান্ত ভদ্র বলেন, কোন চালক অ্যাম্বুলেন্স চালাবে তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমাদের এখানে অনেক ১০২ অ্যাম্বুলেন্স থাকে। তবু আমরা বিষয়টা খতিয়ে দেখব।